M. M. Sterman, Animal Parasites in Man, Princeton, 1960.
সীমানন্দ অধিকারী
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কৃমিঘটিত রোগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশি। গ্রাম্য বালক-বালিকাদের মধ্যেই এই সকল রোগ অধিক দেখা যায়। বিভিন্ন কৃমির জন্য বিভিন্ন চিকিৎসা প্রচলিত আছে। গোল কৃমির চিকিৎসায় বর্তমানে পাইপারিজিন জাতীয় ঔষধই শ্রেষ্ঠ; ভ্যানকুইন জাতীয় ঔষধ ও প্রয়োগ করা হয়। স্যানটোনিন, হেক্সিল রেসর্সিনল প্রভৃতি ঔষধ পূর্বে প্রচলিত ছিল। হুক্ ওয়ার্মের চিকিৎসায় প্রথমে টেট্রাক্লোর এথিলিন ও পরে একটি জোলাপ (যথা, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট) দেওয়া হয়; অত্যধিক রক্তাল্পতা থাকিলে প্রথমে লৌহঘটিত ঔষধ দ্বারা তাহার চিকিৎসা করিয়া পরে পূর্বোক্ত ঔষধ দেওয়া উচিত। বর্তমানে অ্যালকোপার ঔষধও প্রচলিত আছে। ফিতা কৃমির চিকিৎসা করা হয় মেপাক্রিন ট্যাবলেট ও পরে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট দিয়া। সূত্র কৃমি বা থ্রেড ওয়ার্নের চিকিৎসায় গোল কৃমির চিকিৎসার মতই পাইপারিজিন জাতীয় ঔষধ দেওয়া হয়; এতদ্ব্যতীত প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসাবে বাড়ির প্রত্যেক বালক-বালিকার চিকিৎসা করা প্রয়োজন; হাতের নখ কাটিয়া দেওয়া উচিত ও বস্ত্রাদি গরম জলে উত্তম রূপে ধৌত করা কর্তব্য। গোল কমিঘটিত ফাইলেরিয়া রোগের চিকিৎসায় ডাইইথাইল কার্বামাজিন ঔষধ দেওয়া হয়, কোনও অঙ্গের বা দেহাংশের স্ফীতি ঘটিয়া থাকিলে শল্যচিকিৎসা অথবা কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্টেরয়েড জাতীয় হর্মোন ব্যবহার করা হয়। স্ত্রংগিলোইদেস্ স্তের্কোরালিস্ (Strongyloides stercoralis) নামক গোল কৃমির চিকিৎসায় ডাইথায়াজানিন আয়োডাইড ব্যবহৃত হয়।
দ্র R. H. Micks, The Essentials of Materia Medica, Pharmacology and Therapeutics, London, 1957.
কমলকুমার মল্লিক
ব্রিটিশ শাসনকালে সরকারিভাবে কৃষির উন্নতি সম্পর্কে চেষ্টা হয়। ১৮৭১ খ্রীষ্টাব্দে ভারতবর্ষে কৃষিদপ্তর স্থাপিত হয় এবং ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে কৃষির উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রদেশে কৃষিদপ্তর এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সরকারি কেন্দ্র স্থাপিত হয়। ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দের পর ভারত সরকার খাদ্য সংকটের সমাধানের জন্য কৃষি-উন্নতির বিষয়ে বিশেষভাবে সচেষ্ট হইয়াছেন।
ভারতবর্ষের জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশেরও অধিক ব্যক্তি নানাভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। জাতীয় আয়ের ৪৭% কৃষিকার্য হইতে লব্ধ।
ভারতবর্ষের মোট ভৌগোলিক আয়তন ৩২৬৫৯৯০ বর্গ কিলোমিটার (১২·৬১ লক্ষ বর্গ মাইল) অর্থাৎ ৩২৬৩০৯৬১০ হেক্টর (৮০ কোটি ৬৩ লক্ষ একর)। তাহার মধ্যে কৃষিতে নিয়োজিত আছে ১৩২৭৪১৬০০ হেক্টর (৩২ কোটি ৮০ লক্ষ একর) জমি, ইহার মধ্যে আবার ১৯৫০৬৫৪০ হেক্টরে (৪ কোটি ৮২ লক্ষ একর) বৎসরে একাধিকবার চাষ হয়, অর্থাৎ মোট ১৫২২৪৮১৪০ হেক্টর (৩৭ কোটি ৬২ লক্ষ একর) হইতে বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হইয়া থাকে। কৃষিজ পণ্যের জন্য এই জমির উপর ভারতের ৪৩ কোটি ৯২ লক্ষ (১৯৬১ খ্রী) লোককে নির্ভর করিতে হয়; তাহাতে মাথা পিছু ভূমির পরিমাণ ৮৫ একর দাড়ায়। ভারতবর্ষ নিরক্ষ রেখার উত্তরে ৮০° উত্তর হইতে প্রায় ৩৫° উত্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়ার ফলে শস্য ও গাছপালার মধ্যে বহু প্রকারভেদ ও দেখা যায়। উত্তর ভারতে দীর্ঘস্থায়ী ঠাণ্ডা আবহাওয়ার জন্য রবিশস্যের (গম, সরিষা ইত্যাদির) এবং মধ্য ও দক্ষিণ ভারতে খারিফ শস্যের (ধান, পাট, জোয়ার, ভুট্টা, তুলা, চীনাবাদাম ইত্যাদির) চাষ বেশি হয়।
ভারতে বৃষ্টিপাতের ৯০% দক্ষিণ-পশ্চিম মৌশুমি বায়ুর প্রভাবে জুন হইতে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সংঘটিত হয়। উত্তর-পূর্ব মৌশুমি বায়ুর ফলে সাধারণতঃ অক্টোবর হইতে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে বৃষ্টি হয়। ইহার দ্বারা এই অঞ্চল বৎসরে দুইবার বৃষ্টি পাইয়া থাকে।
বৃষ্টিপাত ভারতের সর্বত্র সমান নয়। আঞ্চলিক তারতম্য অত্যন্ত বেশি, ফলে কৃষি এবং ফসলের যথেষ্ট প্রকারভেদ দেখা যায়। অধিক বৃষ্টিপাতের অঞ্চলগুলিতে ধান ও পাটের চাষ এবং অপেক্ষাকৃত শুষ্ক অঞ্চলে জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা, অড়হর ইত্যাদির চাষ বেশি হয়।
ভারতের মৃত্তিকাকে প্রধানতঃ ছয় ভাগে বিভক্ত করা হয়৩৮৮