বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এলিয়ট, টমাস স্টার্নস
এলিয়ট, টমাস স্টার্নস

আমেরিকার পথে যাত্রা করেন, সমারসেটের সেই ঈস্ট কোকারে (তাঁহার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতার নাম) তাঁহার কবর রক্ষিত।

 দর্শনের কৃতী ছাত্র এলিয়ট হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হইতে স্নাতক উপাধি লাভের পর সেখানে এক বৎসর দর্শন বিভাগে সহকারী রূপে কাজ করেন। এই সময় তিনি পালি ও সংস্কৃত ভাষা এবং ভারতীয় দর্শনও অধ্যয়ন করেন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ট্‌ন কলেজে ব্র্যাড্‌লে ও যোয়াকিম্-এর নিকট এক বৎসর অধ্যয়ন করিবার পর কিছুকাল অতিবাহিত করেন সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এইখানেই তাঁহার জীবনব্যাপী ফরাসী সাহিত্যানুরাগের সূচনা হয়।

 ১৯২৭ খ্রীষ্টাব্দের পূর্বে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ না করিলেও সোরবোন হইতে ফেরার পর এলিয়ট লণ্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁহার কর্মজীবনের প্রথমাংশ বিচিত্র জীবিকার মধ্যে অতিবাহিত হয়। প্রথমে তিনি ‘দি এগোয়িস্ট’ পত্রিকার সহ-সম্পাদকরূপে যুক্ত ছিলেন, কিছুকাল হাইগেট জুনিয়র স্কুলেও শিক্ষকতা করেন; লয়ড্‌স ব্যাঙ্কের কর্নহিল শাখার বৈদেশিক বাণিজ্যের রিপোর্ট লেখার কাজও তিনি করিয়াছিলেন। ১৯২২ খ্রীষ্টাব্দে তৎপ্রতিষ্ঠিত ‘দি ক্রাইটেরিয়ান’ পত্রিকা তাঁহারই সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। ১৯২৫ খ্রীষ্টাব্দ হইতে তাঁহাকে পুস্তক প্রকাশন সংস্থা ফেবার অ্যাণ্ড ফেবার-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী রূপে দেখিতে পাই।

 স্মিথ অ্যাকাডেমির রেকর্ডে মুদ্রিত কিশোরকালের রচনার কথা বাদ দিলে বলা যায় এলিয়টের প্রথম কবিতা ‘হার্ভার্ড অ্যাডভোকেট’-এ প্রকাশিত হয় (২১ মে ১৯০৭ খ্রী)। ইংল্যাণ্ডে বসবাস করিবার প্রথম যুগে ‘দি টাইম্‌স লিটারারি সাপ্‌লিমেণ্ট’ ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত এলিয়টের কবিতা ও নিবন্ধাদি জন মেনার্ড কেইন্‌স ও ভার্জিনিয়া উল্‌ফ প্রমুখের প্রশংসা অর্জন করে। ১৯২০ খ্রীষ্টাব্দে এলিজ়াবেথীয় ও জ্যাকোবীয় সাহিত্য এবং অন্যান্য বিষয়ক পূর্বমুদ্রিত নিবন্ধসমষ্টি ‘দি সেক্‌রেড উড’ নামক গ্রন্থে সংকলিত হয়। তৎপূর্বে ১৯১৫ খ্রীষ্টাব্দে এজ়রা পাউণ্ড-এর ‘ক্যাথলিক অ্যান্‌থলজি’তে এলিয়টের কবিতা পুস্তকাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯১৭ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় তাঁহার ‘প্রুফ্রক অ্যাণ্ড আদার অবজারভেশন্‌স’ কাব্যগ্রন্থ। ১৯২২ খ্রীষ্টাব্দে ‘দি ক্রাইটেরিয়ান’ পত্রিকায় তাঁহার প্রথম যুগান্তকারী কবিতা ‘দি ওয়েস্টল্যাণ্ড’ প্রকাশিত হয়। বিংশ শতাব্দীর সামাজিক মূল্যবোধের ভাঙন ও অবক্ষয়ের কাহিনী এই কবিতাটি যুদ্ধোত্তর কালে কাব্যাদর্শের
ক্ষেত্রে নূতন দৃষ্টাস্ত স্থাপন করে। শুধু বহিরঙ্গের চাকচিক্য ও আঙ্গিকের নূতনত্ব নহে, এলিয়টের গভীর ঐতিহ্যানুরাগ ও তীক্ষ্ণ নীতিবোধও কবিতাটিতে সবিশেষ লক্ষণীয়। পরে ক্রমশঃ ১৯২৭ খ্রীষ্টাব্দে ‘জার্নি অফ দি মেজাই’, ১৯৩০ খ্রীষ্টাব্দে ‘অ্যাশ ওয়েন্‌জ়ডে’ এবং ১৯৪৩ খ্রীষ্টাব্দে সম্ভবতঃ তাঁহার শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘ফোর কোয়ার্টেট্‌স’ প্রকাশিত হয়। শেষ গ্রন্থটি এলিয়টের তীব্র-গভীর ক্যাথলিক চেতনা ও পরম নির্লিপ্ত জীবনদর্শনের কাব্যরূপ।

 এলিয়টের কাব্যচেতনার মূলে ছিল অ্যাংলো-ক্যাথলিক ধারানুগত্য যাহা তাঁহাকে দিয়াছে গভীর অধ্যাত্মময়তা। এইসঙ্গে যুক্ত হইয়াছে তাঁহার মনীষাপ্রসূত ঘনসংবদ্ধ আঙ্গিক, পশ্চিম ইওরোপীয় সংস্কৃতি মন্থনকরা বিরাট বৈদগ্ধ্য, পেলবতাহীন ক্ল্যাসিক্যাল ঋজুতা ও শুদ্ধতা। তাঁহার চিন্তাধারায় যেমন দান্তের প্রভাব লক্ষণীয় তেমনই আঙ্গিকের ক্ষেত্রে ডান, লাফর্গ, কর্বিয়ের, বোদলেয়ার ও কবিবন্ধু এজ়রা পাউণ্ডের প্রভাবও দেখা যায়।

 ১৯৩০-এর পর এলিয়ট কাব্যনাটকের পুনঃপ্রবর্তনায় মনোযোগ দেন এবং ‘সুইনে অ্যাগনিস্টেস’ (১৯৩২ খ্রী) ও ‘দি রক’ (১৯৩৪ খ্রী) -এর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ‘মার্ডার ইন দি ক্যাথিড্রাল’ (১৯৩৫ খ্রী), ‘দি ফ্যামিলি রিইউনিয়ন’ (১৯৩৯ খ্রী), ‘দি কক্‌টেল পার্টি’ (১৯৫০ খ্রী), ‘দি কন্‌ফিডেনশাল ক্লার্ক’ (১৯৫৪ খ্রী), ‘দি এল্‌ডার স্টেট্‌স্‌ম্যান’ (১৯৫৯ খ্রী) রচনা করেন। উক্ত নাটকগুলিতে এলিয়ট, মানুষের সমগ্র ব্যক্তিত্ব ও অনুভূতি সম্পূর্ণ প্রতিফলিত করিতে পারে, এইরূপ ভাষা সৃষ্টির প্রয়াসী হইয়াছিলেন। ঐতিহাসিক ও গ্রীক-কাহিনীবিধৃত প্রথম নাটক দুইটিতে সে ভাষাসৃষ্টিতে আংশিক অসফল হইলেও, শেক্‌স্‌পিয়রের প্রতিধ্বনিরূপ ভাষা পরিহারে সমর্থ হইয়াছিলেন বলা যায়। কিন্তু পরের নাটকগুলিতে নাট্যমূল্য ও ভাষার অন্তর্নিহিত কাব্যময়তা ক্রমশঃ কমিয়া আসে এবং রঙ্গমঞ্চেও তাহাদের আবেদন অস্তর্হিত হয়।

 ‘দি সেক্‌রেড উড’-এর পর প্রকাশিত সমালোচনাগ্রন্থের মধ্যে বিশেষ উল্লেখ্য হইল ‘হোমেজ টু ড্রাইডেন’ (১৯২৪ খ্রী), ‘ফর লান্‌স্‌লট অ্যান্‌ড্রুজ়’ (১৯২৮ খ্রী), ‘দান্তে’ (১৯২৯ খ্রী), ‘দি ইউস অফ পোয়েট্রি অ্যাণ্ড দি ইউস অফ ক্রিটিসিজ্‌ম’ (১৯৩৩ খ্রী), ‘হোয়াট ইজ এ ক্ল্যাসিক’ (১৯৪৫ খ্রী) ও ‘মিল্‌টন’ (১৯৪৭ খ্রী)। সাহিত্য-সমালোচনার বাহিরে এলিয়ট ‘দি আইডিয়া অফ এ ক্রিস্টিয়ান সোসাইটি’ (১৯৩৯ খ্রী)-র ন্যায় ধর্মতত্ত্বীয় পুস্তক, ‘আফটার স্ট্রেন্‌জ গড্‌স’ (১৯৩৪ খ্রী)-এর ন্যায় সমাজবিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ ও ‘রিইউনিয়ন বাই ডেস্ট্রাক্‌শন’ (১৯৪৩ খ্রী)-

৪৬