বিদ্যা সংক্রান্ত বাংলা পরিভাষা সম্বন্ধে তাঁহার কয়েকটি প্রস্তাব সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকায় (১৭ বর্ষ, ১৮ বর্ষ, ৩১ বর্ষ) প্রকাশিত হইয়াছিল। ১৩৪১ বঙ্গাব্দে একেন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়।
এগ্গেলিং, য়ুলিউস (১৮৪২-১৯১৮ খ্রী) প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ পাশ্চাত্য পণ্ডিত। জার্মানির বের্নবুর্গ-এ জন্ম। ১৮৬৭ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে ব্রেসলাউ এবং বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নাদি সমাপন করিয়া তিনি মাক্স মলের-এর তত্ত্বাবধানে প্রাচ্যবিদ্যা গবেষণায় রত থাকেন (১৮৬৭-৬৯ খ্রী)। ১৮৬৯ হইতে ১৮৭৫ খ্রী পর্যন্ত তিনি রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির গ্রন্থাগারিক ও সম্পাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন। ইহার মধ্যে কিছু সময় (১৮৭২-৭৫ খ্রী) তিনি লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতের অধ্যাপকও ছিলেন। ১৮৭৫ খ্রীষ্টাব্দে এডিনবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত ও তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন। এই সমস্ত পদে থাকাকালীন তিনি সংস্কৃত, প্রাকৃত প্রভৃতি পুথিচর্চায় পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি দুই খণ্ডে বর্ধমান-বিরচিত গণরত্নমহোদধির এক সংস্করণ প্রকাশ করেন (১৮৭৯, ১৮৮১ খ্রী)। সাত খণ্ডে (১৮৮৭-১৯০৪ খ্রী) ইণ্ডিয়া অফিস লাইব্রেরির পুথিসংগ্রহের এক বর্ণনাত্মক বিবরণীও বাহির করেন। তাঁহার রচনাবলীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ‘সেক্রেড বুক্স অফ দি ঈস্ট’ গ্রন্থমালার অন্তর্ভুক্ত মাধ্যন্দিনশাখান্তর্গত শতপথব্রাহ্মণের ইংরেজী অনুবাদ (পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত ১৮৮২-১৯০০ খ্রী)। ১৯১৩ তিনি লণ্ডন হইতে মহাভারতের নল-দময়ন্তী উপাখ্যানের একটি ইংরেজী সংস্করণ বাহির করেন। মৃত্যু ১৯১৮ খ্রীষ্টাব্দের ১৩ মার্চ।
করিয়াই মার্ক্স ও এঙ্গেল্স পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হন। এঙ্গেল্স-এর পিতা ১৮৪২ খ্রীষ্টাব্দে তাঁহাকে ম্যান্চেস্টারে তাঁহাদের একটি সুতাকলে কাজ করিতে পাঠান। ইংল্যাণ্ডে যাইবার পথে ক্যাল্ন্ (কোলোন) -এ মার্ক্স-এর সহিত তাঁহার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তখন হইতে উভয়ের মধ্যে নিয়মিত পত্রালাপ শুরু হয়। এঙ্গেল্স ১৮৪৪ খ্রীষ্টাব্দে আগস্ট মাসের শেষে পারীতে (প্যারিস) মার্ক্স-এর সহিত দেখা করেন। এই সাক্ষাৎকারের পর হইতেই উভয়ের প্রসিদ্ধ সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সূত্রপাত। মার্ক্স-এঙ্গেল্সের সৌহার্দ্য তাঁহাদের জীবনের সকল ব্যাপারে সক্রিয় ছিল। নিদারুণ অর্থাভাব হইতে যথাসম্ভব মুক্ত থাকিয়া মার্ক্স যাহাতে আরব্ধ কার্য সম্পন্ন করিতে পারেন তাহার জন্য এঙ্গেল্সের চেষ্টার অবধি ছিল না।
তিনি ১৮৪৫-৫০ খ্রীষ্টাব্দে ফ্রান্স, জার্মানি ও বেলজিয়ামে বৈপ্লবিক শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। বাডেন-এর বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানে (১৮৪৯ খ্রী) এঙ্গেল্স প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণ করিয়াছিলেন। বিপ্লবীদের পরাজয়ের পর তিনি ইংল্যাণ্ডে প্রত্যাবর্তন করেন। এঙ্গেল্স ১৮৫০-৬৯ খ্রী পর্যন্ত ম্যান্চেস্টারে পৈতৃক ব্যবসায়ে লিপ্ত ছিলেন। ১৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দে বিষয়কর্ম হইতে অবসর গ্রহণের পর তাঁহার অবশিষ্ট জীবন রাজনীতিতে ও লেখার কাজে অতিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন প্রথম ইণ্টারন্যাশন্যালের তিনি নেতৃপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং গোড়ার দিকে দ্বিতীয় ইণ্টারন্যাশন্যালের কাজেও তিনি সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন।
প্রকৃতি, সমাজ ও ইতিহাসের গতি বিশ্লেষণে মার্ক্সবাদের সার্থকতা পরীক্ষা ও প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে এঙ্গে্সের দান স্মরণীয়। মার্ক্স-এঙ্গেল্স কর্তৃক যুগ্মভাবে প্রণীত প্রথম গ্রন্থ হইল: ‘দি হাইলিগে ফামিলিয়ে’ (পবিত্র পরিবার, ফ্রাঙ্কফুর্ট, ১৮৪৫ খ্রী)। ব্রুনো বাউয়ের প্রমুখ হেগেলপন্থীদের বাস্তববোধহীন ভাববাদী দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা ও বৈপ্লবিক বস্তুবাদের প্রতিপাদন এই গ্রন্থের উপজীব্য। একমাত্র শ্রমিকশ্রেণীর দ্বারাই যে সমাজের বৈপ্লবিক রূপান্তর সম্ভব এই প্রত্যয়ও উক্ত গ্রন্থে বিবৃত। যে গ্রন্থ রচনার পর এঙ্গেল্স-এর খ্যাতি ইওরোপময় ছড়াইয়া পড়ে তাহার নাম ‘দি লাগে দের্ আর্বাইটেন্ডেন ক্লাসে ইন্ এংলাণ্ড’ (ইংল্যাণ্ডে শ্রমিকশ্রেণীর অবস্থা, লাইপ্ৎসিক, ১৮৪০ খ্রী)। ধনতান্ত্রিক সমাজে ধনিকশ্রমিক বিরোধের স্বরূপ এবং শ্রমিকশ্রেণীর অবস্থা এই গ্রন্থে বিশ্লেষিত হইয়াছে। ‘মানিফেস্ট দের্ কমুনিস্টিশেন্ পার্টাই’ (কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তাহার, লণ্ডন, ১৮৪৮ খ্রী)
২৯