হ্যামলেট-এর ভূমিকায় অভিনয় করেন। অতঃপর প্রথমে ভ্রাম্যমাণ নাট্যসংস্থায় ও পরে এক সার্কাসের দলে যোগদান করেন। সার্কাসে অশ্বারোহণ প্রদর্শনকালে দুর্ঘটনায় তাঁহার দুই পা ভাঙিয়া যায়। ১৮০৭ খ্রীষ্টাব্দে তিনি বিখ্যাত অভিনেত্রী সারা সিডন্জ়-এর সহিত কয়েক রাত্রি অভিনয় করেন। ১৮০৮ খ্রীষ্টাব্দে ওয়াটারফর্ড-নিবাসিনী মেরি চেম্বার্স-এর সহিত তাঁহার বিবাহ হয়।
এডমণ্ডের যথার্থ জনপ্রিয়তার শুরু ১৮১৪ খ্রীষ্টাব্দে। এই বছরেই (২৬ জানুয়ারি) তিনি লণ্ডনের ডুরি লেন রঙ্গমঞ্চে শাইলক-এর ভূমিকায় অভিনয় করিয়া দর্শকদের হৃদয় জয় করিয়ালন। পরে তৃতীয় রিচার্ড, হ্যামলেট, ওথেলো, ম্যাকবেথ প্রভৃতি ভূমিকায় এবং ম্যাসিঞ্জার-রচিত ‘এ নিউ ওয়ে টু পে ওল্ড ডেট্স' নাটকে জাইজ় ওভাররীচ-এর ভূমিকায় অভিনয় করিয়া বিশেষ প্রসিদ্ধ হন। ১৮৩৩ খ্রীষ্টাব্দের ২৫ মার্চ কভেণ্ট গার্ডেন রঙ্গমঞ্চে ওথেলোর ভূমিকায় অভিনয় করিতে করিতে সংজ্ঞাহীন হইয়া পড়েন, সেই অভিনয়ে ইয়াগোর ভূমিকায় ছিলেন তাঁহার পুত্র চার্লস। ঐ বৎসরের ১৫ মে রিচমণ্ড-এ তাঁহার মৃত্যু হয়।
কীরফেল, ভিলিবাল্ড (১৮৮৫-১৯৬৪ খ্রী) পশ্চিম জার্মানির রাইফেরসাইড নামক স্থানে ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দের ২৯ জানুয়ারি জন্ম। বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন সমাপ্ত করিয়া ১৯০৪ খ্রীষ্টাব্দে তিনি বন্ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করিতে শুরু করেন এবং ১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। পরের বৎসর এই বিশ্ববিদ্যালয়েই গ্রন্থাগারিক রূপে কর্মজীবনের আরম্ভ হয়। ১৯২২ সালে অধ্যাপক হেরমান য়াকোবির স্থলাভিষিক্ত হইয়া সংস্কৃতের প্রধান অধ্যাপক পদে বৃত হন।
১৯২০ খ্রীষ্টাব্দে কীরফেল ‘দী কস্মোগ্রাফী দের্ ইণ্ডের’ (ভারতীয় সৃষ্টিতত্ত্ব) নামে গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁহার রচনাবলীর বিষয় প্রধানতঃ পুরাণ। ১৯২৭ খ্রীষ্টাব্দে তিনি ‘পুরাণ পঞ্চলক্ষণ’ এবং ১৯৫৪ খ্রীষ্টাব্দে ‘দের্ পুরাণ ফম্ ভেণ্টগেবয়ডে’ (পৌরাণিক ভুবন-সংস্থান) নামক পুস্তক রচনা করেন।
ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্র আয়ুর্বেদে কীরফেলের প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য ছিল। হিল্গেন্বের্গ-এর সহযোগিতায় ১৯৪১ খ্রীষ্টাব্দে কীরফেল বাগ্ভট রচিত ‘অষ্টাঙ্গহৃদয়’ গ্রন্থখানির একটি জার্মান সংস্করণ বাহির করেন।
তুলনামূলক ধর্ম আলোচনার ক্ষেত্রেও কীরফেল ছিলেন১৯৬১ খ্রীষ্টাব্দে কীরফেল ‘কুলটুর্ দের্ ইণ্ডের’ (ভারতবাসীর সংস্কৃতি) নামে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ ‘হাণ্ড্বুখ্ দের্ কুল্টুর গেশিষ্টে (কৃষ্টির ইতিহাসের প্রাথমিক পুস্তিকা) নামক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।
১৯৬৪ সালের অক্টোবর মাসে কীরফেলের মৃত্যু হয়।
কীর্তন ‘কীর্তন’ শব্দের সাধারণ অর্থ হইতেছে কীর্তির গান বা প্রশংসার গান। সংগীত ভিন্ন কেবল গুণানুবাদ বুঝাইবার জন্যও কীর্তন শব্দটি ব্যবহৃত হইয়া থাকে। ভগবদ্বিষয়ক রূপ-গুণাদির যশোগাথা ব্যক্ত করিবার উদ্দেশ্যেই এই কীর্তন শব্দটির বিশেষ ব্যবহার। বাংলা দেশে প্রাচীন কাল হইতে শ্রীকৃষ্ণের কীর্তিগান বুঝাইবার জন্যই ‘কীর্তন’ শব্দটি ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে। ভগবানের নিকট প্রার্থনা-সূচক এবং দৈন্য নিবেদন-সূচক গান ও কীর্তনগানের অন্তর্ভুক্ত। কীর্তন দুই ভাগে বিভক্ত: নামকীর্তন এবং লীলাকীর্তন।
নামকীর্তন: ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে’, এই নামই প্রধানতঃ গীত হইয়া থাকে। কখনও বা ভগবৎ-অবতার-কল্প সিদ্ধ মহাপুরুষগণের নামও নামকীর্তনে গীত হয়। তাঁহাদের আবির্ভাব ও তিরোভাব তিথিতে নামের সহিত তাঁহাদের দিব্য চরিত্রের কীর্তনও করা হয়। এই প্রকার গান ‘সূচক’ গান নামে অভিহিত। নামকীর্তন জনসংগীত, বহু ধর্মপ্রাণ নর-নারী সমবেতভাবে নামকীর্তন করিয়া থাকেন। কখনও চতুপ্রহর, অষ্টপ্রহর, কখনও বা চব্বিশ প্রহর, আবার কখনও মাস বা বৎসর ব্যাপী দিন বা রাত্রির বিভিন্ন সময়ের উপযোগী ভিন্ন ভিন্ন সুরে কীর্তন অখণ্ডভাবে চলিতে থাকে। নামকীর্তন কখনও’বা দলবদ্ধভাবে নগরে পথে পথে গীত হইয়া থাকে, এই প্রকার কীর্তনকে বলা৩৩৮