বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এলিয়ট, হেনরি মায়ার্স
এলিস, হেনরি হ্যাভলক

এর মত দক্ষিণ ভারতের খ্রীষ্টধর্মীয় আন্দোলন সম্বন্ধীয় গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। মূলতঃ ছোটদের জন্য, কৌতুকের ছলে রচিত ‘ওল্ড পোসম্‌স্ বুক অফ প্র্যাক্‌টিক্যাল ক্যাট্‌স’ (১৯৩৯ খ্রী) এলিয়টের বহুমুখী প্রতিভার আর একটি দিক।

 কোনও লেখক বোধ হয় জীবদ্দশায় এত খ্যাতি, পুরস্কার ও বিশ্বস্বীকৃতি পান নাই। ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার, ১৯৫৪ খ্রীষ্টাব্দে জার্মানির হান্‌জ়িয়াটিক গ্যেটে প্রাইজ, ফ্রান্সের লেজ়িঅঁ দ্যন্যর্ তাঁহার প্রাপ্ত অজস্র সম্মানের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের অসংখ্য ভাষায় এলিয়টের কবিতা অনূদিত হইয়াছে। বাংলা ভাষায়ও তাঁহার কবিতা অনুবাদের যথেষ্ট নজির মেলে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ‘জার্নি অফ দি মেজাই’-এর যে অনুবাদ করেন তাহা ‘তীর্থযাত্রী’ নামে পরে ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে। বিষ্ণু দে-কৃত ‘এলিঅটের কবিতা’ও (১৩৬০ বঙ্গাব্দ) এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ্য। যে কয়জন বিদেশী কবি আধুনিক বাংলা কবিতায় বিশেষ প্রভাব বিস্তার করিয়াছেন, এলিয়ট তাঁহাদের অন্যতম।

 ১৯৬৫ খ্রীষ্টাব্দের ৪ জানুয়ারি লণ্ডনে তাঁহার মৃত্যু হয়।

দ্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্যের পথে, কলিকাতা, ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ; বিষ্ণু দে, সাহিত্যের ভবিষ্যৎ, কলিকাতা, ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ; বিষ্ণু দে, রুচি ও প্রগতি, কলিকাতা; বিষ্ণু দে, এলোমেলো জীবন ও শিল্পসাহিত্য, কলিকাতা, [১৯৫৯ খ্রী]; সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, স্বগত, নৃতন সংস্করণ, কলিকাতা, ১৩৬৪ বঙ্গাব্দ; এলিয়ট প্রণীত ও তৎসম্পর্কিত গ্রন্থপঞ্জির জন্য দ্রষ্টব্য: M. C. Bradbrook, T. s. Eliot: Writers and Their Work: No. 8, London, 1960.

করুণাশংকর রায়
এলিয়ট, হেনরি মায়ার্স (১৮০৮-৫৩ খ্রী) ১৮০৮ খ্রীষ্টাব্দের ১ মার্চ ইংল্যাণ্ডে জন্ম। বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করিয়া ১৮ বৎসর বয়সে ইণ্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া ১৮২৬ খ্রীষ্টাব্দে ইনি ভারতে আসেন। বর্তমান উত্তর প্রদেশের নানা স্থানে বিভিন্ন পদে কার্য করিয়া ১৮৪৭ খ্রীষ্টাব্দে ইনি ভারত গভর্নমেণ্টের রাজনৈতিক বিভাগের সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। দায়িত্বপূর্ণ রাজকার্যের অবসরে এলিয়ট দীর্ঘকাল ধরিয়া ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনার জন্য বহু মূল্যবান উপকরণ সংগ্রহ করেন। ভারত ইতিহাস সম্পর্কে তাঁহার প্রথম গ্রন্থ ‘বিবুলিও
গ্র্যাফিক্যাল ইন্‌ডেক্‌স টু দি হিস্টরিয়ান্‌স অফ মহামেডান ইণ্ডিয়া’ (১ম খণ্ড, কলিকাতা ও লণ্ডন, ১৮৪৯ খ্রী)-তে আরবী ও ফারসীতে রচিত ২৩১ জন ঐতিহাসিকের রচনার সারসংগ্রহ ও সমালোচনা করা হয়।

 স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ায় এলিয়ট ছুটি লইয়া স্বদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন কিন্তু পথিমধ্যে ১৮৫৩ খ্রীষ্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর উত্তমাশা অন্তরীপে মাত্র ৪৫ বৎসর বয়সে তাঁহার মৃত্যু হয়। তাঁহার রচিত ‘দি হিস্টরি অফ ইণ্ডিয়া অ্যাজ টোল্ড বাই ইট্‌স্ ওন্ হিস্টরিয়ান্‌স্’ পুস্তকখানি মৃত্যুর পর অধ্যাপক জন ডসন্‌ কর্তৃক সম্পাদিত হইয়া ৮ খণ্ডে প্রকাশিত হয় (১৮৬৬-৭৭ খ্রী)। উপসংহার অংশটুকু ই. সি. বেইলি সম্পাদনা করেন এবং ইহার প্রকাশকাল ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দ। এলিয়টের অপর একখানি গ্রন্থ ‘মেময়ার্স অফ দি হিস্টরি, ফোকলোর অ্যাণ্ড ডিস্ট্রিবিউশন অফ দি রেসেস্ অফ এন. ডব্লু. পি.’ জন বীম্‌স কর্তৃক সম্পাদিত হইয়া ১৮৮১ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এলিয়টের রচনাবলীতেই প্রথম ভারতবর্ষের ইতিহাসের মুসলমান যুগের প্রকৃত তথ্য জানিবার সুযোগ হয়।

গৌরাঙ্গগোপাল সেনগুপ্ত

এলিস, হেনরি হ্যাভলক (১৮৫৯-১৯৩৯ খ্রী) ইংরেজ মনোবিজ্ঞানী, সমাজতত্ত্ববিদ্‌ ও সাহিত্যিক। প্রথম জীবনে শিক্ষকতা এবং কিছুদিন চিকিৎসা ব্যবসায় ও করেন। পরে তিনি বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিক গ্রন্থরচনায় মনোনিবেশ করেন। তাঁহার সর্বাধিক পরিচিত গ্রন্থ ‘স্টাডিজ ইন দি সাইকলজি অফ সেক্স’ ১৮৯৮-১৯২৮ খ্রীষ্টাব্দ ধরিয়া সাত খণ্ডে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। ইওরোপে তখনও ভিক্টোরীয় মনোভাবের প্রভাবে যৌন বিষয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ ও নিন্দিত; ফলে এই গ্রন্থ রচনার জন্য এলিসকে নানা দুর্ভোগ সহ্য করিতে হয়। যৌন মনস্তত্ত্বের আলোচনায় জ়িগ্‌মুণ্ট ফ্রয়েডের মতই মনোবিকার ও কামবিকারের অজস্র দৃষ্টান্ত পর্যালোচনা করিলেও ফ্রয়েডের সহিত এলিসের প্রাধন পার্থক্য এই যে যৌন মনস্তত্ত্বের ব্যাখ্যাংশে তিনি বিশেষ জৈব ও শারীরিক উপাদানের উপরই গুরুত্ব আরোপ করিয়াছেন।

 ‘ইম্‌প্রেশন্‌স অ্যাণ্ড কমেণ্ট্‌স’ (১৯১৪-২৪ খ্রী), ‘দি ডান্স অফ লাইফ’ (১৯২৩ খ্রী), ‘এ স্টাডি অফ ব্রিটিশ জিনিয়াস’ (১৯২৭ খ্রী), ‘ম্যারেজ টুডে অ্যাণ্ড টুমরো’ (১৯২৯ খ্রী) প্রভৃতি গ্রন্থে এলিস সমাজতত্ত্ব ও সংস্কৃতির নানা সমস্যা সম্পর্কে পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা করিয়াছেন। সাহিত্যে তাঁহার প্রধান অবদান ‘সনেট্‌স উইথ ফোক

৪৭