বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এরিয়াল
এরোপ্লেন

অবশ্যকরণীয় ছিল। প্রাদেশিক, সর্বভারতীয় ও বহির্ভারতীয় সফরকারী ক্রিকেট দলে ক্লাবের খেলোয়াড় নির্বাচিত হইয়াছে। হকি খেলায় প্রথম দিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায় নাই, তবে উত্তরপর্বে বি. এইচ. এ. পরিচালিত লীগ ও বেটন কাপ প্রতিযোগিতায় ক্লাব অংশ গ্রহণ করিয়াছে। সম্প্রতি ক্লাব কর্তৃক একটি বাৎসরিক অ্যাথলেটিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হইতেছে। ১৯১২ খ্রীষ্টাব্দে গড়ের মাঠে বর্তমান টাউন ক্লাব-এর মাঠে ক্লাব প্রথম তাঁবু প্রতিষ্ঠা করিতে সক্ষম হয়। প্রথম দিকে সাধারণতঃ শ্যাম পার্ক ও পরে দেশবন্ধু পার্কে ওভাল মাঠে ক্লাবের আমন্ত্রিত ক্রিকেট ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হইত। ১৯৬৩ খ্রীষ্টাব্দে ঈস্টবেঙ্গল ক্লাব-এর সহিত মাঠের অংশভোগী হইবার পূর্বে মহামেডান ক্লাবের মাঠের অংশী থাকাকালীন সভ্যগণের জন্য দর্শকমঞ্চ প্রথম স্থাপিত হয়। ক্লাবের বর্তমান (১৯৬৪ খ্রী) সভ্য-সংখ্যা ২৫০০।

কমল ভট্টাচার্য

এরিয়াল বেতার দ্র

এরোপ্লেন সুদূর অতীতকালে পৃথিবীর সুপ্রাচীন সভ্যদেশগুলির মহাকাব্যে ও পৌরাণিক কাহিনীতে আকাশযানের বিষয়ে কল্পনার পরিচয় পাওয়া যায়। উড্ডীয়মান পক্ষী দেখিয়া আদিম কাল হইতে মানুষের মনে শূন্যলোকে উড়িবার বাসনা জাগা স্বাভাবিক। সেই বাসনার বশবর্তী হইয়া ইওরোপের রেনেসাঁস যুগের মনীষী এবং শিল্পী লেওনার্দো দা ভিঞ্চি সর্বপ্রথম এরোপ্লেনের পরিকল্পনা করেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে গণিতশাস্ত্র-বিশারদ জোভান্নি বাত্তিস্তা দাস্তি যন্ত্রবিহীন এরোপ্লেন বা গ্লাইডার নির্মাণ করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে জর্জ ক্যাল ও উইলিয়াম স্যামুয়েল হেন্‌সনের যুগ্মপ্রচেষ্টার ফলে শক্তিপরিচালিত বৃহৎ-যন্ত্রবিশিষ্ট এরোপ্লেন নির্মিত হইল। ওটো লিলিয়েনটাল গ্লাইডারের উন্নতি করেন এবং একপাখাযুক্ত এরোপ্লেন নির্মাণ করিয়া তাহার সাহায্যে ১১.৪৪ মিটার উর্ধ্বে উঠিতে সক্ষম হন। বিংশ শতাব্দীর সূচনায় রাইট ভ্রাতৃদ্বয় তাঁহাদের গবেষণাকার্য শুরু করেন ও লিলিয়েনটালের অসমাপ্ত কার্য সফল করিয়া তোলেন। ১৯০৩ খ্রীষ্টাব্দে শক্তিপরিচালিত এরোপ্লেন উড়ানোর কাজ সম্ভব হয়। প্রথম মহাযুদ্ধে সামরিক কার্যে ইহার প্রয়োজন বিপুলভাবে অনুভূত হওয়ায় ইহার গবেষণাকার্য দ্রুত চলিতে থাকে এবং অচিরে উন্নত শ্রেণীর এরোপ্লেন নির্মিত হয়।

 প্রথম মহাযুদ্ধের সময় হইতেই ভারতে এরোপ্লেনের

প্রচলন হয়। ঐ সময়ে ইন্দ্রলাল রায় নামে জনৈক বাঙালী যুবক প্রথম ভারতীয় বৈমানিকরূপে ইংল্যাণ্ডে ‘রয়্যাল ফ্লাইং কোর্’-এ যোগদান করেন। ১৯২০ খ্রীষ্টাব্দ হইতে ভারত ও ইংল্যাণ্ডের মধ্যে ডাকবাহী এরোপ্লেনের নিয়মিত চলাচল আরম্ভ হয়। ১৯২৮ খ্রীষ্টাব্দে দিল্লী, বোম্বাই, কলিকাতা এবং করাচিতে ফ্লাইং ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে স্বাধীনতার পর হইতে ভারতে বিমান বিভাগের সুগঠনের নিমিত্ত প্রচেষ্টা চলিতেছে। বর্তমানে ভারতে বিমান নির্মাণের কারখানা গড়িয়া উঠিয়াছে এবং এভিয়েশন এঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাদানকল্পে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হইয়াছে। এইরূপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে ‘এয়ার টেক্‌নিক্যাল ট্রেনিং ইন্‌স্টটিউট’ বাংলা দেশেই প্রথম গড়িয়া ওঠে।

 এরোপ্লেন বলিতে মহাশূন্যে উড়িতে সক্ষম যন্ত্রশক্তিপরিচালিত স্থায়ী পাখাবিশিষ্ট ব্যোমযানকে বুঝায়। এরোপ্লেনের প্রধান অংশগুলি নিম্নে বর্ণিত হইল: ১. ফিউসিলেজ—ইহা এরোপ্লেনের প্রধান কাঠামো। ইহার মধ্যেই চালকের বসিবার স্থান, মালপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বস্তু প্রভৃতি থাকে। ছোট এরোপ্লেনের কাঠামোর মধ্যেই থাকে এঞ্জিনের যন্ত্রপাতি এবং চালকের বসিবার স্থান। এই কাঠামোর সহিত দৃঢ়ভাবে সংবদ্ধ থাকে পাখা এবং পুচ্ছ (টেলপ্লেন)। যে এরোপ্লেনের কাঠামোয় একখানি পাখা যুক্ত থাকে তাহাকে মনোপ্লেন বলে। এই পাখা এরোপ্লেনের কাঠামোর উপরিভাগে সংযুক্ত হইলে সেরূপ এরোপ্লেনকে হাইওয়ে উইং মনোপ্লেন ও কাঠামোর নিম্নভাগে সংযুক্ত হইলে তাহাকে লোওয়ে উইং মনোপ্লেন বলা হয়। কাঠামোয় দুইখানি পাখা সংযুক্ত থাকিলে তাহাকে বাইপ্লেন বলে। ২. ডানা (উইংস)—এরোপ্লেনের প্রধান অঙ্গস্বরূপ। ডানাগুলি এরোপ্লেনকে উপরে উড়িতে সাহায্য করে। ডানার সঙ্গে সংযুক্ত উপডানা বা এলেরন (aileron) এরোপ্লেনকে পার্শ্বাভিমুখী হইয়া উড়িবার সময় সাহায্য করে। ৩. পুচ্ছ (টেলপ্লেন)—ইহার উত্তোলক যন্ত্র (এলিভেটর) এরোপ্লেনের সম্মুখ ও পশ্চাতের স্থায়িত্ববিধান করে। পুচ্ছের সহিত উপপাখা (সাবসাইডিং এয়ারফয়েল) সংযুক্ত থাকে। 8. উত্তোলক যন্ত্র (এলিভেটর)—এই যন্ত্র এরোপ্লেনের গতিনিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ৫. টেল্‌ফিন ও রাডার বা হাল—ইহারা এরোপ্লেনকে তাহার গতিপথে স্থির থাকিতে সাহায্য করে এবং কেন্দ্রীভূত গতিরেখায় এরোপ্লেনের ভারসাম্য রক্ষা করে। বৃহদাকার এরোপ্লেনের ফিনের সংখ্যা দুই বা ততোধিক। ৬. ফ্ল্যাপ—ডানার সহিত

৪০