বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৪৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কইমাছ
কংক্রিট

 কইমাছ মিষ্ট জলের মাছ; ইহারা সাধারণতঃ জলজ উদ্ভিদপূর্ণ, অগভীর ও বদ্ধ জলাশয়ে বাস করে। মশার বাচ্চা, কীট-পতঙ্গ, শ্যাওলা ইত্যাদি ইহাদের খাদ্য। বর্ষাকাল ইহাদের ডিম পাড়িবার সময়। প্রবল বর্ষণের পর জলধারা যখন উচ্চ স্থান হইতে নিম্নে গড়াইয়া পড়িতে থাকে, তখন সেই ধারা অনুসরণ করিয়া নূতন জলাশয়ের সন্ধানে ইহারা কখনও কখনও ডাঙায় উঠিয়া পড়ে ও কাত হইয়া কান্‌কোর সাহায্যে ডাঙার উপর দিয়া দীর্ঘ পথ অতিক্রম করিয়া থাকে। এমন কি, সময়ে সময়ে কান্‌কোর সাহায্যে হেলানো গাছের গুঁড়ির উপরেও উঠিয়া পড়ে। কইমাছের জীবনীশক্তি প্রচুর। কর্দমাক্ত ঘোলা জলে কোনও খাদ্য গ্রহণ না করিয়াও ইহারা বহু দিন বাঁচিয়া থাকে।

 কইমাছ সাধারণতঃ ১০-১২ সেণ্টিমিটার (৪-৫ ইঞ্চি) লম্বা হয়। ইহাদের সর্ব শরীর ছোট ছোট শক্ত আঁশে ঢাকা; পিঠের দিক সবুজাভ কাল্‌চে রঙের, পেটের দিক হরিদ্রাভ। কইমাছের লেজের পাখনা গোলাকার, রুই-কাতলার লেজের পাখনার মত দ্বিখণ্ডিত নহে। মাথার নিকট হইতে প্রায় লেজ পর্যন্ত পিঠের উপর এবং পেটের নীচে পিছনের দিকে একটানা লম্বা পাখনা আছে; এই উভয় পাখনারই শেষের দিকটা দেখিতে লেজের পাখনার মত এবং এই পাখনা দুইটির শক্ত ও সূক্ষ্মাগ্র কাঁটাগুলি ইহারা ইচ্ছামত খাড়া করিতে বা পিছনের দিকে মুড়িয়া রাখিতে পারে।

 মাথার সামনের দিকে নাকের ছিদ্র দুইটি পরিষ্কার দেখা যায়। ইহাদের মুখের সামনে ছোট ছোট কতকগুলি ধারালো দাঁত আছে। উপরের ঠোঁটের বাহিরের দিকে দুই পাশে সূক্ষ্মাগ্র বঁড়শির মত বাঁকানো দুইটি কাঁটা থাকে। উত্তেজিত হইলেই ইহারা কাটা দুইটিকে প্রসারিত করিয়া শত্রুর গায়ে ফুটাইয়া দেয়। অধিকাংশ মাছের মতই কইমাছও ডাঙায় উঠিলে দেখিতে পায় না।

 কইমাছ কান্‌কো দুইটিকে ইচ্ছামত খুলিতে বা বন্ধ করিয়া রাখিতে পারে। কান্‌কোর ধারে কতকগুলি ধারালো কাঁটা থাকে। কান্‌কোটি তুলিলেই তাহার নীচে চিরুনির মত লাল রঙের ফুল্‌কা দেখা যায়; এই ফুল্‌কার সাহায্যেই কইমাছ জলের নীচে শ্বাসকার্য চালায়। কিন্তু বাহিরের বাতাসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালাইবার জন্য ইহাদের মস্তকের উভয় পার্শ্বে ফুল্‌কার উপরের দিকে লাল রঙের ক্ষুদ্র পুষ্পগুচ্ছের মত আকৃতির অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকে; এই অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র আছে বলিয়াই কইমাছ জলের বাহিরে বেশ কিছুক্ষণ বাঁচিয়া থাকিতে পারে।

দ্র F. Day, The Fauna of British India, including Ceylon and Burma: Fishes, vol. II, London, 1889.

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য

কংক্রিট চুন অথবা সিমেণ্টের মশলায় মিশ্রিত পাথরকুচি, ইটের খোয়া, মারুত চুল্লি (ব্লাস্ট ফার্‌নেস)-নির্গত ধাতুমলচূর্ণ (স্ল্যাগ) প্রভৃতি কঠিন পদার্থ জমাট বাঁধিয়া শক্ত হইলে তাহাকে কংক্রিট বলে। পোর্টল্যাণ্ড সিমেণ্টের ব্যবহার শুরু হইবার পূর্বে আমাদের দেশে চুনা-কংক্রিট ব্যবহৃত হইত। শক্ত এঁটেল মাটির সহিত কিছু গোবর, চুন এবং বোতলভাঙা, খোয়া প্রভৃতি মিশাইয়া মাটির কংক্রিটের দেয়াল তৈয়ারি করিবার রীতি প্রচলিত আছে। চুনা-কংক্রিটের মশলা প্রস্তুত করা হয় চুনের সহিত সুরকি, বালি অথবা বয়লারের ছাই মিশাইয়া। সিমেণ্টের বেলায় শুধু বালি অথবা পাথরগুঁড়া ব্যবহার করা হয়। পোর্টল্যাণ্ড সিমেণ্ট সহজলভ্য হওয়ায় অধুনা সর্বত্র সিমেণ্ট-কংক্রিটই ব্যবহৃত হইতেছে। সিমেণ্ট-কংক্রিট চুনা-কংক্রিটের তুলনায় অনেক দ্রুত জমাট বাঁধে। এক মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ভার বহনের ক্ষমতা অর্জন করে। বৎসরকালের মধ্যে শক্তি দ্বিগুণ হইয়া তাহার পরেও বৃদ্ধি পাইতে থাকে।

 সচরাচর চুনা পাথর পোড়াইয়া যে চুন হয়, তাহাকে পাথুরে চুন (CaO) বলে। সেই পাথুরে চুন (unslaked lime) জল দিয়া ফাটাইলে দুই-তিনগুণ আয়তনে বৃদ্ধি পাইয়া গুঁড়া চুন (slaked lime—CaO) হয়। এই চুনের সহিত সুরকি মিশাইয়া চুন-সুরকির মশলা তৈয়ারি হয়। কিন্তু পশ্চিম বঙ্গের উচ্চতর অংশে একরূপ কাঁকর পাওয়া যায়, যাহার সহিত রাসায়নিকভাবে মৃত্তিকা (alumina, silica) মিশ্রিত আছে। এই কাঁকর-পোড়ানো চুনে সুরকি মিশাইতে নাই। জলের নীচে ভিত্তির কাজে, ঘাট বাঁধানোর কাজে এবং ছাদ পিটাইতে এই চুনের ব্যবহার হইত।

 উৎকৃষ্ট সিমেণ্ট-কংক্রিট তৈয়ারি করিতে ভাঙা পাথর (granite, gneiss, trap, quartzite) অথবা নুড়ি (gravel) ব্যবহার করাই প্রশস্ত। ভাঙা পাথরের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ বালি ব্যবহৃত হয়। ব্যবহারের ক্ষেত্র অনুযায়ী সিমেণ্টের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। পূর্ণশক্তি পাইতে হইলে সিমেণ্ট লাগে বালির মাপের প্রায় অর্ধেক। জলের পরিমাণ নির্ভর করে বায়ুর আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার উপর। সিমেণ্টের ওজনের শতকরা ৪০-৫০ ভাগ জল

 ভা ২॥১৭
১২৯