বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কংক্রিট
কংগ্রেস

মিশাইলে বেশ ভাল কংক্রিট হয়। জল-নিরোধক কংক্রিটের জন্য সিমেণ্টের পরিমাণ বৃদ্ধি করাও হয়। কিন্তু বালির সহিত সমপরিমাণের চেয়ে বেশি সিমেণ্ট ব্যবহার করা ক্ষতিকর হইতে পারে। সাধারণ চুনা-কংক্রিট বা চুনা-মশলার পরিবর্তে যখন সিমেণ্ট ব্যবহার করা হয় তখন তাহার পরিমাণ বালির চতুর্থাংশ হইতে ষষ্ঠাংশ অথবা অষ্টমাংশও করা হইয়া থাকে।

 কংক্রিট যতটা চাপ বহন করিতে পারে, সে পরিমাণে টান (টেন্‌শন) সহ্য করিতে পারে না। টান-সহ করিবার জন্য লোহার ছড় প্রভৃতি রাখিয়া কংক্রিট ঢালাই করা হয়। ইহাকেই রিইন্‌ফোস্‌ড কংক্রিট বলে। ১৯০০ খ্রীষ্টাব্দ হইতেই রিইন্‌ফোস্‌ড কংক্রিটের বিশেষ প্রচলন শুরু হইয়াছে। ফ্রান্সের এনেবিক (Hennebique) এই সময়ে ইহার পেটেণ্ট লইয়াছিলেন। অবশ্য ইতিপূর্বে ১৮৬১ খ্রীষ্টাব্দেই পারী শহরের মোয়ানের (Moiner) উহার পেটেণ্ট লইয়া বাগানের টব প্রভৃতি তৈয়ারি করিয়াছিলেন। ১৯২০ খ্রীষ্টাব্দের পরে ফ্রান্সের ফ্রেসিনে (Freyssiner) প্রিস্ট্রেস্‌ড কংক্রিট চালু করেন। রিইন্‌ফোস্‌ড কংক্রিটে উচ্চতর টান সহিবার মত ইস্পাত ব্যবহার করিলে যে অত্যধিক টান পড়ে, তাহার ফলে সন্নিহিত কংক্রিটে ফাটল ধরিতে পারে। পূর্বাহ্ণে কংক্রিটে চাপ সৃষ্টি করিয়া এই ফাটল ধরা প্রতিরোধ করা যায়। ইহাই রিইন্‌ফোস্‌ড কংক্রিটের এক আধুনিক সংস্করণ—প্রিস্ট্রেস্‌ড কংক্রিট। এই কংক্রিট প্রস্তুত করিবার সময় ইস্পাতের তার বা ছড়ে যন্ত্রসাহায্যে টান সৃষ্টি করিয়া রাখিয়া সিমেণ্ট-কংক্রিট ঢালাই করা হয়। কংক্রিট কয়েকদিন জমিয়া যথাযথ শক্ত হইলে ইস্পাতের টান ধীরে ধীরে ছাড়িয়া দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত ব্যবহারের পূর্বেই সন্নিহিত কংক্রিটে চাপ (কম্‌প্রেশন) সৃষ্টি করা হয় ও পরে এই কংক্রিটে ফাটল ধরিতে পারে না। অনেক কম পরিমাণ লৌহ-ইস্পাতের ব্যবহার করিয়া দৃঢ়তর কংক্রিট হয় প্রিস্ট্রেস্‌ড পদ্ধতিতে।

 কংক্রিটের অসুবিধা হইতেছে, সকল রকম আবহাওয়ায় ইহা দিয়া নির্মাণকাজ চালানো যায় না। তবে কারখানায় প্রিকাস্ট কংক্রিট প্রস্তুত করিয়া যথাস্থানে সন্নিবেশ করার প্রথা চালু হওয়ায় ঐ সব অসুবিধা অনেকাংশে দূর হইয়াছে। ডক ও পোতাশ্রয়, নদীর বাঁধ, আলোকস্তম্ভ, অট্টালিকা, সেতু, রাজপথ, ফুটপাথ, শস্যাগার হইতে আরম্ভ করিয়া মোজাইক মেঝে, বাগানের বেঞ্চ, এমন কি মালবাহী নৌকা পর্যন্ত কংক্রিট, রিইন্‌ফোস্‌ড কংক্রিট, প্রিস্ট্রেস্‌ড কংক্রিটে তৈয়ারি হইতেছে।

দ্র G. A. Hool & W S. Kinne, ed., 'Reinforced Concrete and Masonry Structures, New York, 1944; E. E. Bauer, Plain Concrete, New York, 1949; A. E. Komendant, Prestressed Concrete Structures, New York, 1952.

কপিল ভট্টাচার্য

কংগ্রেস ব্রিটিশ যুগের ভারতবর্ষের ইতিহাসে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এমন একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করিয়া আছে যে ‘কংগ্রেস’ অর্থাৎ ইংরেজী ‘সম্মিলন’সূচক এই সাধারণ শব্দটি কেবল ইহাকেই সূচিত করে।

 কংগ্রেসের উৎপত্তি সম্বন্ধে নানা মত প্রচলিত আছে। ইংরেজ আই. সি. এস. অ্যালান অক্‌টেভিয়ান হিউম (১৮২৯-১৯১২ খ্রী) কংগ্রেসের জনক—ইহাই সাধারণ ও প্রচলিত মত। ১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের উদ্দেশ্যে রচিত একখানি সুদীর্ঘ পত্রে তিনি তাহাদিগকে স্বদেশের উন্নতির জন্য আত্মোৎসর্গ করিতে আহ্বান করেন। এই আহ্বানে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ হইতে অনেকেই সাড়া দেন, এবং হিউম তাঁহাদের সহযোগিতায় ইণ্ডিয়ান ন্যাশন্যাল ইউনিয়ন (ভারতের সমবায়) নামে একটি সমিতি গঠন করেন। এই সমিতির পক্ষ হইতেই এক জাতীয় সম্মিলনে যোগদান করার আহ্বান জানাইয়া বহু লোকের নিকট একটি আমন্ত্রণলিপি পাঠানো হয়। রাজনীতিক উন্নতিসাধন যে এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য তাহা এই পত্রে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত ছিল।

 কংগ্রেস গঠনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে হিউম বলিয়াছেন, তিনি গোপনে বিশ্বস্তসূত্রে জানিতে পারিয়াছিলেন যে ইংরেজরাজের বিরুদ্ধে ভারতে একটি বিপ্লবের ষড়যন্ত্র চলিতেছে। যাহাতে শিক্ষিত ভারতবাসীগণ উহার সহিত যোগ না দেন, এই উদ্দেশ্যেই তিনি কংগ্রেসের কল্পনা করেন। হিউমের ভাষায় কংগ্রেস একটি ‘সেফটি ভ্যাল্‌ভ’ অর্থাৎ ধ্বংসাত্মক শক্তির প্রতিরোধক যন্ত্ররূপে কল্পিত হইয়াছিল।

 হিউম ও তাঁহার সহকর্মীগণ কোথা হইতে কংগ্রেস গঠনের আদর্শ ও প্রেরণা পাইলেন তদ্‌বিষয়ে মতান্তর আছে। কাহারও কাহারও মতে ১৮৭৭ খ্রীষ্টাব্দের দিল্লী দরবার হইতে অথবা ১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতায় গভর্নমেণ্ট যে বিরাট প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান করেন, তাহা হইতেই নিখিল ভারতীয় প্রতিনিধি লইয়া একটি রাজনৈতিক সম্মিলনের কল্পনা হয়। অ্যানি বেসাণ্ট বলেন যে ১৮৮৪ খ্রীষ্টাব্দে মাদ্রাজে যে থিওসফিক্যাল কনভেনশন হয় তাহারই ১৭ জন সভ্য প্রথমে কংগ্রেসের পরিকল্পনা করেন।

১৩০