বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৪০৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কৃষি
কৃষি

জাপানে ২১২৭ কিলোগ্রাম (৪৬৮১ পাউণ্ড), ইতালিতে ২২১৪ কিলোগ্রাম (৪৮৮০ পাউণ্ড), সেখানে ভারতের গড় উৎপাদন মাত্র ৫৫৭ কিলোগ্রাম (১২২৮ পাউণ্ড)। গমের একর পিছু গড় উৎপাদন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৬৮০ কিলোগ্রাম (১৫০০ পাউণ্ড) ও জাপানে ৯৮০ কিলোগ্রাম (২১৬০ পাউণ্ড), কিন্তু ভারতে মাত্র ৩৫৯ কিলোগ্রাম (৭৯২ পাউণ্ড)। ভারতে আবাদযোগ্য পতিত জমিও বেশি নাই। কাজেই গড় ফলন বৃদ্ধি করাই ভারতীয় কৃষির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 সুষ্ঠু ভূমিবণ্টন ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন রাজ্যে ভূমি সংস্কার আইন দ্বারা জমিদারি প্রথার ও সেইসঙ্গে অন্যান্য মধ্যস্বত্বভোগীদের বিলোপ সাধন করা হইয়াছে। একত্রীকরণের কাজও পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র প্রভৃতি রাজ্যে ইতিমধ্যে শুরু হইয়াছে এবং তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে ১২১৪১০০০ হেক্টর (৩ কোটি একর) একত্রীকরণের কাজ করা হইবে বলিয়া স্থির হইয়াছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলিতে পতিত জমি সংস্কারের দ্বারা চাষের যোগ্য করিবার চেষ্টাও তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মোট ১২৫৬৯২০ হেক্টর (৩৬ লক্ষ একর) পতিত জমি সংস্কার করা হইবে বলিয়া স্থির হইয়াছে। যদি ইহা সম্ভব হয়, তবে শতকরা মাত্র ০.২২ অংশ বৃদ্ধি পাইবে।

 উন্নত কৃষিপদ্ধতির মধ্যে প্রথমে আসে ভূমিকর্ষণ ও বীজবপনের উপযোগী করিয়া ভূমি তৈয়ারি করা। ইহার জন্য কৃষককে এখনও লাঙল এবং ক্ষীণবল পশুর উপরে নির্ভর করিতে হয়। অথচ উন্নত যন্ত্রাদির সাহায্য ব্যতিরেকে জমি উপযুক্তভাবে তৈয়ারি করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উন্নত কৃষিযন্ত্রের খাতে ৮ কোটি টাকার মত বরাদ্দ আছে।

 কৃষিপদ্ধতির উৎকর্ষের আর-একটি অপরিহার্য অঙ্গ হইতেছে উন্নত বীজের ব্যবহার। শুধু উৎকৃষ্ট বীজ ব্যবহার করিয়া কোনও কোনও ফসলের উৎপাদন শতকরা ১০-১৫ ভাগ বৃদ্ধি করা সম্ভব। ভারতের বিভিন্ন গবেষণাকেন্দ্রে নির্বাচন ও প্রজনন দ্বারা সেরূপ বীজের সৃষ্টি করা হইতেছে, তাহা ছাড়া বিদেশ হইতেও ভাল বীজ আমদানি করা হইতেছে। এরূপ বীজের পরিবর্ধনের জন্য জেলায় জেলায় সরকারি বীজ পরিবর্ধন ক্ষেত্র ছাড়াও, দ্বিতীয় পরিকল্পনায় ডেভেলপ্‌মেণ্ট ব্লকগুলিতে ১০ হেক্টরের (২৫ একর) পরিমিত সরকারি বীজ পরিবর্ধন ক্ষেত্র স্থাপনের ব্যবস্থা করা হইয়াছিল। এরূপ ক্ষেত্রের সংখ্যা তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষে (১৯৬৫-৬ খ্রী) ৪৮০০ দাঁড়াইবে বলিয়া আশা করা যায়। এই পরিকল্পনায় উন্নত
বীজ ৮০৯৪০০০০ হেক্টর (২০ কোটি একর) জমিতে সম্প্রসারিত করিবার লক্ষ্য স্থির করা হইয়াছে।

 ভারতে প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ জমিতে সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টির উপর নির্ভর করিয়া চাষ করিতে হয়। অতএব সেচের ব্যবস্থা কৃষির উন্নতির অপর একটি প্রধান সহায়ক। বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সেচের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপিত হইয়াছে। দামোদর, ময়ুরাক্ষী, ভাকরা-নাঙ্গাল, হীরাকুদ, তুঙ্গভদ্রা, কংসাবতী প্রভৃতি নদী-সম্পর্কিত পরিকল্পনাগুলি অনেকাংশে কার্যকর হইয়াছে। তদ্ভিন্ন ছোট ছোট খাল কাটিয়া, পুষ্করিণী খনন ও গভীর নলকূপ বসাইয়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি সেচ প্রকল্পের দ্বারাও সেচের ব্যবস্থা হইতেছে। ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দে যেখানে ২০৮৪২০৫০ হেক্টর (৫ কোটি ১৫ লক্ষ একর) জমি সেচ পাইত সেখানে তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষে ৩৬৪২৩০০০ হেক্টর (৯ কোটি একর) জমিতে সেচের ব্যবস্থা হইতেছে।

 কৃষির উৎপাদনের হার বাড়াইতে হইলে যে সব উপকরণের একান্ত প্রয়োজন তাহার মধ্যে সারের ব্যবহার সর্বপ্রধান বলা চলে। চাষি জালানি কাঠের অভাবে অধিকাংশ গোবর জ্বালানির জন্য ব্যবহার করে। উপরন্তু যতটুকু গোবর সারের জন্য ব্যবহার হয়, তাহাও উপযুক্ত ব্যবস্থার অভাবে সম্পূর্ণ কার্যকর হয় না। ভারতের জমিতে প্রধান অভাব নাইট্রোজেন এবং ফসফেট-ঘটিত সারের। রাসায়নিক সার উৎপাদনের জন্য সিন্দ্রি, নাঙ্গাল, ট্রম্বে, রাউরকেল্লা ইত্যাদি শহরে কারখানা স্থাপিত হইয়াছে। হিসাবে অনুমান হয় যে, তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষ বৎসরে কারখানায় প্রস্তুত সারের দ্বারা ১০১৬০০০ মেট্রিক টন (১০ লক্ষ টন) নাইট্রোজেন, ৪০৬৪০০ মেট্রিক টন (৪ লক্ষ টন) ফসফেট ও ২০৩২০০ মেট্রিক টন (২ লক্ষ টন) পটাশ সরবরাহ করা সম্ভব হইবে। ইতিমধ্যে ভারতে উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করা হইয়াছে নাইট্রোজেন ৮১২৮০০ মেট্রিক টন (৮ লক্ষ টন) ও ফসফেট ৪০৬৪০০ মেট্রিক টন (৪ লক্ষ টন)। এই লক্ষ্যে যদি পৌঁছানোও যায় তাহা হইলেও হেক্টর পিছু ৩ কিলোগ্রাম (একর পিছু মাত্র ২·৬ পাউণ্ড) নাইট্রোজেন সরবরাহ হইবে। তুলনায় জাপানে হেক্টর প্রতি ১০৯ কিলোগ্রাম (একর প্রতি ৯৭·১ পাউণ্ড) নাইট্রোজেন ও আমেরিকায় হেক্টর প্রতি ১৮ কিলোগ্রাম (একর প্রতি ১৬·৫ পাউণ্ড) ব্যবহার করা হইয়া থাকে। অধিক সংখ্যায় বা দ্রুত রাসায়নিক সারের কারখানা স্থাপন করা সম্ভব নয় বলিয়া আবর্জনা হইতে সারের উৎপাদন ও সবুজ সারের প্রসারের চেষ্টা হইতেছে।

৩৯০