বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এরাতোস্থেনেস
এরিয়ান ক্লাব

করা সপ্তদশ শতাব্দীর ওলন্দাজ প্রাসাদ এবং সুবৃহৎ কোঙ্কণী তিরুমল দেবস্বম্ মন্দিরের নাম করা যাইতে পারে।

 আলওয়ে স্বাস্থ্যনিবাস এবং শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র। আলওয়ে নদীতীরে কালাডি নামক গ্রামে সুবিখ্যাত পণ্ডিত, ধর্মসংস্কারক ও দার্শনিক শংকরাচার্য অষ্টম শতাব্দীতে জন্মগ্রহণ করেন। এখানে শংকরাচার্য, দেবী সারদা এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মন্দির আছে। প্রাচীন পর্তুগিজরা আলওয়ে নদীতে অবগাহন করিতে ভালবাসিতেন। এবং এই কারণে ইহা তাঁহাদিগের নিকট ‘ফিয়েরা দালভা’ আখ্যা লাভ করিয়াছিল। নদীতীরে শিবালয়ে শিবরাত্রির দিনে বহু পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে। ত্রিপুন্নিত্তুরে অনেক প্রাসাদ ও পূর্ণত্রয়ীশের মন্দির আছে। এখানে বৎসরে দশদিনব্যাপী তিনটি ‘উৎসবম’ অনুষ্ঠিত হয়।

দ্র Madras District Gazetteers: Malabar and Anjengo, vol. 1, Madras, 1908: C. Achyuta Menon, The Cochin State Manual, Ernakulam, 1911; P. M. Thomas ed. Inside Ernakulam, Trichur, 1950; Census of India: Paper No. 1 of 1962 1961 Census: Final Population Totals, Delhi, 1962.

তারাপদ মাইতি
এরাতোস্থেনেস, এরাটোস্থিনিস (আনুমানিক ২৭৬-১৯৪ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) গ্রীক বিজ্ঞানী। জন্মস্থান সিরিনী; আলেক্‌সান্দ্রিয়ায় ব্যাকরণ ও আথেন্সে দর্শনশাস্ত্র শিক্ষা করেন। শিক্ষাশেষে আলেক্‌সান্দ্রিয়াতেই প্রধান গ্রন্থাগারিকের পদে বৃত ছিলেন। ‘গেওগ্রাফিকা’ (ভূগোল) গ্রন্থে তিনি ভূগোলের গাণিতিক বিষয়গুলির আলোচনা প্রবর্তন করেন। তিনিই সর্বপ্রথম পৃথিবীর পরিধি নিরূপণ করেন এবং ইহাই বিজ্ঞানে তাঁহার সর্বশ্রেষ্ঠ দান। তাঁহার দ্বিতীয়বারের ও সর্বশেষ পরিমাপ অনুযায়ী পৃথিবীর পরিধি ২৫২০০০ স্তাদিআ (১ স্তাদিওন=প্রায় ১৮০ মিটার)। গ্রীক জ্যামিতিবিদ্ পাপ্‌পুস-এর (খ্রীষ্টীয় তৃতীয় শতক) সাক্ষ্য হইতে জানা যায় ‘পেরিমেসোতেতোন’ (মধ্যক সংখ্যা, mean) নামে দুইখানি অধুনালুপ্ত গণিতগ্রন্থ তিনি প্রণয়ন করেন। মৌলিক সংখ্যা নির্ণয়ের একটি পদ্ধতি তিনি আবিষ্কার করিয়াছিলেন। ইহা ‘কস্‌কিনন’ (চালুনি) নামে খ্যাত। পাশ্চাত্ত্যে তাঁহাকে সন-তারিখ নির্ণয়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আবিষ্কারক হিসাবেও গণ্য করা হয়। ট্রয়-বিজয়ের তারিখ
হইতে হিসাব করিয়া রাজনৈতিক ও সাহিত্য সংক্রান্ত প্রধান প্রধান ঘটনার কালক্রম নির্ধারণের তিনি চেষ্টা করিয়াছিলেন। গ্রীক কমেডি সম্বন্ধে তাঁহার তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনাটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। দর্শন ও ইতিহাস -বিষয়ক কয়েকটি গ্রন্থও তাঁহারই রচনা বলিয়া মনে করা হয়।


এরিয়ান ক্লাব ফুটবল ক্রিকেট প্রভৃতি ক্রীড়া চর্চার বাঙালী প্রতিষ্ঠান। ১৮৮৪ খ্রীষ্টাব্দে উত্তর কলিকাতার রামধন মিত্র লেন সংলগ্ন একটি ছোট মাঠকে আশ্রয় করিয়া ইহার সূচনা হইলেও প্রকৃতপক্ষে ১৮৯৪ খ্রীষ্টাব্দে ইহা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। পল্লীর দেবেন্দ্রনাথ মিত্র ইহার গোড়াপত্তন করেন। তাহার ও দেবেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় ইহার শ্রীবৃদ্ধি হইতে থাকে। স্থাপিত হইবার কিছুকাল পরে প্রায় একই সময়ে পরবর্তী কালে ক্রীড়াজগতে স্বনামধন্য দুখীরামবাবু এবং রামদাস ভাদুড়ী ইহাতে যোগদান করেন। ইহারা শুধু কৃতী খেলোয়াড়ই ছিলেন না, ক্রীড়াশিক্ষাবিদ হিসাবে দুইজনেরই বিশেষ খ্যাতি ছিল। ইহাদের দুইজনের শিক্ষাগুণে ক্লাবটি ফুটবল ও ক্রিকেট উভয় খেলাতেই শক্তিশালী দল হিসাবে পরিচিত হইতে আরম্ভ করে। রামদাস ভাদুড়ী ক্লাব ছাড়িয়া যাইবার পর ১৮৯৪ খ্রীষ্টাব্দে ক্রীড়ামোদী অধ্যাপক সারদারঞ্জন রায়ের উপদেশানুসারে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্লাবটি পরিচালিত হইতে আরম্ভ করে; পরবর্তী কালে এলাহাবাদ ক্রিষ্টিয়ান কলেজের গণিতের অধ্যাপক, নলিনী মিত্র ইহার প্রথম সম্পাদক নির্বাচিত হন। দুখীরাম-বাবুর শিক্ষাগুণে অনেক নূতন খেলোয়াড় তৈয়ারি হয়, ফলে দল হিসাবে ক্লাব ক্রমশঃ জনপ্রিয়তা অর্জন করিতে থাকে। বিখ্যাত ফুটবল প্রতিযোগিতাসমূহে বারংবার বিজয়ী হইবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করিতে না পারিলেও গুণী খেলোয়াড় সন্ধান করিয়া শিক্ষাদ্বারা তাহাকে কৃতী খেলোয়াড়ে উন্নীত হইতে সাহায্য করিবার জন্যই এরিয়ান ক্লাব সমধিক খ্যাত। ১৯১৫ খ্রীষ্টাব্দে এই ক্লাব ক্যালকাটা ফুটবল লীগ-এর দ্বিতীয় ডিভিসনে খেলিতে আরম্ভ করে ও ১৯১৬ খ্রীষ্টাব্দে উহার প্রথম ডিভিসনে উন্নীত হয়। ১৯৪১ খ্রীষ্টাব্দে আই. এফ. এ. শীল্ড বিজয়ী এবং ১৯৫৬ খ্রীষ্টাব্দে ইহার রানার্‌স-আপ হয়।

 ক্রিকেটের ক্ষেত্রে শক্তিশালী দল হিসাবে ক্লাবটি স্বাধীনতালাভের পূর্বযুগ পর্যন্ত বিশেষ খ্যাতির অধিকারী ছিল। তৎকালীন প্রতিনিধিমূলক অল্প যে কয়েকটি প্রতিযোগিতা ছিল তাহাতে এই ক্লাব হইতে খেলোয়াড় চয়ন

৩৯