বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এনায়েৎ খাঁ
এভারেস্ট

অলংকরণের সূত্রপাত হইয়াছে বলিয়া দেখা যায়। প্রাচীন মিশর ও আসিরিয়া -বাসীগণ যে এনামেল অলংকরণে বিশেষ পারদর্শী হইয়াছিল তাহার প্রচুর প্রমাণ আছে। তেলএল্-য়িহুদিয়াতে তৃতীয় রামেসিজ়-এর প্রাসাদে এনামেলবিন্যস্ত কক্ষপ্রাচীর বিশেষ আকর্ষণীয় নিদর্শন। ব্যাবিলনে নিমরডের প্রাসাদে মিনাশিল্পের যে নিদর্শন আছে তাহার তুলনা নাই।

 ভারতবর্ষে সাধারণ তৈজসপত্র ও আসবাবের এনামেল কারখানা সর্বপ্রথম ১৯২১ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতার কাছে পল্‌তা গ্রামে ‘বেঙ্গল এনামেল ওয়ার্কস’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

কানাইলাল মুখোপাধ্যায়

এনায়েৎ খাঁ এমদাদ খাঁ দ্র

এফিড্রা ভৈষজ্য উদ্ভিদ এ

এভারেস্ট হিমালয়ের মধ্যস্থ মহালাঙ্গুর-হিমালের অন্তর্গত পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া (৮৮৪৮ মিটার, ২৯০২৮ ফুট) নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত (২৭°৫৯′ উত্তর, ৮৬°৫৬′ পূর্ব)। স্থানীয় নাম ‘চোমোলুংমা’ (অর্থাৎ জগৎ-মাতা)। ১৮৪৯-৫০ খ্রীষ্টাব্দে প্রথম জরিপের সময় ইহা ‘১৫ নম্বর শৃঙ্গ’ নামে অভিহিত হয়। ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দে ভারতীয় জরিপ বিভাগ, রাধানাথ শিকদার ও অন্যান্যদের পরামর্শক্রমে পূর্ববর্তী সার্ভেয়র-জেনারেল জর্জ এভারেস্টের নামানুসারে বর্তমান নামকরণ করেন। হিমালয়ের এই অঞ্চলে ৫৪৮৬ মিটারের (১৮০০০ ফুট) ঊর্ধ্বে চিরতুষারের রাজ্য। প্রবল তুষারঝক্কা, হিমানীসম্প্রপাত ও শিলাচূর্ণআচ্ছন্ন পর্বতগাত্র যাত্রাপথকে বিপদ-সংকুল করিয়াছে।

 ১৯২১ খ্রীষ্টাব্দে প্রথম এভারেস্ট আরোহণের চেষ্টা হয়। ঐ বছর হাওয়ার্ড ব্যরির দল তিব্বত হইতে উত্তর দিক দিয়া এভারেস্টে উঠিবার পথ আবিষ্কার করেন। পরের বছরই ঐ পথে পরবর্তী দলের নেতা ব্রুস পর্বতারোহী ফিঞ্চের সঙ্গে ৮৩২৭ মিটার (২৭৩০০ ফুট) পর্যন্ত উঠিতে সমর্থ হন। ১৯২৪ খ্রীষ্টাব্দে নর্টনের নেতৃত্বে ম্যালরি ও আর্‌ভিং ৮৫৪০ মিটারের (২৮০০০ ফুট) উপর উঠিয়া তুষার ঝড়ে চিরনিরুদ্দেশ হইয়া যান। ১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দে রাট্‌লেজের দল আবার উঠিবার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। ১৯৩৪ খ্রীষ্টাব্দে উইলসন নামে একজন ইংরেজ একাকী উঠিতে গিয়া প্রাণ হারান। তার পর ১৯৩৫, ১৯৩৬ এবং ১৯৩৮ খ্রীষ্টাব্দে যথাক্রমে শিপ্‌টন, রাট্‌লেজ এবং টিল্‌ম্যানের দল এভারেস্ট আরোহণের চেষ্টায় ব্যর্থকাম হন। এভারেস্টের
এই দুর্গম পথে এ যাবৎ ৪ জন ইংরেজ, ১ জন গুর্খা, ৮ জন শেরপা— মোট ১৩ জন আরোহী প্রাণ দিয়াছেন।

 দক্ষিণ দিক দিয়া নেপাল হইতে এভারেস্টে উঠিবার পথের নিশানা বাহির করেন শিপ্‌টনের দল ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দে। পরের বছরই এই পথে সুইট্‌জারল্যাণ্ডের দুইটি অভিযাত্রীদল ভিস্-ডুনাণ্ট এবং শেভালের নেতৃত্বে পৃথকভাবে দুইবার এভারেস্ট অভিযান করেন এবং ল্যাম্‌বার্ট ও ভারতীয় এভারেস্ট বিজয়ী তেন্‌জ়িঙ নোর্কে ৮৬১৬ মিটার (২৮২৫০ ফুট) পর্যন্ত উঠিয়া বিফল হইয়া আসেন। পরের বছর (১৯৫৩ খ্রী) হাণ্টের অধিনায়কত্বে তেন্‌জ়িঙ এবং এডমণ্ড হিলারি সর্বপ্রথম এভারেস্ট জয় করেন।

 ১৯৫৬ খ্রীষ্টাব্দে এগ্‌লারের অধীনে সুইস আরোহীরা দুইবার চূড়ায় উঠেন, প্রথমে স্মিট ও মার্‌মাট, পরে বাইস্ট ও রোডল্‌ফ। ১৯৬০ খ্রীষ্টাব্দে চীনা আরোহীরাও উত্তর দিক হইতে এভারেস্টে উঠিতে সফল হন বলিয়া তাঁহারা দাবি করেন। ১৯৬০ এবং ১৯৬২ সালে যথাক্রমে জ্ঞান সিং এবং ডায়াজের নেতৃত্বে ভারতীয় পর্বতারোহীগণ ৮৬৩২ মিটার (২৮৩০০ ফুট) এবং ৮৭২৪ মিটার (২৮৬০০ ফুট) পর্যন্ত উঠিয়াও দুর্ভাগ্যক্রমে তুষারঝঞ্ঝায় পড়িয়া পশ্চাদপসরণ করিতে বাধ্য হন।

 ১৯৬৩ সালে ডিরেনফর্টের নেতৃত্বে একটি আমেরিকান দলের ছয়জন অভিযাত্রী পর পর তিনবার এভারেস্টে আরোহণ করেন। প্রথমবারে হুইটেকার ও শেরপা গোম্বু দক্ষিণ দিক হইতে উঠেন। কিছুদিন পরে পশ্চিম দিকের দুর্গম পথে আন্‌সোল্ড ও হর্নবিন এবং দক্ষিণ হইতে বিশপ ও জারস্ট্যাড এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন।

 ১৯৬৫ খ্রীষ্টাব্দে কোহ্‌লির নেতৃত্বে ভারতীয় দল পৃথিবীর মধ্যে সর্বপ্রথম পর পর চারবার এভারেস্টের চুড়ায় উঠিবার গৌরব অর্জন করেন। ২০ মে তারিখে দুইজন পর্বতারোহী—গোম্বু এবং চীমা, প্রথম উঠিতে সমর্থ হন। গোম্বুই পৃথিবীতে একমাত্র ব্যক্তি যিনি দ্বিতীয়বার এভারেস্টে উঠিলেন। ইহার পর ২২ মে তারিখে গ্যাট্‌সো এবং ওয়াংগ্যাল, ২৪ মে ভোরা এবং আংকামি এবং শেষে ২৯ মে তারিখে আলুওয়ালিয়া, রাওয়াত এবং নেপালী পর্বতারোহী ফু দোর্জি এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন।

দ্র S. G. Burrard & H. H. Hayden, A Sketch of the Geography and Geology of the Himalayas and Tibet, Delhi, 1933-34; Sir John Hunt, The Ascent of Everest, London, 1953; B. L. Gulatee, The Height of Mount Everest, A New

৩৬