বিশিষ্ট স্তম্ভসংবলিত একটি বিরাট সমাবেশশালা: ইহার প্রবেশদ্বার তিনটি; প্রত্যেকটির পুরোভাগে একটি অঙ্গন। সমাবেশশালার পিছনে মন্দির; মন্দিরের চারিটি প্রবেশদ্বারের উভয় প্রান্তে দীর্ঘকায় দ্বারপাল মূর্তি।
এলোরার শ্রেষ্ঠ শিল্পকৃতি কৈলাসের স্থানীয় নাম রঙমহল; মন্দিরগাত্রের রঙিন চিত্রাবলীর (অধুনা বহুলাংশে লুপ্ত) জন্য এই খ্যাতি। মন্দিরটি শৈলখাত প্রাঙ্গণের মধ্যে অবস্থিত। একটি দ্বিতল প্রবেশিকার মধ্য দিয়া প্রাঙ্গণে যাইতে হয়। এই প্রবেশিকা পরবর্তী কালের গোপুরমের অগ্রদূত। প্রাঙ্গণের পশ্চাতের অবশিষ্টাংশ অলিন্দবেষ্টিত। অলিন্দটির পশ্চাদভাগের দেওয়াল উপস্তম্ভদ্বারা বিভক্ত; প্রতি ভাগে ক্ষোদিত করা দেব-দেবীর অনবদ্য মূর্তি। বিমান এবং স্তম্ভ-যুক্ত মণ্ডপ লইয়া মূল মন্দিরটি একটি সু-উচ্চ মঞ্চের উপর প্রতিষ্ঠিত। মঞ্চগাত্রের তলদেশ ও উপরিভাগ ডৌলকর্মে অলংকৃত। মধ্যদেশে হস্তী ও সিংহের সারি; দেখিলে মনে হয় যেন এই সকল শক্তিশালী জন্তু মন্দিরটির গুরুভার বহন করিতেছে। মঞ্চে উঠিবার দুইটি সোপান। আরোহণের পর প্রথমে মণ্ডপ; মণ্ডপে প্রাচীন চিত্রাবলীর অবশেষ পাওয়া যায়। মণ্ডপ হইতে একটি উপপ্রকোষ্ঠের মধ্য দিয়া গর্ভগৃহে প্রবেশ করিতে হয়। বিমানের গাত্রদেশ চারিতলা এবং শিরোপরি একটি স্তুপিকা। বিমানের তিন পার্শ্বে উহার অনুকরণে পাঁচটি ক্ষুদ্রাকার দেবায়তন। মঞ্চের সম্মুখে একটি নন্দীমণ্ডপ বিদ্যমান। মণ্ডপটির দুই পার্শ্বে আবার প্রায় ১৫ মিটার উচ্চ ধ্বজস্তম্ভ।
জৈন গুহার মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখ্য ইন্দ্রসভা, জগন্নাথসভা এবং ছোট কৈলাস। শেষোক্তটি ব্রাহ্মণ্য কৈলাসের ক্ষুদ্রতর সংস্করণ। ভাস্কর্য প্রাচুর্যে প্রসিদ্ধ ইন্দ্রসভার প্রাঙ্গণস্থ শৈলখাত মন্দিরটি প্রাঙ্গণ-প্রবেশিকা ও কৈলাসের অনুরূপ স্থাপত্যশৈলী অনুসারে—মূলতঃ দ্রাবিড়ীয়—নির্মিত। অঙ্গনের পশ্চাতের গুহাটি দ্বিতল। মোটামুটিভাবে দুইটি তলেই একটি করিয়া স্তম্ভযুক্ত সমাবেশশালা এবং তাহার পশ্চাতে মহাবীরের বিগ্রহসহ গর্ভগৃহ; সমাবেশশালার পার্শ্বদেশে প্রকোষ্ঠ অথবা কুলুঙ্গির সারি। এতদ্ব্যতীত ক্ষুদ্রাকার দেবায়নও আছে। জগন্নাথসভাও দ্বিতল। ইহার নিম্নতলে বিন্যাসে অসমঞ্জস তিন প্রস্থ দেবায়তন। উপরতলার সমাবেশশালাটি ইন্দ্রসভার অনুরূপ।
এলোরা গ্রামে রানী অহল্যাবাঈ নির্মিত শিবমন্দির আছে, নাম ঘৃষ্ণেশ্বর। স্বষ্ণেশ্বর দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম।
দ্র J. Fergusson & J. Burgess, The Cave Temples of India, London, 1880; J. Burgess,Report on the Elura Cave Temples and the Brahmanical and Jaina Caves in Western India, Archaeological Survey of India, vol. V, London, 1883; J. Burgess, A Guide to Elura Cave Temples, Reprinted by the Archaeological Department, H. E. H. The Nizam’s Government.
এশিয়া উত্তরে ৭৮° উত্তর অক্ষরেখা (চেল্যুস্কিন অন্তরীপ) হইতে দক্ষিণে প্রায় ১০° দক্ষিণ অক্ষরেখা (ইন্দোনেশিয়া দ্বীপমালা) এবং পশ্চিমে ২৫° পূর্ব দ্রাঘিমা (তুরস্ক) হইতে পূর্বে ১৭০° পূর্ব দ্রাঘিমা (বেরিং উপদ্বীপ) পর্যন্ত বিস্তৃত এশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ। উত্তর মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর দ্বারা এই মহাদেশের যথাক্রমে উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ সীমান্তগুলি নির্দিষ্ট হইলেও পশ্চিমে ইওরোপের সহিত ইহার ব্যবধানটি নিতান্তই কৃত্রিম। সাধারণতঃ উরাল পর্বত ও নদী, কাম্পিয়ান সাগর, ককেশাস পর্বত, কৃষ্ণ ও ভূমধ্য সাগরকে এশিয়ার পশ্চিম সীমান্ত হিসাবে মানা হয়। এশিয়ার আয়তন প্রায় ৪ কোটি ৭৯ লক্ষ ১৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার (১ কোটি ৮৫ লক্ষ বর্গ মাইল)।
তিন দিকে মহাসাগরবেষ্টিত এই মহাদেশের উপকূলরেখার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৭৯৩৫ মিটার (৩৬০০০ মাইল)। কিন্তু ভূগঠনের তারতম্যে তিনটি উপকূলের প্রাকৃতিক রূপ ভিন্ন। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলভাগ সৃষ্ট হইয়াছে বহু ভঙ্গিল পর্বতের সমুদ্রাভিমুখী অভিক্ষেপের ফলে। এই কারণে মূল ভূখণ্ডের উপকূলভাগে বহু হ্রস্ব সমুদ্রখাড়ি বিদ্যমান। সমুদ্রনিমগ্ন গিরিশিখরগুলি সমুদ্রপৃষ্ঠে বহু দ্বীপের সৃষ্টি করিয়াছে, যেমন ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপমালা, লুচু দ্বীপপুঞ্জ, জাপান দ্বীপমালা কিংবা কূরীল দ্বীপপুঞ্জ। কিন্তু ভারত মহাসাগরের উপকূলভাগ প্রধানতঃ চ্যুতির ফলে প্রায় সরল। গভীর সমুদ্রখাঁড়ি দেশাভ্যন্তরে প্রবেশ করে নাই এবং উপসাগরগুলির আয়তনও বিশাল। অপর পক্ষে উত্তর মহাসাগরের তটভূমি মূলতঃ সমুদ্রবারি অপসারণের ফলে উদ্ভুত; ফলে সমুদ্রখাড়িগুলি দীর্ঘ। মহাদেশের আয়তনের তুলনায় তটরেখার পরিমাণ নিতান্তই অল্প। প্রতি ১৩০০ বর্গ কিলোমিটার (প্রায় ৫০০ বর্গ মাইল) ভূমির জন্য গড়ে মাত্র ১৬০০ মিটার (১ মাইল) তটভূমি পাওয়া যায়। অর্থাৎ স্থলভাগের বিপুল বিস্তৃতির জন্য এশিয়াবাসীর জীবনবোধে সমুদ্রের প্রভাব ক্ষীণ হওয়াই স্বাভাবিক।৫১