বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এল্‌উইন, হ্যারি ভেরিয়র হল্‌ম্যান
এল্‌ফিন্‌স্টোন, মাউণ্টস্টুয়ার্ট

ভারতবর্ষে প্রত্যাবর্তনে বাধা দেন। অবশেষে রাজনীতির সহিত সম্পর্ক ছেদ করিবেন এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তাঁহাকে ভারতে ফিরিতে দেওয়া হয়।

 যমুনালাল বাজাজের সহিত গুজরাতে ভ্রমণকালে তাঁহার বন্ধুত্ব ঘটিয়াছিল। তাঁহারই অনুরোধক্রমে এবং নাগপুরের বিশপের পরামর্শে আদিবাসীদের সেবার্থে মান্দলা জেলায় করঞ্জিয়া গ্রামে গণ্ড সেবামণ্ডল স্থাপন করিয়া কয়েক বৎসর নানাবিধ সেবাকার্য পরিচালনা করেন।

 গণ্ডজাতির বিষয়ে গবেষণাপ্রসূত পুস্তক লেখার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ডি. এসসি. উপাধি লাভ করেন। ১৯৪২ খ্রীষ্টাব্দে ওয়েলকাম পদকও প্রাপ্ত হন। ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দে রয়্যাল অ্যানথ্রোপলজিক্যাল ইন্‌স্টিটিউট তাঁহাকে রিভার্স পদকে ভূষিত করেন। এশিয়াটিক সোসাইটি হইতে ১৯৪৫ খ্রীষ্টাব্দে শরৎচন্দ্র রায় পদক ও ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দে অ্যানান্‌ডেল পদক লাভ করেন। অক্টোবর ১৯৪৬ হইতে এপ্রিল ১৯৪৯ পর্যন্ত অ্যানথ্রোপলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়ার ডেপুটি ডিরেক্‌টর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

 ১৯৪৩-৪৮ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত শরৎচন্দ্র রায়ের ‘ম্যান ইন ইণ্ডিয়া’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভ্য ছিলেন। এই সময়ে ওড়িশাতে আদিবাসীদের মধ্যেও কিছু গবেষণা করেন।

 ইহার পরে, জওহরলালের অনুমোদনে আসামের রাজ্যপালকে আদিবাসীদের বিষয়ে পরামর্শ দিবার জন্য চাকুরিতে নিযুক্ত হন এবং মৃত্যুকাল পর্যন্ত সেই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

 ১৯৫৯ খ্রীষ্টাব্দে ‘এ ফিলসফি ফর নীফা’ নামে স্বীয় অভিজ্ঞতাপ্রসূত এক পুস্তক লেখেন। ১৯৬০ খ্রীষ্টাব্দে তফসিলভুক্ত এলাকা ও তফসিলভুক্ত আদিবাসীদের বিষয়ে এক কমিশনের সভাপতিত্ব করেন।

 উপরি-উক্ত পুস্তকাদি ভিন্ন মধ্য ভারত ও ওড়িশার আদিবাসীদের বিষয়ে তাঁহার বহু গ্রন্থ এবং একটি আত্মজীবনী ‘দি ট্রাইবাল ওয়ালর্ড অফ ভেরিয়র এউইন’ (১৯৬৪ খ্রী) প্রকাশিত হইয়াছে। উত্তম সাহিত্যিক হিসাবে তাঁহার যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।

 ১৯৬১ খ্রীষ্টাব্দে ভারত সরকার তাঁহাকে পদ্মভূষণ উপাধি দেন। ১৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দে দিল্লীতে অকস্মাৎ হৃদ্‌রোগে এল্‌উইনের তিরোধান ঘটে। তাঁহার রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘লীভ্‌স ফ্রম দি জাঙ্গল্‌: লাইফ ইন এ গণ্ড ভিলেজ’ (১৯৩৬ খ্রী), ‘দি বইগা’ (১৯৩৯ খ্রী), ‘দি অগারিয়া’

(১৯৪২ খ্রী), ‘দি মুরিয়া অ্যাণ্ড দেয়ার ঘোতুল’ (১৯৪৭ খ্রী)।

দ্র Shamrao Hivale, Scholar Gypsy: A Study of Verrier Elwin, Bombay, 1946.

নির্মলকুমার বসু

এল্‌ফিন্‌স্টোন, মাউণ্টস্টুয়ার্ট (১৭৭৯-১৮৫৯ খ্রী) ১৭৭৯ খ্রীষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর ইংল্যাণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। এডিন্‌বরা ও কেনসিংটনে শিক্ষালাভ করিয়া তিনি ঈস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির ‘রাইটার’-এর চাকুরি লইয়া ১৭৯৫ খ্রীষ্টাব্দে ভারতে আসেন। বারাণসীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সহকারী রূপে কার্যকালে ইনি ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাসের প্রতি আকৃষ্ট হন ও তৎসংক্রান্ত পুস্তকাদি যত্নসহকারে অধ্যয়ন করিতে থাকেন। ভারতীয় ইতিহাসের প্রতি এল্‌ফিন্‌স্টোনের এই অনুরাগ আজীবন অব্যাহত ছিল। পুনায় পেশোয়া বাজীরাও-এর দরবারে এজেণ্টের সহকারী (১৮০১ খ্রী) ও রেসিডেণ্ট (১৮১১ খ্রী), নাগপুরে ভোঁসলার দরবারে রেসিডেণ্ট (১৮০৪-০৮ খ্রী), কাবুলে ভারত সরকারের প্রতিনিধি (১৮০৯ খ্রী) প্রভৃতি বিভিন্ন পদে কার্য করার পর ভারত সরকার এল্‌ফিন্‌স্টোনকে বোম্বাই প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত করেন (১৮১৯-২৭ খ্রী)। মারাঠা শক্তিকে পর্যুদস্ত করিয়া ঐ অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে এল্‌ফিন্‌স্টোন যথেষ্ট দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। বোম্বাই প্রদেশে শিক্ষাবিস্তারকার্যেও তিনি প্রভূত সহায়তা করেন। শিক্ষাবিস্তারে এল্‌ফিন্‌স্টোনের উৎসাহ ও সহায়তাকে স্মরণীয় করার জন্য বোম্বাই শহরে ‘এল্‌ফিন্‌স্টোন কলেজ’ নামে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হইয়াছিল। ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের পথিকৃৎ হইলেও এল্‌ফিন্‌স্টোন উদারহৃদয় ও সুবিবেচক শাসক রূপে খ্যাতিলাভ করেন। ১৮২৭ খ্রীষ্টাব্দে গভর্নরের পদ হইতে অবসর গ্রহণ করিয়া এল্‌ফিন্‌স্টোন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এল্‌ফিন্‌স্টোনকে দুইবার গভর্নর জেনারেলের পদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি ঐ পদ প্রত্যাখ্যান করিয়া একান্তভাবে ভারতের ইতিহাস সাধনাতেই আত্মনিয়োগ করেন। এল্‌ফিন্‌স্টোন দীর্ঘকাল লণ্ডনে রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির সহ-সভাপতির পদে আসীন ছিলেন।

 ১৮৪১ খ্রীষ্টাব্দে এল্‌ফিন্‌স্টোনের ‘হিস্টরি অফ ইণ্ডিয়া’ (ভারতের ইতিহাস) প্রথম প্রকাশিত হয়। মুসলমানপূর্ব যুগের ভারতবর্ষ সম্বন্ধে এইরূপ তথ্যপূর্ণ ইতিহাস ইতিপূর্বে আর রচিত হয় নাই। ভারতবর্ষের প্রাচীন

৪২