বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এক্‌স-রে
এক্‌স-রে

চতুর্দিকে আরও কতকগুলি দাগ সাজানো (চিত্র ৩)।


চিত্র ৩
লাওয়ে, ফ্রিডরিখ্ ও রিপ্‌পিং কর্তৃক গৃহীত জিঙ্ক-সাল্‌ ফাইড
কেলাসের এক্স-রে চিত্র (অঙ্কিত)।

ইহার দ্বারা নিঃসংশয়ে প্রমাণিত হইল যে জিঙ্ক-সাল্‌ফাইডের পারমাণবিক জালি গ্রেটিং-এর কাজ করিয়া এক্‌স-রেকে বিক্ষিপ্ত করিয়াছে। শুধু তাহাই নহে, এই বিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে এক্‌স-রে ফোটোগ্রাফিক প্লেটে মানুষের চোখের সামনে তুলিয়া ধরিয়াছে জিঙ্ক-সাল্‌ফাইড কেলাসের আভ্যন্তরীণ পারমাণবিক গঠনসজ্জা।

 এই আবিষ্কার কেলাসের গঠনবৈচিত্র্য নির্ণয় করিবার এক অতি নির্ভরযোগ্য পথ উন্মুক্ত করিল।

 ব্র্যাগ-প্রতিফলন: ব্র্যাগ-নিয়ম: লাউয়ের গবেষণা প্রকাশিত হইবার অল্প পরে উইলিয়াম ব্র্যাগ কতকগুলি পরীক্ষায় লক্ষ্য করেন, কেলাস যে সব স্বাভাবিক তলে সহজেই চিড় খাইয়া বিভক্ত হয় সেইরূপ একটি বিদারণতলের প্রায় গা ঘেঁষিয়া এক্‌স-রে ফেলিবার ব্যবস্থা করিলে এই রশ্মি নিয়মিত রূপে প্রতিফলিত হয়। কেলাসের বিদারণতলগুলির বৈশিষ্ট্য এই যে, ইহাদের উপরই কেলাসের অধিকাংশ পরমাণু অবস্থান করে। অবশ্য প্রতিফলন নামে অভিহিত হইলেও আসলে ডিফ্র্যাক্‌শনের নিয়মেই এই ব্যাপার ঘটে। পর পর দুইটি বিদারণ তলের দূরত্ব d হইলে λ তরঙ্গ-দৈর্ঘ্যের এক্‌স-রের জন্য ব্র্যাগ-প্রতিফলন কোণ θ নির্ধারিত হয় 2d sinθ = nλ এই সমীকরণের দ্বারা। এখানে n=পূর্ণসংখ্যা, ১, ২, ৩ ইত্যাদি। উপরি-উক্ত নিয়মটিকে ব্র্যাগের নিয়ম (ব্র্যাগ্‌স ল) বলা হয়। ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক খাটিবে না সেখানে বিভিন্ন তল হইতে প্রতিফলিত রশ্মিসমূহের মধ্যে পর্যায়গত সামঞ্জস্য না থাকায়
তাহারা একে অন্যের তীব্রতাকে নাকচ ক্রিবে, ফলে তেমন কোনও প্রতিফলনই হইবে না। ব্র্যাগ-নিয়মের গুরুত্ব এই যে, তরঙ্গ-দৈর্ঘ্যের মাপ জানা থাকিলে d-র মান ও সেইসঙ্গে কেলাসের আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য বাহির করা যায়; পক্ষান্তরে d-র মান একবার নির্ণীত হইলে সেই কেলাসের সাহায্যে এক্‌স-রের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য মাপা যায়। এই উপায়ে ব্র্যাগ (পিতা ও পুত্র) সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCl) ইত্যাদি লবণের কেলাসাক্বতি নির্ণয় করেন।

 ডিবাই-হাল-কোরার পাউডার পদ্ধতি: লাওয়ে বা ব্র্যাগ পদ্ধতি প্রয়োগ করিতে হইলে বস্তুটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ কেলাস রূপে পাওয়া দরকার। কিন্তু যে সব বস্তুর বড় কেলাস প্রকৃতিতে দুষ্প্রাপ্য কিংবা যে সব বস্তু স্বভাবতঃই অতিশয় ক্ষুদ্র কেলাসের সমষ্টি (যেমন, ধাতব বস্তু) তাহাদের কেলাসাকৃতি কিরূপে নির্ধারিত হইবে? ডিবাই, হাল ও কোরার -উদ্ভাবিত পাউডার পদ্ধতি ইহার উত্তর। তাঁহারা সিলিণ্ডার আকৃতির একটি বিশেষ ধরনের এক্‌স-রে ক্যামেরা তৈয়াবি করেন। ইহার কেন্দ্রদেশে বস্তুর চূর্ণ কিংবা ধাতব তার স্থাপন করিয়া তাহার উপর এক্‌স-রে পতিত হইতে দিলে সেই চূর্ণের কিংবা তারের অসংখ্য ও বিশৃঙ্খলভাবে ছড়ানো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কেলাসের বিভিন্ন বিদারণ তল হইতে বিশেষ বিশেষ দিকে এক্‌স-রে প্রতিফলিত হইবে। বিশৃঙ্খলভাবে থাকিবার জন্য যে সব দিকে ব্র্যাগ-নিয়ম খাটিবার কথা সেই সব দিকে কিছু না কিছু সংখ্যক কেলাস অভীপ্সিতভাবে অবস্থান করিবেই। সুতরাং ফোটোগ্রাফিক প্লেটে মূল এক্‌স-রে যেখানে সোজাসুজি আঘাত করে তাহার দুই ধারে সুবিন্যস্তভাবে আরও কতকগুলি লাইন আত্মপ্রকাশ করিবে (চিত্র 8)।
চিত্র ৪
পাউডার পদ্ধতিতে গৃহীত ডিফ্র্যাক্‌শন চিত্র

 এইসব লাইনের অবস্থান বিচার-বিশ্লেষণ করিয়া চূর্ণীকৃত পদার্থের অথবা ধাতব তারের কেলাসের প্রকৃতি ও তাহার আভ্যন্তরীণ গঠনসজ্জা জানা যায়। বলা বাহুল্য, এই পাউডার-প্রণালী অচিরে কেলাসবিদ্যার এক অতি প্রয়োজনীয় ও নির্ভরযোগ্য উপায় হিসাবে পরিগণিত হয়।

 এক্‌স-রে বর্ণালি: কেলাস পরীক্ষা ছাড়া ব্র্যাগ-নিয়ম এক্স-রে বর্ণালি সংক্রান্ত গবেষণাতেও বিশেষ সহায়ক হয়।

২৪