বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এলোরা
এলোরা

অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মোট নর-নারীর সংখ্যা যথাক্রমে ৩১৩৮৩ ও ২০৭৪৭; অর্থাৎ শহরবাসীর শতকরা ৪৮ জন শিক্ষিত ও অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। এখানে তিনটি কলেজ আছে। কুচিপুড়ি নৃত্য-নাট্য-সংগীতের উন্নতিবিধানকল্পে ‘কলাক্ষেত্রম’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হইয়াছে।

 স্থানীয় উৎসবের মধ্যে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ও ভাদ্র-আশ্বিন মাসে দ্বারকা-তিরুমলইতে শ্রীবেঙ্কটেশ্বর স্বামীর মন্দিরে অনুষ্ঠিত ‘কল্যাণ মহোৎসবম’ উৎসবটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। অন্যান্য উৎসবের মধ্যে কৈকরথে অগ্রহায়ণ মাসে অনুষ্ঠিত সুব্বায়াযুদু ষষ্ঠী, এলূরুতে আশ্বিন-কার্তিক মাসে জলপাত্রেশ্বরস্বামীতীর্থম উৎসব, মাঘ-ফাল্গুন মাসে শ্রীসন্তনগোপালস্বামীতীর্থম উৎসব, ফাল্গুন-চৈত্র মাসে শ্রীজনার্দনস্বামীতীর্থ উৎসব এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে সয়ীদ বাজি উর্‌স্‌ উল্লেখনীয়।

 এলূরু তালুকের অন্তর্গত দ্রষ্টব্য স্থানের তালিকায় অমরাবতীর নাম প্রথমেই করিতে হয় (‘অমরাবতী’ দ্র)। অন্যান্য স্থানের মধ্যে এলূরু শহরের ৮ কিলোমিটার (৫ মাইল) উত্তরে ভেণ্ডলূরুতে অর্ধশতাধিক ভগ্ন মন্দির ও প্রাচীন প্রাসাদাদির ধ্বংসস্তূপ ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত দেখা যায়। গ্রামের দক্ষিণে এক বিশালকায় গণেশমূর্তি রহিয়াছে। কাথবরপুকোত গ্রামের দক্ষিণে পাহাড়ের উপর একটি গুহা আছে; পাদদেশে দুইটি হনুমানমূর্তি ও পাহাড়ের উপর দুইটি ছোট মন্দির বর্তমান। রেড্ডিদের আমলে (১৩২৮-১৪২৭ খ্রী) নির্মিত একটি দুর্গও এখানে আছে। এলূরুতে হিন্দু স্থাপত্যকীর্তির ধ্বংসাবশেষ দ্বারা নির্মিত একটি দুর্গ ও একটি মসজিদের উল্লেখ করা যাইতে পারে।

দ্র Madras District Gazetteers: Godavari, vol. I, Madras, 1907; Imperial Gazetteer of India: Provincial Series: Madras, vol. I, Calcutta, 1908; Department of Information and Public Relations, Andhra Pradesh, Places of Interest in Andhra Pradesh, Hyderabad, 1961.

তারাপদ মাইতি
এলোরা পার্শ্ববর্তী এলোরা (এলূরা এবং ওয়েরুল নামেও অভিহিত) গ্রামের নামে পরিচিত এই অনুচ্চ পাহাড়টি মহারাষ্ট্র রাজ্যের অন্যতম জেলা-সদর ঔরঙ্গাবাদের উত্তরউত্তর-পশ্চিম কোণে প্রায় নয় ক্রোশ দূরে অবস্থিত (২০° উত্তর অক্ষাংশ ও ৭৫° পূর্ব)। রাষ্ট্রকূট নৃপতি দ্বিতীয় কর্কের বরোদা তাম্রলিপিতে (৮১২-১৩ খ্রী) এই পাহাড়সংলগ্ন এলাকাকে এলাপুর বলা হইয়াছে। এলাপুর নামের

বিকৃত রূপ বর্তমানে এলোরা। পাহাড়টির বিভিন্ন অংশে ৫০টির বেশি কৃত্রিম গুহা আছে। পাদদেশের মোটামুটি পশ্চিমমুখী গুহাগুলিকে কালক্রমনির্বিশেষে ১ হইতে ৩৪ সংখ্যায় চিহ্নিত করা হইয়াছে। দক্ষিণ প্রাস্ত হইতে আরম্ভ করিলে এই ৩৪টির প্রথম ১২টি বৌদ্ধদের, পরবর্তী ১৭টি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের এবং উত্তর প্রান্তের বাকি ৫টি জৈনদের।

 প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের ফলে সম্প্রতি এই অঞ্চলটিতে ছোট পাথরের অস্ত্রশস্ত্র এবং তাম্রপ্রস্তর যুগের প্রত্নবস্তু প্রচুর পরিমাণে পাওয়া গিয়াছে; সুতরাং প্রাগৈতিহাসিক যুগেও স্থানটিতে যে মানুষের বাস ছিল তাহাতে সন্দেহ নাই। ২১ নম্বর গুহার সম্মুখে পরিষ্কার করিবার সময় খ্রীষ্টীয় প্রথম ও দ্বিতীয় শতকের মৃৎপাত্র, অন্যান্য প্রত্নবস্তু ও গুপ্তরাজগণের মুদ্রা পাওয়া গিয়াছে। গুহাখননের সূত্রপাত হয় খ্রীষ্টীয় ৬ষ্ঠ-৭ম শতাব্দীতে—যখন বাদামির চালুক্যরা এই অঞ্চলের অধিরাজ ছিলেন। অধিকাংশ বৌদ্ধ গুহা এবং কয়েকটি ব্রাহ্মণ্য গুহার খননকাল এই আমলের। ধর্মীয় সহনশীলতা ও শাস্তিপূর্ণ সহযোগিতার যে পরিবেশ চালুক্যদের শাসনকালে এ স্থলে প্রবর্তিত হয় তাহা পরবর্তী কালে বিজয়ী রাষ্ট্রকূটরাও অব্যাহত রাখেন; ফলে বৌদ্ধ, ব্রাহ্মণ্য, জৈন—তিন সম্প্রদায়ই দেবায়তনের আকার, অলংকরণ, বিষয়বস্তু, রূপকল্প ও রীতিপ্রকরণে একে অপরকে প্রভাবিত করে। রাষ্ট্রকূটদের রাজত্বপূর্বে ন্যূনপক্ষে দুইটি বৌদ্ধ গুহা (১১ ও ১২ সংখ্যক) এবং ব্রাহ্মণ্য ও জৈন গুহাবলীর বেশ কয়েকটি খনন করা হয়। এই রাজবংশের দুই জন নৃপতি আবার দুইটি ব্রাহ্মণ্য গুহাখননের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৫ সংখ্যক গুহাটি নির্মিত হয় সম্ভবতঃ দস্তিদুর্গের আমলে (৭৫৩-৫৭ খ্রী); কারণ ইহার প্রাঙ্গণস্থ মণ্ডপের গায়ে এই রাজার একটি শিলালিপি রহিয়াছে। ভারতীয় শৈলখাত (রক্-কাট) স্থাপত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, ‘কৈলাস’ নামে পরিচিত: ১৬ সংখ্যক) গুহাটি নৃপতি প্রথম কৃষ্ণের (৭৫৮-৭৩ খ্রী) অবিস্মরণীয় কীর্তি। প্রকৃতপক্ষে ইহা শৈলখাত মন্দির। ক্ষুদ্রতর ‘ছোট কৈলাস’ নামক অসমাপ্ত গুহাটি (১৩ সংখ্যক) ইহারই অনুকরণ। কল্যাণীর চালুক্যরাজ দ্বিতীয় তৈল (৯৭৩-৯৭ থ্রী) কর্তৃক রাষ্ট্রকূটদের উচ্ছেদের পরও বহুদিন যে জৈনরা তাঁহাদের শিল্পকর্ম অব্যাহত রাখেন, তাহার প্রমাণ যাদব রাজবংশের সময়ে পার্শ্বনাথের একটি প্রস্তরমূর্তি। মূর্তিটির আসন-সংলগ্ন শিলালিপিতে (১২৩৫ খ্রী) পাহাড়টির নাম চারণাদ্রি বলা হইয়াছে।

 বৌদ্ধ শৈলখাত স্থাপত্যের শেষ উজ্জ্বল নিদর্শন
ভা ২॥৭ ৪৯