কর্তৃক অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রত্যেক কলেজের জন্য একটি পরিচালক-সমিতি (গভর্নিং বডি) গঠন করিতে হয়। পূর্বে বিজ্ঞান, মানবিকীবিদ্যা এবং বাণিজ্যবিদ্যা বিষয়ে স্নাতক হইতে হইলে প্রবেশিকা পরীক্ষার পর চার বৎসর কলেজে পড়িতে হইত। প্রথম দুই বৎসর শিক্ষালাভের পর বিশ্ববিদ্যালয়-বিহিত ইণ্টারমিডিয়েট বা মধ্য পরীক্ষায় পাশ করিতে হইত। অনেক কলেজ ছিল যেখানে এই মধ্য পরীক্ষার স্তর পর্যন্তই পড়ানো হইত। মধ্য পরীক্ষার পর আবার দুই বৎসর শিক্ষান্তে ব্যাচেলর্স ডিগ্রির জন্য পরীক্ষা দিয়া স্নাতক হইতে হইত। মুদালিয়র কমিশন-এর সুপারিশের ভিত্তিতে সমগ্র ভারতবর্ষে একই ধরনের উচ্চতর মাধ্যমিক (একাদশ শ্রেণী) শিক্ষাব্যবস্থা ও কলেজে ত্রি-বার্ষিক ডিগ্রি পাঠ্যক্রমের পরিকল্পনা গৃহীত হইয়াছে। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (১৯৫৬-৬১ খ্রী) সময় হইতে প্রচলিত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিকে ক্রমে ক্রমে একাদশ শ্রেণীতে রূপান্তরিত করিবার কাজ শুরু হইয়াছে। এই পরিকল্পনায় কলেজ স্তর হইতে এক বৎসরের শিক্ষাক্রম মাধ্যমিক স্তরের সহিত যুক্ত করিয়া একাদশবর্ষব্যাপী মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হইয়াছে। সমস্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করা এখনও সম্ভব হয় নাই। এইসব বিদ্যালয় হইতে উত্তীর্ণ ছাত্রদের ত্রি-বার্ষিক স্নাতকশ্রেণীতে প্রবেশের যোগ্যতালাভের জন্য একাদশশ্রেণীর পরিবর্তে কলেজে প্রাক্-বিশ্ববিদ্যালয় (প্রি-ইউনিভার্সিটি) শ্রেণীতে পড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়-বিহিত পরীক্ষায় পাশ করিতে হয়।
স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও কলেজ শব্দ প্রযুক্ত হয়। যেমন, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ইউনিভার্সিটি আর্টস কলেজ, ইউনিভার্সিটি সায়েন্স কলেজ, ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ টেকনোলজি ইত্যাদি। অন্যান্য বিষয়ের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও কলেজ নামে অভিহিত হয়, যেমন, মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
ঊনবিংশ শতাব্দী হইতে ভারতবর্ষে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের সূত্রে কলেজের প্রচলন শুরু হয়। ‘কলেজ’ নাম-সমন্বিত প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০ খ্রী) প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল ইংরেজ রাজকর্মচারীদের এদেশীয় ভাষা ও ব্যবহারবিধি শিক্ষাদানের জন্য। ইহার পর দেশীয় ছাত্রদের পাশ্চাত্ত্য জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষাদানের জন্য ১৮১৭ খ্রীষ্টাব্দে হিন্দু কলেজ স্থাপিত হয়। সংস্কৃতচর্চার উদ্দেশ্যে ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় সংস্কৃত কলেজ। মহিলাদের জন্য উচ্চ শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান বেথুন কলেজকলেরা একটি সংক্রামক ব্যাধি। ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই রোগ মহামারী রূপে হইয়া থাকে। সাধারণতঃ বর্ষার সময়েই ইহার প্রাদুর্ভাব হয়।
ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) নামক জীবাণুর আক্রমণই কলেরা রোগের কারণ। ১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দে রোবের্ট কোখ্ মিশরে এই জীবাণু আবিষ্কার করেন। দূষিত জল ও খাদ্য হইতেই ইহা মানবদেহে সংক্রামিত হয়। সংক্রমণের দুই-এক দিনের মধ্যেই রোগের উপসর্গ প্রকাশ পায়। রোগী চাল ধোওয়া জলের মত তরল মল ত্যাগ করিতে থাকে ও বমি হয়, কিন্তু পেটে কোনও ব্যথা থাকে না। ক্রমে শরীরে লবণ ও জলের অভাব ঘটে, পেশীসমূহে খিল ধরে, রক্তচাপ কমিয়া যায়, নাড়ি ক্ষীণ হয়, দেহের উত্তাপ হ্রাস পায়, রোগী জ্ঞান হারাইতে পারে এবং জলের অভাবে প্রস্রাব বন্ধ হইয়া ইউরিমিয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। দেহে জল ও অজৈব লবণের অভাব এবং ইউরিমিয়ার জন্য রোগীর মৃত্যু ঘটিতে পারে। রোগীর শিরায় লবণজল প্রবেশ করাইয়া দেহে লবণ ও জলের অভাব দূর করিবার চেষ্টা করা হয়। রোগের জটিলতা নিবারণ করিতে সালফাবগীয় ঔষধ এবং অ্যাণ্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। কলেরা প্রতিরোধের জন্য রোগপ্রতিষেধক টিকা, বিশুদ্ধ জল সরবরাহ, উন্মুক্ত খাদ্যের বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি ব্যবস্থা গ্রহণ কর্তব্য।
দ্র J. C. Banerjea & P. B. Bhattacharya, A Handbook of Tropical Diseases, Calcutta, 1952.
কল্কি মহাভারতে এবং বিষ্ণু, ভাগবত, গরুড়, কল্কি প্রভৃতি বিভিন্ন পুরাণে কল্কির কাহিনী আছে। কল্কিপুরাণে ঐ কাহিনী অতীত কালের ঘটনা হিসাবে এবং অন্যত্র ভবিষ্যৎ কালের ঘটনারূপে বর্ণিত হইয়াছে।
ভগবান বিষ্ণুর দশম বা শেষ অবতার কল্কি। যখন কলির শেষে পৃথিবী ম্লেচ্ছপূর্ণ হইবে, সমুদয় মানব একবর্ণ
২১৯