ধান উৎপন্ন হয়। পার্শ্বস্থ পার্বত্য ঢাল ঘনজঙ্গলাকীর্ণ। নদী-উপত্যকায় বাধ দিয়া জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হইতেছে।
কর্ণরোগ বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণে ভিন্ন ভিন্ন রোগ হয়। বহিঃকর্ণের রোগের মধ্যে জন্মগত কুগঠনের ফলে নিশ্ছিদ্রতা, কর্ণমল (খোল) বসিয়া যাওয়া, প্রদাহ, বিস্ফোটক ও টিউমার, কর্ণপটহে ছিদ্র হওয়া প্রভৃতি; মধ্যকর্ণের রোগের মধ্যে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির প্রদাহ (ওটাইটিস মিডিয়া) ও অস্থির প্রদাহ (ম্যাস্টয়েডাইটিস); এবং অন্তঃকর্ণের রোগের মধ্যে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির প্রদাহ (ল্যাবিরিঙ্কাইটিস) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। অনেক সময় ব্যাধিগ্রস্ত গলবিল, নাসিকা ও টনসিল হইতে কর্ণরোগের উৎপত্তি হইতে পারে। এতদ্ব্যতীত অসাবধানতাবশতঃ কর্ণে কীট-পতঙ্গ, কাচ বা পাথরের টুকরা প্রভৃতি প্রবেশ করিয়াও কর্ণরোগ সৃষ্টি করিতে পারে। কর্ণরোগের ফলে মাথা ধরা ও মাথা ঘোরা, কানে বেদনা ও পুঁজ হওয়া, জর, বধিরত্ব, দেহের ভারসাম্যে অসুবিধা, অস্থিগোলকের পেশীসমূহের অস্বাভাবিক চাঞ্চল্য (নিস্ট্যাগ্মাস) প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়।
বিশ্রাম, কর্ণে উত্তাপ প্রদান, কর্ণগহ্বরে বেদনানিবারক তরল বা চূর্ণ ঔষধ প্রদান, বহির্বস্তু প্রবেশ করিয়া থাকিলে তাহা বাহির করিয়া কর্ণগহ্বর ধৌত করা এবং অ্যাণ্টিবায়োটিক ও সালফা বর্গীয় ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা সাধারণতঃ প্রচলিত। ওটাইটিস মিডিয়া ও ম্যাস্টয়েডাইটিস রোগে যথাক্রমে কর্ণপটহে এবং ম্যাস্টয়েডে অস্ত্রোপচার করাও হয়।
দ্র J. P. Stewart & R. B. Lumsden, Logan Turner’s Diseases of the Nose, Throat and Ear, Bristol, 1961.
এই নগর ও ইহার সন্নিকটস্থ স্থানগুলির অবস্থান সম্বন্ধে অনেক গবেষণামূলক আলোচনা সত্ত্বেও বহুকাল পর্যন্ত পণ্ডিতগণ সঠিক কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হইতে পারেন নাই। ১৮৯৩ খ্রীষ্টাব্দে লেয়ার্ড-এর প্রস্তাব সমর্থন করিয়া বেভারিজ মুর্শিদাবাদ জেলার ভাগীরথী তীরবর্তী রাঙামাটি গ্রামাঞ্চলে কর্ণসুবর্ণের অবস্থিতি অনুমান করেন। কিন্তু ইহার সমর্থক কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। ১৯৬২ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পূর্ব রেলওয়ের ব্যাণ্ডেল-বারহাওয়া লাইনের চিরুটি রেল স্টেশনের নিকটবর্তী রাজবাড়ি ভাঙা নামে একটি ঈষৎ উচ্চ মাটির ঢিবি খনন করিতে আরম্ভ করেন। এই খননের ফলে এই স্থানেই যে রক্তমৃত্তিকা বিহার ছিল তাহা প্রমাণিত হইয়াছে। চিরুটি স্টেশন হাওড়া হইতে ১৯২ কিলোমিটার দূরে।
এই প্রত্নস্থলে অনুভূমিক ও ঊর্ধ্ব-অধঃ খাদবিন্যাস করিয়া প্রাকৃতিক মৃত্তিকা পর্যন্ত উৎখননের ফলে আমুক্রমিক ছয়টি বিভিন্ন পর্যায়ের অতি মনোরম সৌধমালা বা গৃহাদির ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হইয়াছে। প্রাচীনতম প্রথম পর্যায়ের সৌধমালা প্রাচীরবেষ্টনী দ্বারা সুরক্ষিত ছিল কিন্তু ভাগীরথীর প্লাবনের ফলে তাহা বিধ্বস্ত হইয়া যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ের সৌধশ্রেণী বন্যা বাহিত পলিমাটির উপর গঠিত। এই পর্যায়ের দেওয়ালের ভিতে একটি নরমুণ্ড পাওয়া গিয়াছে। সৌধ নির্মাণের সহিত জড়িত নরবলিপ্রথার ইহা একটি প্রকৃষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ইহাদের মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ের সৌধশ্রেণী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রশস্ত প্রাঙ্গণ, সোপান এবং তৎসংলগ্ন গোলাকার স্তূপভিত্তি প্রভৃতি একটি বৌদ্ধ বিহারের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের বেষ্টনী প্রাচীর ও ইহার চতুষ্কোণে সুসজ্জিত ইষ্টক-নির্মিত সমকৌণিক চারিটি বেদি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ষষ্ঠ পর্যায়ের সৌধ-নিদর্শনের মধ্যে একটি গোলাকার বৃহৎ স্তূপের ভিত্তি এবং চুনের পলস্তারাযুক্ত সমকৌণিক বেদি পাওয়া গিয়াছে। প্রাপ্ত প্রস্তরগুলির নির্ণীত কাল এইরূপ: ১. লেখসংবলিত পোড়ামাটির সীলমোহরগুলি ষষ্ঠ হইতে নবম শতকের; ২. স্টাকো মুণ্ডটি গুপ্ত যুগের পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতকের; ৩. পোড়ামাটির মূর্তি ও মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ—প্রাক্-গুপ্ত, গুপ্ত এবং পরবর্তী যুগের;১৯৪