বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এশিয়া
এশিয়া

ব্যবহৃত হইত। এই বাণিজ্য-কেন্দ্রগুলির মধ্যে সমরকন্দ, বোখারা, মার্ভ ইত্যাদি অতি প্রাচীন।

 সোভিয়েৎ রাশিয়ার শাসনব্যবস্থায় এইসব যাযাবর উপজাতির জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন হইয়াছে। স্তেপ অঞ্চলে সেচব্যবস্থার ব্যাপক প্রসারের ফলে একদিকে যেমন কৃষি-অর্থনীতির প্রভূত বিস্তৃতি ঘটিয়াছে, অন্যদিকে পশুপালকদের ক্ষুদ্রতর অঞ্চলে সংঘবদ্ধ করা সম্ভব হইয়াছে। কারণ সেচব্যবস্থার কল্যাণে কৃষির সাহায্যে পশুখাদ্য উৎপাদনও সম্ভব। প্রথমতঃ যন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের দ্বারা বড় বড় যৌথ-খামার স্থাপিত হয় এবং দ্বিতীয়তঃ এমন সব কৃষিজ ফসল (যেমন তুলা) উৎপাদন শুরু করা হয় যাহার চাহিদা সমগ্র রাষ্ট্র জুড়িয়া বিদ্যমান। ফলে কৃষি উৎপাদন বিস্তৃত অর্থে বিনিময়-অর্থনীতির ধারায় পরিচালিত হওয়ায় এইসব মঙ্গোল উপজাতির জীবনযাত্রায় মৌলিক পরিবর্তন ঘটিয়াছে। শিল্প ও খনিজের বিস্তৃত ব্যবহারের ফলে এই অঞ্চলের যাযাবর প্রবৃত্তির উচ্ছেদ সহজ হইয়াছে। কাজ়াখস্তানের কারাগান্‌ডা কয়লাখনিকে কেন্দ্র করিয়া লৌহ-ইস্পাত, কার্পাস, টিনে সংরক্ষিত মাংস, চিনি, তামাক, ও চামড়া-শিল্প গড়িয়া উঠিয়াছে। ইহা ছাড়া সিসা, তামা, খনিজ তৈল, ফসফেট, দস্তা, নিকেল, ক্রোমিয়াম প্রভৃতি খনিজ শিল্পেরও পত্তন হইয়াছে। উজ্‌বকিস্তানের গন্ধক, খনিজ তৈল, তামা ও ফসফেট খনিজ শিল্প এবং সিমেণ্ট, চামড়া, কার্পাস, রেশম ও রাসায়নিক শিল্প গড়িয়া উঠিয়াছে। তুর্কমনিস্তানের সোডা, ব্রোমিন, গন্ধক, লবণ, কাচ ও খনিজ তৈল-শিল্প উল্লেখযোগ্য। তাজীকিস্তানের কয়লা, খনিজ তৈল, সোনা, সিসা, দস্তা, ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম, আর্সেনিক, বিসমাথ, অ্যাজবেস্টস ও অভ্র-শিল্পের বিশেষ প্রসার হইয়াছে। কিন্তু মনে রাখিতে হইবে কৃষি ও পশুপালন এখনও এতদঞ্চলে র অধিবাসীদের প্রধান উপজীবিকা।

 সোভিয়েৎ শাসনব্যবস্থা কায়েম হইবার পূর্বেই ইওরোপীয়গণ, বিশেষ করিয়া রুশদেশীয় স্নাভগণ, উত্তর-পশ্চিম এশিয়াতে বসবাস শুরু করে। ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলপথটি অনুসরণ করিলে এশিয়া মহাদেশের স্লাভ উপনিবেশগুলির অবস্থিতি বোঝা যাইবে। তাহারা ক্রমে তাইগা ও তুন্দ্রার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়াইয়া পড়িয়াছিল। তাইগা ও তুন্দ্রার আদিমতম অধিবাসীগণ মঙ্গোল প্রবংশ হইতে উদ্ভুত। ইহাদের মধ্যে য়ুকাগির, য়াকূৎ, সামোয়েদ্‌, চুক্‌চি, কোরিয়াক প্রভৃতি উপজাতির নাম করা যায়। ইহারা শিকার, পশুপালন বা মৎস্য শিকার করিয়া অথবা সামান্য চাষের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে। রুশ অর্থনীতির সম্প্রসারণ
সত্ত্বেও তাহারা কতকাংশে আপনাদের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখিয়া জীবনযাপন করিতেছে। অবশ্য বিনিময়-অর্থনীতির সংঘাতে উহাদের গোষ্ঠীজীবনেও নানা প্রকার পরিবর্তন আসিতেছে, যেমন রোমশ চামড়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায়, তাহারা রোমশ পশু শিকার করিয়া রুশদের সহিত বাণিজ্য করিতেছে। কিন্তু সে পরিবর্তন স্তেপভূমির মত ব্যাপক রূপ এখনও পায় নাই। কারণ স্নাভবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কূজ়নেট্‌স্ক্‌ কয়লাখনিকে কেন্দ্র করিয়া সোভিয়েৎ রাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পকেন্দ্র গড়িয়া উঠিলেও, সমগ্র তাইগা ও তুন্দ্রা অঞ্চলে রুশ অর্থনীতি মূলতঃ বনজ ও খনিজ সম্পদ সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ। এতৎপ্রসঙ্গে লেনা উপত্যকার (য়াকূৎ) সোনা এবং য়েনিসেই উপত্যকার (তুঙ্গুস্) কয়লাখনি উল্লেখযোগ্য।  পূর্ব এশিয়ার সমতলভূমিতে পৃথিবীর প্রাচীনতম কৃষি-সভ্যতার জন্ম হয়। চীনের কৃষি-সভ্যতার আদিভূমি হোয়াংহো উপত্যকার ওয়েই সমতলভূমি। অন্ততঃ ইয়াংসে উপত্যকার লোহিত সমতলক্ষেত্রের কৃষি-সভ্যতা হইতে ওয়েই উপত্যকার সভ্যতা প্রাচীনতর। হোয়াংহো উপত্যকার উত্তর ভাগে শীত তীব্র, গ্রীষ্ম প্রথম নহে এবং বৃষ্টিপাত ৭৬২ মিলিমিটার (৩০ ইঞ্চি) এবং তাহাও অনিশ্চিত। মৃত্তিকা ক্ষারধর্মী সূক্ষ্ম সচ্ছিদ্র ও হরিদ্রাভ লোয়েস দ্বারা গঠিত। এতদঞ্চলের অধিবাসীরা গম, জোয়ার, সয়াবীন প্রভৃতি শস্য উৎপাদন করিয়া জীবিকা নির্বাহ করিত। কিন্তু এই অঞ্চলে উচ্চতার সঙ্গে উত্তাপ এবং বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন এত দ্রুত হয় যে সমতলভূমির গম চাষ বহু স্থানে যব ও জোয়ার চাষে পরিণত হয়। কিন্তু ইয়াংৎসে উপত্যকার দক্ষিণে গ্রীষ্মকাল কঠোর, শীত নাতিতীব্র এবং ১২৭০ মিলিমিটার (৫০ ইঞ্চি)-এর অধিক বৃষ্টিপাত অনেক নিশ্চিত। মৃত্তিকা অম্লধর্মী উর্বর ও লোহিত বর্ণের কর্দম ও পলল-গঠিত। এখানে ধান ও চা উৎপন্ন হইত। ভূপৃষ্ঠের উচ্চতার প্রভাব এই অঞ্চলে অল্প, কারণ ২১৩৪ মিটার (৭০০০ ফুট) উচ্চ পর্বতগাত্রেও ধান চাষ সম্ভব। এই দুই অঞ্চলের সীমান্তদেশ অতীব দুর্গম গিরিখাতপূর্ণ ৎসিংলিং পর্বত দ্বারা গঠিত। অবশ্য পূর্ব দিকে হোনান প্রদেশের হান সমভূমির মাধ্যমে হোয়াংহো ও ইয়াংৎসে নদী-উপত্যকার নিম্নাংশের মধ্যে যোগাযোগ আছে। কিন্তু বসতি স্থাপনের প্রথম দিকে ওয়েই সমতলক্ষেত্রের কৃষকদের কাছে বন্যাবিধৌত জলাভূমিপূর্ণ হোয়াংহোর নিম্নভূমি যেমন দুর্গম ছিল তেমনই নদী-নির্ভর লোহিত সমতলভূমির চাষীদের কাছে ইয়াংৎসে গিরিখাত দুর্লঙ্ঘ্য বাধা হিসাবে দেখা দেয়। ৎসিংলিং

৫৯