বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৪৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কেন্দ্রক সংযোজন
কেন্দ্রাভিগ বল

কেন্দ্রক সংযোজন ক্রিয়া ধীরে ধীরে সংঘটিত করাইলে উৎপন্ন শক্তিকে নানাবিধ কার্যে ব্যবহার করা যায়। অনিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রক সংযোজন ক্রিয়ার ফলে স্বল্পসময়ে উদ্ভূত প্রভূত শক্তিকে কার্যে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না, উপরন্তু এই অনিয়ন্ত্রিত ক্রিয়ার বিধ্বংসী ক্ষমতা অত্যন্ত ভয়াবহ। এইরূপে হাইড্রোজেন বোমা নির্মাণ সম্ভব হইয়াছে।

 নিয়ন্ত্রিত সংযোজক ক্রিয়ার ফলে উদ্ভুত শক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করিতে হইলে সংযুজ্যমান কেন্দ্রকগুলিকে ধীরে ধীরে সংযোজিত করিবার জন্য একস্থানে আবদ্ধ রাখা প্রয়োজন। এই অতি উত্তপ্ত প্লাজমাকে একস্থানে আবদ্ধ রাখা অত্যন্ত কঠিন, কারণ ধাতব বা অন্য কোনও পাত্রে রাখিলে হয় উহা দ্রুত শীতলতা প্রাপ্ত হইবে নতুবা পাত্রটি বিনষ্ট হইবে। একমাত্র চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগে এই গ্যাসকে অন্যান্য বস্তুর সংস্পর্শ রহিত করিয়া আবদ্ধ করা যাইতে পারে।

 চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রয়োগে নিম্নবর্ণিত থার্মোনিউক্লিয়ার মেশিন বা থার্মোনিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর সমূহে প্লাজমাকে বিভিন্ন প্রকারে আবদ্ধ করিয়া কেন্দ্রক সংযোজন ক্রিয়া সংঘটিত করিবার চেষ্টা চলিতেছে:

 ১. ম্যাগনেটিক মিরর মেশিন: ইহাতে একটি সিলিণ্ডার আকারের নলের গায়ে বিদ্যুৎ-প্রবাহী তার জড়াইয়া এমনভাবে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হয় যাহাতে দুই প্রান্তের চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা মধ্য ভাগের তীব্রতা অপেক্ষা বেশি থাকে। প্লাজমা ইহার মধ্যে আবদ্ধ থাকে।

 ২. স্টেলারেটর: ইহাতে বাংলা চার বা ইংরেজী আট অক্ষরের আকৃতিবিশিষ্ট নলের মধ্যে প্লাজমা আবদ্ধ থাকে। এই নলের উপরিভাগে বিদ্যুৎ-প্রবাহী তার জড়াইয়া যে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি করা হয় তাহাই প্লাজমাকে আবদ্ধ রাখে।

 ৩. অ্যাস্ট্রন: ইহাতে ম্যাগনেটিক মিরর মেশিন-এর মত সিলিণ্ডার আকারের চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হয়। ইহার পর অতি উচ্চ বেগসম্পন্ন ইলেকট্রন তাহার মধ্যে প্রবিষ্ট করাইয়া দেওয়া হয়। ইহার ফলে চৌম্বক ক্ষেত্রের আকার পরিবর্তিত হয় এবং প্লাজমা আবদ্ধীকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 ইহা ছাড়া পিঞ্চ মেশিনে প্লাজমাতে একদিক-অভিমুখী তড়িৎ-প্রবাহের ফলে স্বতঃ-উৎপন্ন চৌম্বক ক্ষেত্র প্লাজমাকে আবদ্ধ রাখে।

 নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রক সংযোজন ক্রিয়ার প্রচেষ্টা এখনও বিশেষ সফল হয় নাই। এই প্রচেষ্টা সফল হইলে সমুদ্রের বিশাল জলরাশি হইতে হাইড্রোজেন ও তাহার আই
সোটোপ ডিউটেরিয়াম সংগ্রহ করিয়া ক্রিয়া সংঘটিত করা সম্ভব হইবে। কেন্দ্রক বিভাজন প্রক্রিয়া অপেক্ষা কেন্দ্রক সংযোজন ক্রিয়াতে অনেক সুলভে এবং নিরাপদভাবে শক্তির উৎপাদন ও কল্যাণকর কার্যে ব্যবহার সম্ভব হইবে। ‘কেন্দ্রক বিদ্যা’ দ্র।

দ্র Richard, F. Post ‘Fusion Power’, Scientific American, December, 1957.

ব্রহ্মানন্দ দাশগুপ্ত

কেন্দ্রাতিগ বল একটি দণ্ডের উপর ছিদ্রবিশিষ্ট কোনও বস্তুখণ্ড ঢিলাভাবে পরাইয়া দণ্ডটিকে জোরে ঘুরাইলে দেখা যাইবে যে বস্তুখণ্ডটি ঘূর্ণন কেন্দ্রের বিপরীত দিকে ধাবিত হইতেছে। এই গতি কেন্দ্রবিমুখী ত্বরণজনিত। এই ত্বরণ আপাতদৃষ্টিতে একটি কেন্দ্রবিমুখী বল হইতে উদ্ভূত মনে হয়। বিশ্লেষণে বুঝা যায় যে কেন্দ্রাভিগ বলের দ্বারা এই ঘূর্ণন গতি সংঘটিত হইলে বস্তুখণ্ডটি কেন্দ্রবিমুখে ধাবিত হইত না। বর্তমানে কেন্দ্রাভিগ বলের অভাব বিমুখী ত্বরণটির কারণ। কার্যক্ষেত্রে উক্ত আপাতদৃষ্ট কেন্দ্রবিমুখী বলটির কল্পনায় কিছু সুবিধা আছে বলিয়া আলোচনার সুবিধার জন্য ইহাকে একটি নাম দেওয়া হইয়াছে। ইহার নাম কেন্দ্রাতিগ বল বা অপকেন্দ্র বল (সেণ্ট্রিফিউগ্যাল ফোর্স)।

 কেন্দ্রাতিগ বলের সাহায্যে নানা কার্য সমাধা হইয়া থাকে এবং নানা প্রকার যন্ত্র নির্মিত হয়; যথা কেন্দ্রাতিগ পাম্প (সেণ্ট্রিফিউগাল পাম্প), কেন্দ্রাতিগ ফিলটার ইত্যাদি। ‘কেন্দ্রাভিগ বল’, ‘কোরিওলিস বল’ ও ‘বলবিদ্যা’ দ্র।

গগনবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়

কেন্দ্রাভিগ বল কোনও বস্তুখণ্ডকে একটি কেন্দ্রের চারিদিকে ঘুরাইতে হইলে বস্তুটির উপর যে কেন্দ্রাভিমুখী বলের প্রয়োজন হয় তাহাকে কেন্দ্রাভিগ বল বা অভিকেন্দ্র বল (সেণ্ট্রি পেটাল ফোর্স) বলে। পৃথিবীর সূর্য প্রদক্ষিণ কেন্দ্রাভিগ বলের কারণেই ঘটে। m ভর (ম্যাস) বিশিষ্ট বস্তুখণ্ডকে R ব্যাসার্ধবিশিষ্ট বৃত্তের চারিদিকে V গতিবেগে (ভেলসিটি) ঘুরাইতে হইলে MV2/R পরিমাণ বলের প্রয়োজন। V গতিবেগে R ব্যাসার্ধের বৃত্তে ঘোরার অর্থ V/R কৌণিকবেগে (অ্যাঙ্গুলার ভেলোসিটি) ঘোরা। সুতরাং উক্ত বলের পরিমাণ MW2R লেখা যায় (W= কৌণিক বেগ)। ‘কেন্দ্রাতিগ বল’, ‘কোরিওলিস বল’ ও ‘বলবিদ্যা’ দ্র।

গগনবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়

৪২১