বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৪৩৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কেন্দ্রকবিদ্যা
কেন্দ্রক বিভাজন

উল্লেখের প্রয়োজন। কেন্দ্রক বিক্রিয়ার দুইটি পর্যায়—প্রথম পর্যায়ে এই প্রক্রিয়ার আরম্ভ ও শেষ পর্যায়ে ইহার শেষ। প্রথম পর্যায়ে রহিয়াছে কেন্দ্রক ও গতিশীল আঘাতকারী কণা এবং শেষ পর্যায়ে রহিয়াছে অবস্থান্তরিত কেন্দ্রক ও নিক্ষিপ্ত কণা। আঘাতকারী কণার শক্তি পরিমাণ যদি Ei হয় এবং নিক্ষিপ্ত কণার শক্তি Ef, তাহা হইলে (Ef - Ei) = Q এই পরিমাণ শক্তিকে বিক্রিয়ার Q-মান বলা হয়। Q-মান নেগেটিভ হইলে বিক্রিয়াকে এণ্ডোথার্মিক ও পজিটিভ হইলে এক্সোথার্মিক বলা হয়। বিক্রিয়ার Q-মান নির্দেশ করিয়া দেয় কত শক্তির আঘাতকারী-কণা কি প্রকার কেন্দ্রের উপর আসিলে কোন কোন বিশেষ বিক্রিয়া শক্তি-তত্ত্ব অনুযায়ী সম্ভব। কেন্দ্রক বিক্রিয়ার মূল নিয়মাবলী হইল:

 ১. মোট শক্তি-পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকিবে

 ২. ভরবেগ (মোমেণ্টাম) অর্থাৎ গতি ও ওজনের গুণফল অপরিবর্তনীয়

 ৩. সমগ্র বৈদ্যুতিক চার্জ অক্ষুণ্ণ থাকিবে

 ৪. কৌণিক ভরবেগ (অ্যাঙ্গুলার মোমেণ্টাম) পরিবর্তিত হইবে না।

 যদি A কেন্দ্রের উপর a কণা আসিয়া পড়ে ও বিক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে B কেন্দ্র ও b কণা দেখিতে পাওয়া যায় তাহা হইলে সেই বিক্রিয়াকে সাংকেতিকভাবে A(ab)B বলিয়া নির্দেশ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ O16 (dp) O17 অর্থাৎ ১৬টি কেন্দ্রককণাবিশিষ্ট অক্সিজেন কেন্দ্রের উপর ডয়টেরন আসিল ও বিক্রিয়াস্তে ১৭টি কেন্দ্রককণাবিশিষ্ট (৯টি নিউট্রন + ৮টি প্রোটন) অক্সিজেন কেন্দ্রের সৃষ্টি করিয়া প্রোটন বাহির হইয়া গেল। নিক্ষিপ্ত কণার ব্যবহার অনুশীলন করিতে গিয়া বৈজ্ঞানিকগণ কেন্দ্রক বিক্রিয়ার মোটামুটি দুই প্রকার পদ্ধতির নির্দেশ দিয়াছেন। আঘাতকারী কণা কেন্দ্রের উপর আসিলে এই কেন্দ্র ও আঘাতকারী কণার সামগ্রিক অবস্থাকে বিক্রিয়ার মধ্য পর্যায় বলা যায়। মনে করা যায় যে আঘাতকারী কণা স্বীয় বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে বর্জন করিয়া কেন্দ্রের অন্তর্গত হইয়া যায় ও একটি যৌগিক কেন্দ্রের (কম্পাউণ্ড নিউক্লিয়াস) সৃষ্টি করে। ইহার অন্তর্গত কণাগুলির মধ্যে পরস্পরের সহিত সংঘর্ষের ফলে শক্তির বৈষম্য উপস্থিত হয় এবং কোনও বিশেষ কণা অধিক শক্তি লাভ করিয়া যৌগিক কেন্দ্র ত্যাগ করিয়া বাহির হইয়া আসে। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী নীল্‌স বোর কেন্দ্রক বিক্রিয়ার এই চিত্র উপস্থিত করেন। ইহা দ্বারা কেন্দ্রক বিক্রিয়ার তৎকালিক পর্যবেক্ষণ ফল বহুলাংশে বুঝা গিয়াছিল। গবেষণার
অগ্রগতির সহিত আর এক প্রকার কেন্দ্রক বিক্রিয়া দেখা যাইতে লাগিল যাহাদের বিশ্লেষণের জন্য কোনও প্রকার মধ্য পর্যায়ের অস্তিত্ব অযৌক্তিক বলিয়া প্রতীয়মান হইল। (dp), (dn) ইত্যাদি বিক্রিয়া এই শ্রেণীর অন্তর্গত। এ ক্ষেত্রে মনে করা হয় আঘাতকারী কণা ও কেন্দ্রককণার সরাসরি সংঘর্ষের ফলে নিক্ষিপ্ত কণা বাহির হয়। আজও বিজ্ঞানীগণ এই দুইটি মূল চিত্র ধরিয়া বিভিন্ন প্রকার কেন্দ্রক বিক্রিয়া বুঝিবার চেষ্টা করিতেছেন।

দ্র G. Gamow & John M. Cleveland, Physics: Foundations and Frontier, New Delhi, 1963; C. M. H. Smith, A Textbook of Nuclear Physics, Oxford, 1965.

বাসন্তীদুলাল নাগচৌধুরী

কেন্দ্রক বিভাজন নিউক্লিয়ার ফিশন। এক প্রকার কেন্দ্রক রূপান্তর (নিউক্লিয়ার ট্র্যান্‌স্‌ফর্মেশন)। সকল মৌলের পরমাণুর কেন্দ্রক নিউট্রন ও প্রোটন দ্বারা গঠিত। কোনও উপায়ে এই প্রোটন বা নিউট্রন-সংখ্যার পরিবর্তন ঘটাইতে পারিলে কেন্দ্রকের রূপান্তর ঘটে। ১৯১৯ খ্রীষ্টাব্দে লর্ড রাদারফোর্ড আলফা-কণার (‘আলফা-কণা’ দ্র) দ্বারা আঘাত করিয়া সর্বপ্রথম কেন্দ্রকের রূপাস্তর ঘটাইতে সমর্থ হন। পরবর্তী যুগে প্রোটন, নিউট্রন প্রভৃতি অন্যান্য পারমাণবিক কণিকার দ্বারাও এই ধরনের কেন্দ্রক রূপান্তর সংঘটিত করা হইয়াছে।

 ১৯৩৫ খ্রীষ্টাব্দে রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এন্‌রিকো ফের্মি এবং তাঁহার সহকর্মীবৃন্দ নিউট্রন দ্বারা পর্যায়-সারণী (পিরিয়ডিক টেব্‌ল)-ভুক্ত প্রায় সকল মৌলের কেন্দ্রকের রূাপান্তর ঘটাইতে সমর্থ হন। তাঁহারা যখন পর্যায় সারণীর শেষ সীমান্তে অবস্থিত সর্বাপেক্ষা ভারি প্রকৃতিলব্ধ মৌল ইউরেনিয়াম (পারমাণবিক সংখ্যা ৯২) কেন্দ্রককে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করিলেন তখন কয়েকটি নূতন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সন্ধান পাইলেন। তাঁহাদের ধারণা হইল যে তাঁহারা তদবধি অজ্ঞাত ইউরেনিয়াম-উত্তর কোনও মৌলের পরমাণু সৃষ্টি করিয়াছেন, যাহা প্রকৃতিলব্ধ নহে। বিভিন্ন গবেষণাগারে তাঁহাদের পরীক্ষা নুতনভাবে করিয়া দেখা হইল। ফ্রান্সে প্রথ্যাত মাদাম কুরির (‘কুরি, ‘মারিয়া স্‌ক্নোডোভ্‌স্কা’ দ্র) কন্যা ইরেন জ্রোলিও-কুরি (‘জ্রোলিও-কুরি, ইরেন’ দ্র) ও তাঁহার সহকর্মী সাভিচ দেখিলেন যে নবসৃষ্ট পরমাণুগুলি ইউরেনিয়াম অপেক্ষা অনেক পরিমাণে

৪১৬