বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২৩৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
কলেজ

এই দানের সহিত সরকারি সাহায্য ২ লক্ষ টাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল হইতে সংগৃহীত ২ লক্ষ টাকা মিলাইয়া দ্বারভাঙা ভবন নির্মিত হয়। গভর্নমেণ্ট আইন কলেজের জন্য হার্ডিঞ্জ হস্টেল নির্মাণকল্পে ৩ লক্ষ এবং ১৯১২ সালে অপর একটি ভবনের জন্য ৮ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেন। ইহা হইতে পরবর্তী কালে আশুতোষ ভবন নির্মিত হয়। তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের বদান্যতায় বালিগঞ্জে এবং গড়পারে বিজ্ঞানমন্দির স্থাপন করা সম্ভব হইয়াছে। ইহাদের দানের মোট পরিমাণ যথাক্রমে ১৩৬৪৫৭০ (ভূ-সম্পত্তি ছাড়া) এবং ২৪৫০৯০০ টাকা ছিল। সেই অর্থ হইতে কয়েকটি অধ্যাপক পদের সৃষ্টি ভিন্ন গৃহনির্মাণকার্যও সম্ভব হইয়াছিল। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারত সরকারের অর্থানুকুল্যে প্রাচীন সেনেট ভবনটি ভাঙিয়া ১০ তলা উচ্চ নূতন শতাব্দী-ভবন নির্মিত হইয়াছে (১৯৬৫ খ্রী)। ইহার উপরতলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার এবং অনেকগুলি অফিস স্থানান্তরিত হইবে।

 ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দের কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুসারে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোর মূল দুইটি সংস্থা হইল সেনেট এবং সিণ্ডিকেট। তাহা ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলি হইল ফিন্যান্স কমিটি, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, বোর্ডস অফ স্টাডিজ়, বোর্ড অফ হেল্‌থ, বোর্ড অফ রেসিডেন্স অ্যাণ্ড ডিসিপ্লিন। সেনেটের সদস্যসংখ্যা হইল ১৫৬ জন এবং এই সংস্থাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কার্যনির্বাহক ক্ষমতার অধিকারী। সিণ্ডিকেট অর্ডিন্যান্স প্রণয়ন, পরিবর্তন ও নাকচ করিতে পারে। এই বিষয়ে সেনেটের যদি কোনও নির্দেশ থাকে তবে তাহা সিণ্ডিকেটের পক্ষে অবশ্যপালনীয়। সিণ্ডিকেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যগুলির অন্যতম হইল পরীক্ষা গ্রহণ, কলেজ অনুমোদন, অধ্যাপক ও পরীক্ষক নিয়োগ, দান গ্রহণ, বৃত্তি প্রদান প্রভৃতি। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের কার্য হইল বিধি প্রণয়ন, পরিবর্তন ও নাকচ করা, শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে সেনেট ও সিণ্ডিকেটকে পরামর্শ দান, ফ্যাকাল্‌টি গঠন প্রভৃতি।

 নূতন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট (১৯৬৫ খ্রী) অনুসারে পুরাতন কাঠামো কিয়দংশে পরিবর্তন করা হইয়াছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্য হইল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, সরকার কর্তৃক অধিকতর দায়িত্ব গ্রহণ এবং স্পন্‌সর্ড কলেজগুলিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষ কর্তৃত্বের বহির্ভূত রাখা। তাহা ছাড়া প্রস্তাবিত আইন অনুসারে সেনেটের স্থলে সিণ্ডিকেট হইবে বিশ্ব
বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কার্যনির্বাহক ক্ষমতার অধিকারী। সিণ্ডিকেটের কার্য সমালোচনা করিবার অধিকার অবশ্য সেনেটের থাকিবে। নূতন আইনে দুইটি উপ-উপাচার্যের (প্রো-ভাইস-চান্সেলর) পদ সৃষ্টি করা হইয়াছে। একজন সংস্থার পরিচালনা এবং অপর জন শিক্ষাব্যবস্থা বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত থাকিয়া উপাচার্যের সহায়তা করিবেন।

 ১৯৬৫ খ্রীষ্টাব্দের হিসাব অনুযায়ী কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট অনুমোদিত কলেজের সংখ্যা ১৬৩ এবং কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে মোট ছাত্রসংখ্যা ১১৯০৪৪। ১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিজস্ব গ্রন্থাগার স্থাপনের উদ্দেশ্যে সিণ্ডিকেট ৫০০০ টাকা মঞ্জুর করেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রায় ৩.৫ লক্ষ বই আছে; সংগৃহীত পুথির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসেরও সূচনা হয়। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখযোগ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ভবনের কোনও কোনও গ্রন্থের লভ্যাংশ হইতে একাধিক অধ্যাপক পদের সৃষ্টি হয়। ‘আশুতোষ মিউজিয়াম’ দ্র।

দ্র Hundred Years of the University of Calcutta: A History of the University issued in Commemoration of the Centenary Celebrations, Calcutta, 1957.

কলিঙ্গ ওড়িশা দ্র

কলিযুগ যুগ দ্র

কলেজ শব্দটি লাতিন ভাষার কল্লেগিউম শব্দ হইতে উদ্ভূত। কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য অন্যূন তিনজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হইলে সেই সংঘকে লাতিনে কল্পেগিউম বলা হইত। মধ্যযুগে ইওরোপে বণিকসংঘ, ধর্মীয় সংঘ ইত্যাদিও কলেজ নামে অভিহিত হইত। যেমন ‘কলেজ অফ কার্ডিনাল্‌স’। নির্বাচন ব্যাপারে ‘ইলেক্‌টোরাল কলেজ’ কথাটিও ইংরেজী ভাষায় প্রচলিত। আমেরিকায় কোনও কোনও ছাত্রাবাসকে কলেজ বলা হয়। ভারতবর্ষে সাধারণত: মাধ্যমিক শিক্ষার পরবর্তী স্তরের শিক্ষার জন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কলেজ বলা হয়। যথোপযুক্ত জমি, গৃহ, আসবাবপত্র, গ্রন্থাগার, আর্থিক সংগতি, পরিচালক সমিতির গঠন ইত্যাদি বিষয়ে কলেজ ইন্সপেক্টারের নিকট হইতে সন্তোষজনক সুপারিশ পাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কোনও প্রস্তাবিত কলেজকে অনুমোদন দান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়

২১৮