বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
একক ক্ষেত্রতত্ত্ব
এককোষী প্রাণী

ক্ষেত্রতত্ত্বকে কণাতম পদার্থবিদ্যার নিয়মাবলীরও আধার হইতে হইবে। কারণ মৌলিক কণাসমূহের আচরণবিধির ব্যাখ্যা আজ আর কণাতমবাদ ছাড়া সম্ভব নয়।

 এই রকম নির্ধারণমূলক কোনও তত্ত্বের সম্ভাবনা সম্বন্ধে পদার্থবিদ্‌রা কোনদিনই একমত ছিলেন না। মাত্র অল্প কয়েক জন বিজ্ঞানীসহ আইনস্টাইন এই রকম তত্ত্বের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতা সম্বন্ধে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করিতেন। তিনি তাঁহার পদার্থবিদ্যাকে জ্যামিতিকরণের মাধ্যমে শুধুমাত্র মহাকর্ষ- ও তড়িৎ-চৌম্বক ক্ষেত্রের সমস্যা সমাধানের কথাই কল্পনা করেন নাই। তাঁহার বদ্ধমূল বিশ্বাস ছিল যে তাঁহার এই প্রচেষ্টা অন্যান্য মৌলিক কণার আচরণবিধিরও বিশদ ব্যাখ্যা দান করিবে। আইনস্টাইনের সমকালীন পদার্থবিদ্‌রা সাধারণতঃ তাঁহার বিরুদ্ধ মতই পোষণ করিতেন। বর্তমান কালেও প্রায় সব পদার্থবিদ্‌ই আইনস্টাইনের বিপরীত মতের সমর্থক। আইনস্টাইনের সঙ্গে তাঁহাদের আসল মতদ্বৈধ পন্থা লইয়া, লক্ষ্য লইয়া নহে। কণাতমবাদের বিজয় অভিযানের পর তাঁহারা স্বভাবতঃই প্রাক্-কণাতম যুগের নির্ধারণবাদী তত্ত্বে কোনও প্রকার আস্থা রাখিতে অস্বীকার করেন।

 খ্যাতনামা পদার্থবিদ নীলস বোরভোল্‌ফগাংগ্‌ পাউলি এই বিরুদ্ধ মতাবলম্বীদের নেতৃত্ব করিয়াছেন। প্রথিতযশা বৈজ্ঞানিক, যথা মাক্‌স্ বোর্ন, ভার্নার হাইজেনবার্গ ইত্যাদি শেষোক্ত মতাবলম্বী। তবে কিছুকাল হইল হাইজেনবার্গ কণাতম পদার্থবিদ্যায় এক নূতন প্রচেষ্টায় ব্যাপৃত আছেন। প্রচলিত তত্ত্বে ভিন্ন ভিন্ন মৌলিক কণা ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র নির্ধারিত করে। আর মৌলিক কণাসমূহের সংখ্যাও অল্প নহে। তাই আইনস্টাইনের অনুসরণ করিয়া হাইজেনবার্গ চেষ্টা করিতেছেন যাহাতে এই বিভিন্ন ক্ষেত্রসমূহকে একক ক্ষেত্র দিয়া স্থানচ্যুত করা যায়। সেখানে অবশ্য মহাকর্যতত্ত্বের কোনও স্থান এখনও হয় নাই। সত্য সত্যই দুরূহ্ এক কাজে হাইজেনবার্গ ও তাঁহার সহকর্মীগণ আজ লিপ্ত আছেন। তবে তাঁহাদের প্রচেষ্টাকে বিন্দুমাত্র ছোট না করিয়াও বলা যায় যে, আইনস্টাইনের মত হাইজেনবার্গের প্রচেষ্টাও এখন পর্যন্ত বিশেষ সাফল্য লাভ করিতে পারে নাই। পদার্থবিদ্যার জগতে এই পরিস্থিতি আজিও বিজ্ঞানীদের অপরাজেয় জিজ্ঞাসাকে দুঃসাহসিক উদ্যমের প্ররোচনা জোগাইতেছে।

দ্র P. G. Bergmann, Introduction to the Theory of Relativity, New York, 1942; H. Weyl, Space-Time-Matter, U. S. A. 1950; E. Schrödinger, Space-Time Structure,
Cambridge, 1950; ‘Jubilee of Relativity Theory’, Helvetica Physica Acta, Supplement IV, Switzerland, 1956; M. Faraday, Diary, Royal Society, London; A Einstein, The Meaning of Relativity, London, 1960.
পূর্ণাংশু রায়

এককোষী প্রাণী এককোষী প্রাণীরা আদ্যপ্রাণী গোষ্ঠীর (ফাইলাম-প্রোটোজোয়া, Phylum-Protozoa) অন্তর্ভুক্ত। গ্রীক শব্দ
চিত্র ১: অ্যামিবা
‘প্রোটোস’ অর্থে ‘প্রথম’ ও ‘জ়ুন’ অর্থে প্রাণী বুঝায়। বিখ্যাত অ্যামিবা নামক জীব এই পর্যায়ভুক্ত। আনুমানিক ১৫৯০ খ্রীষ্টাব্দে এককোষী ‘প্রাণী’ মানুষের প্রথম দৃষ্টিগোচর হয়। ১৬৭৬ খ্রীষ্টাব্দে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের অন্যতম উন্নয়নকর্তা লেউভেনহুক সঞ্চিত বৃষ্টির জলে এককোষী প্রাণীর সন্ধান পান। বর্তমানে প্রায় ৩০০০০ বিভিন্ন প্রকার এককোষী প্রাণীর পরিচয় লিপিবদ্ধ হইয়াছে। ইহাদের মধ্যে অনেকগুলি পরজীবী অর্থাৎ অন্য প্রাণীর দেহে বাস করে।

 পুকুর, নালা, ডোবা প্রভৃতি যে কোনও বদ্ধ অগভীর জলাশয়ে ইহাদিগকে
চিত্র ২: ইউগ্লেনা
দেখিতে পাওয়া যায়। সাধারণতঃ একটিমাত্র কোষের দ্বারা ইহাদের দেহ গঠিত। কোনও কোনও ক্ষেত্রে একাধিক কোষের সম্মিলনে একটি প্রাণী-সংঘ গঠিত হইতে পারে। সাধারণতঃ কোষের আকৃতি গোলাকার হইলেও অন্য প্রকারও হইতে পারে। কোষে এক বা একাধিক প্রাণকেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস থাকে। কোষের আয়তন বেশি বড় হয় না—সাধারণতঃ

১৩