তৃতীয় পরিকল্পনায় লক্ষ্য স্থির করা হইয়াছে, শহর হইতে ৫০৮০০০০ মেট্রিক টন (৫০ লক্ষ টন) ও গ্রামাঞ্চল হইতে ১৫২৪০০০০০ মেট্রিক টন (১৫ কোটি টন) আবর্জনাজাত সার তৈয়ারি হইবে ও ১৬৫৯২৭০০ হেক্টর (৪ কোটি ১০ লক্ষ একর) জমিতে সবুজ সার উৎপাদন করা হইবে।
আগাছা জমি হইতে ফসলের খাদ্য গ্রহণ করে। বর্তমান কালে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপনের ফলে এবং যন্ত্রচালিত নিড়ানির সাহায্যে স্বল্পব্যয়ে আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হইয়াছে। গাছপালার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী হর্মোন প্রয়োগ করিয়াও বিভিন্ন দেশে আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গাছের রোগ ও পোকার আক্রমণ নিরোধ কৃষির আর একটি সমস্যা।
আধুনিক কালে নানা প্রকার রোগনাশক এবং কীট নাশক ঔষধ আবিষ্কৃত হইয়াছে। এগুলি হস্তচালিত অথবা শক্তিচালিত যন্ত্রের সাহায্যে ফসলের উপর ছিটানো হয়। ভারতবর্ষে প্রায় ২০২৩৫০০০ হেক্টর (৫ কোটি একর) জমিতে ফসল রক্ষার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা অবলম্বন করা হইয়াছে।
কৃষির উন্নতিকল্পে উপরে বর্ণিত ব্যবস্থাগুলি বিচ্ছিন্নভাবে প্রয়োগের পরিবর্তে একযোগে সুসংবদ্ধভাবে প্রয়োগ করিতে পারিলে অনেক বেশি সুফল পাওয়া যাইবে। সেজন্য প্রতি রাজ্যে প্রথমে একটি করিয়া জেলায় চাষের সামগ্রিক উন্নতির চেষ্টা করা হইতেছে। আগ্রহী কৃষকদের সমবায় সমিতির সহায়তায় প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগের ব্যবস্থাও এই জেলাগুলিতে করা হইতেছে। কৃষির উন্নতি অব্যাহত রাখিতে হইলে প্রযুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা ও একান্তভাবে প্রয়োজন। বর্তমানে প্রতি রাজ্যেই এক বা একাধিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র আছে, তাহা ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত গবেষণা কেন্দ্রগুলি হইতেও নানা বিষয়ে সহায়তা পাওয়া যায়। ভারতের কৃষি গবেষণা কেন্দ্রগুলির মধ্যে নয়া দিল্লীতে অবস্থিত ভারতীয় কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সর্বপ্রধান।
নানাবিধ চেষ্টার ফলে কৃষি উৎপাদনের হার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাইতেছে। ১৯৪৯-৫০ হইতে ১৯৫১-২ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে চাল উৎপাদনের গড় হার যেখানে ছিল হেক্টর প্রতি ৭১৭ কিলোগ্রাম (একর প্রতি ৬৪০ পাউণ্ড), সেখানে ১৯৬১-২ খ্রীষ্টাব্দে দাঁড়াইয়াছে হেক্টর প্রতি ৮৩৮ কিলোগ্রাম (একর প্রতি ৭৪৮ পাউণ্ড); গমের ক্ষেত্রে এই উৎপাদন হেক্টর প্রতি ৬৫৭ কিলোগ্রাম (একর প্রতি ৫৮৬ পাউণ্ড) হইতে বাড়িয়া হেক্টর প্রতি ৮২৭ কিলোগ্রাম (একর প্রতি ৭৩৮ পাউণ্ড) হইয়াছে।দ্র Indian Council of Agricultural Research, The Handbook of Indian Agriculture, New Delhi, 1961; E. J. Russel & E. W. Russel, Soil Condition and Plant Growth, London, 1962; H. R. Arakeri, G. V. Chalam & P. Satyanarayana, Soil Management in India, Bombay, 1959.
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রস্তুতির সময়ে হিটলার-শাসিত জার্মানিকে খাদ্য সম্পর্কে যথাসম্ভব স্বয়ংসম্পূর্ণ করিবার চেষ্টা হয়। সে সময়ে নানাবিধ গবেষণার পরে জার্মানির অধিবাসীগণকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন মাংসের উপর নির্ভর না করিয়া তাহারা আলু ও অন্যান্য নিরামিষ আহারের উপরে বেশি নির্ভর করে। গোমাংসের পরিবর্তে মাছ ও খরগোশের মাংসের ব্যবহার বৃদ্ধির কথাও বলা হয়। এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, এক হেক্টর জমিতে যতটা আলু বা গম উৎপন্ন হয়, তাহার সমান ক্যালরি বা খাদ্যমূল্য-বিশিষ্ট গোমাংস উৎপাদনের জন্য পশুখাদ্যের চাষ করিতে বহুগুণ বেশি জমির প্রয়োজন।
ভারতবর্ষ, চীন, জাপান প্রভৃতি জনবহুল দেশে মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে প্রোটিন ও স্নেহপদার্থের জন্য যথাক্রমে নানা জাতীয় ডাল ও তৈলবীজের উপরেই বেশি নির্ভর করে। জান্তব প্রোটিনের জন্য কোথাও দুধ, কোথাও মাছ বা পাখির মাংস আবার কোথাও ইতস্ততঃ খাদ্যসংগ্রহে অভ্যস্ত এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধিশীল শূকর প্রভৃতি প্রাণীর মাংস আহার করা হয়। এই হিসাবে জনবহুল ও ভূমিবিরল দেশের সমস্যা জনবিরল এবং ভূমিবহুল দেশের সমস্যা হইতে অনেকাংশে স্বতন্ত্র (‘খাদ্য’ দ্র)।
ভারতবর্ষের মধ্যেও আবার স্থান অথবা জাতি ভেদে চাষের ব্যবস্থায় যথেষ্ট তারতম্য লক্ষিত হয়। রন্ধনেরও নানা প্রক্রিয়া আছে। বিহার ও ওড়িশার কোনও কোনও আদিবাসী জাতি ভাতের ফেন ফেলে না, বাঙালী ফেন গালিয়া ভাত খায়। তাহাতে চালও অতিরিক্ত লাগে, আবার ফেনের সঙ্গে দেহের পক্ষে প্রয়োজনীয় কিছু অজৈব পদার্থের অপচয় হয়।
ভারতবর্ষে কৃষি সম্পর্কিত অপর একটি সমস্যা ও আছে। আসামের মিজো জেলা, ওড়িশার কেওন্ঝর ও মধ্য প্রদেশে অবুঝমাড় উপত্যকায় জুম চাষ সম্বন্ধে গবেষণা করিয়া দেখা গিয়াছে যে ঐ প্রথায় চাষের দ্বারা প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৬ হইতে ১৩ (প্রতি বর্গ মাইলে ১৫ হইতে ৩৪) জন লোককে দুই বেলা পেট ভরিয়া খাইতে (প্রায়৩৯১