বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এক্‌স-রে
একাঙ্ক নাটক

হইলে প্রায় ১০০০০ বিক্ষিপ্ত এক্‌স-রশ্মির বিশ্লেষণ এবং ১০০০০ পদ বিশিষ্ট ফুরিয়ার শ্রেণীর আঙ্কিক সমাধান অপরিহার্য। ইহা কেবলমাত্র ডিজিট্যাল ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের সাহায্যেই সম্ভবপর। এই গবেষণার জন্য পেরুৎজ ও কেনড্র ১৯৬২ খ্রীষ্টাব্দে রসায়নে নোবেল প্রাইজের সম্মান লাভ করেন। এখন ক্রমশঃই স্পষ্ট হইতেছে যে, জীবনের রহস্য ভেদ করিতে হইলে অতিকায় জটিল ও বিবিধ প্রোটিন অণুকে সম্পূর্ণরূপে জানিতে হইবে। রাসায়নিক ও অন্যবিধ উপায়ে ইহাকে আংশিকভাবে জানিবার নানারূপ চেষ্টা হইয়াছে এবং হইতেছে। সেইসঙ্গে এইরূপ বৃহৎ অণুর আকৃতিগত বৈশিষ্ট্যও সম্যকরূপে জানা দরকার এবং এই কার্যে একমাত্র এক্‌স-রেই বিজ্ঞানীদের প্রধান সহায়।

 ভারতবর্ষে এক্‌স-রের গবেষণা: প্রথম মহাযুদ্ধের পূর্বে ও পরে ইওরোপের বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে এক্‌স-রে সংক্রান্ত গবেষণায় যে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার হয় ভারতবর্ষেও তাহার প্রভাব অনুভূত হইতে বিলম্ব হয় নাই। কলিকাতার ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দি কালটিভেশন অফ সায়েন্সের অধ্যাপক সি. ভি. রামনের নেতৃত্বে কে. এস. কৃষ্ণান, কে. আর. রামনাথন, কেদারেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, সি. এম. সোগানি, কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ তাহার সহকর্মীগণ এক্‌স-রে সংক্রান্ত গবেষণা শুরু করেন। তরল পদার্থ ও অনিয়তাকার কঠিন পদার্থের আভ্যন্তরীণ গঠনবৈচিত্র্য জানিবার উদ্দেশ্যে তাঁহারা এক্‌স-রের বিক্ষেপ ও বিভক্তির বিচার-বিশ্লেষণে উৎসাহিত হন। ন্যাপ্‌থালিন ও অ্যানথ্রাসিনের কেলাসাকৃতি নির্ণয় করেন কেদারেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্‌স-রে গবেষণায় অ্যাসোসিয়েশন প্রথম হইতেই এক অতি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করিয়া আছে।

 এক্‌স-রে বর্ণালি সংক্রান্ত গবেষণায় অগ্রণী হয় কলিকাতার ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ সায়েন্স এবং এই কাছে বিধুভূষণ রায়ের নাম সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য। এক্‌স-রে বর্ণালির উপর রাসায়নিক সংযোগের প্রভাব কিরূপ, এক্‌স-রের বিশোষণ-বর্ণালিতে (অ্যাবসর্প্‌শন স্পেক্‌ট্রাম) K, L ইত্যাদি বর্ণালির আকস্মিক ছেদ বা খাড়াই (edge) -এর পর অতি সূক্ষ্ম দ্বিতীয় মাত্রার যে সব লাইন পাওয়া যায় রাসায়নিক বা বাহ্যিক পরিবর্তনের সঙ্গে সেইসব লাইনের কিরূপ পরিবর্তন ঘটে, বিধুভূষণ রায় ও তাঁহার ছাত্রগণ এই জাতীয় বহু গবেষণা সম্পাদন করেন। দৃষ্টমান আলোকরশ্মির ক্ষেত্রে রামন যে জাতীয় বিক্ষেপ আবিষ্কার করিয়াছিলেন এক্‌স-রের ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবহার প্রদর্শন করেন বিধুভূষণের এক ছাত্র কমলাক্ষ দাশগুপ্ত। এক্‌স-রে সংঘাতজনিত প্রতিপ্রভা সম্পর্কে গবেষণা করেন

হর্ষনারায়ণ বসু, জগদীশ শর্মা ও তাঁহাদের সহকর্মীগণ। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর তত্ত্বাবধানে প্রথমে ঢাকায় এবং পরে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্‌স-রের নানা প্রকার গবেষণা হইয়াছে। তাঁহার এক সহকর্মী সুবোধ বাগচী এক্‌স-রে বিক্ষেপ ও কেলাসের মধ্যে ইলেকট্রন-ঘনত্বের বণ্টন ব্যবস্থা সম্বন্ধে মূল্যবান গবেষণা করিয়াছেন।

 বাঙ্গালুরের ইণ্ডিয়ান ইনষ্টিটিউট অফ সায়েন্সে আর. এস. কৃষ্ণান ও রামশেষন এবং মাদ্রাজে জি. এন. রামচন্দ্রন এক্‌স-রের বিভিন্ন বিভাগে নানারূপ মূল্যবান গবেষণা করেন। হীরকের প্রসারণ, প্রতিপ্রভা ও অন্যান্য গুণাগুণ সম্বন্ধে বিশদ গবেষণার দ্বারা রামচন্দ্রন পূর্বেই খ্যাতি লাভ করিয়াছিলেন। সম্প্রতি এক্‌স-রে পদ্ধতিতে কোলাজেনের আকৃতি ও কাঠামো নির্ণয় করিয়া তিনি আন্তর্জাতিক প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছেন। নানাবিধ জটিল জৈব ও অজৈব যৌগিকের কেলাসিত কাঠামো নিরূপণ করিয়াছেন রামশেষন ও তাহার সহকর্মীগণ।

 কলিকাতায় সাহা ইনষ্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্‌স্-এ এক্‌স-রে পদ্ধতিতে প্রোটিন-কোলাজেন, সুস্থ ও অসুস্থ অস্থি-র অন্তর্ভুক্ত বৃহৎ জৈব অণুর কাঠামো নির্ণয়সংক্রান্ত গবেষণা চলিতেছে।

দ্র A. H. Compton & S. K. Allison, XRays in Theory and Experiment, New York, 1935; P. P. Ewald, Fifty Years of X-Ray Diffraction, Utrecht, 1962.

সমরেন্দ্রনাথ সেন
একাঙ্ক নাটক একটিমাত্র অঙ্কের পরিসরে সমাপ্য এই শ্রেণীর নাটকে সংক্ষিপ্ত কালসীমায় বিধৃত জটিলতাহীন এমন একটি কাহিনী বা পরিস্থিতি রূপায়িত হয়, যাহাতে দর্শক এক অখণ্ড অভিজ্ঞতার স্বাদ পায়। কাহিনীর ধারায় পর্যায়ক্রমে চরিত্র বিকশিত করিয়া তুলিবার সুযোগ থাকে না। নাট্যীয় তাৎপর্যময় সংক্ষিপ্ত সংলাপের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ঘটনা ও চরিত্র উপস্থাপন করা হয়। একাঙ্ক নাটক আধুনিক কালেই বিশেষভাবে সমাদৃত হইলেও সংস্কৃত ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে ইহার প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায়। ভরতের নাট্যশাস্ত্রে ভাণ, ব্যায়োগ, অঙ্ক, প্রহসন ও বীথী, এই পাঁচ প্রকার একাঙ্ক নাট্যের উল্লেখ আছে। সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যেও একাঙ্ক নাট্যের নিদর্শন বর্তমান। তথাপি ভারতীয় সাহিত্যে ও মঞ্চে সাম্প্রতিক কালে একাঙ্ক নাট্যের প্রচলন পাশ্চাত্ত্যপ্রভাবজাত। পাশ্চাত্যের ঐতিহ্যেও প্রাচীন গ্রীক নাটক

২৭