বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এশিয়া
এশিয়া
প্রধান ভাষা আঞ্চলিক ভাষা মহাদেশের যে অঞ্চলে প্রধানতঃ ব্যবহৃত হয়


চৈনিক হোক্কিয়ো বা ফুচিয়েন
হাক্কা
কাঙ-তুঙ
হাইলাম
আময় নগরের আশেপাশে
দক্ষিণ চীনে
কাণ্টন অঞ্চলে
হাইনান দ্বীপে
জাপানী জাপান দ্বীপপুঞ্জে
কোরিয়ান কোরিয়া উপদ্বীপে
মঙ্গোল মঙ্গোলিয়া ও পশ্চিম মাঞ্চুরিয়ায়
তুঙ্গুস রাশিয়ার উত্তর-মধ্য ভাগে
স্যামোয়েদ উত্তর মহাসাগর অঞ্চলে
ফিনো-উগ্রীয় সোভিয়েৎ ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলে
জর্জিয়ান ককেশাস পর্বত অঞ্চলে
আর্মেনীয় (আর্য ভাষা)

দেখা যায়। খালগুলিতে জলের উচ্চতা বাড়াইবার জন্য চীন দেশে আবিষ্কৃত (আনুমানিক ১৬০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) লক-গেটের ব্যবহার ইরাকেও পাওয়া যায়। সর্বাপেক্ষা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সেচপ্রথা অবশ্য কারেজ বা কানাত খাল। অত্যধিক বাষ্পীভবনের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের নদী অথবা প্রস্রবণ হইতে ভূগর্ভে সুড়ঙ্গ কাটিয়া জল পরিবহন করিয়া নিম্নস্থ ভূমিতে জলসেচের ব্যবস্থাকে কানাত-সেচ প্রথা বলে। সেচের এই ব্যাপক ব্যবহারে যেমন একদিকে কৃষি-অর্থনীতিকে প্রতিষ্ঠা দিয়াছে, অপর পক্ষে তাহাই এই অঞ্চলের গ্রামা সমাজকে একতাবদ্ধ করিয়াছে। কারণ জলের ব্যবহারে ব্যক্তির স্বেচ্ছাচার সমষ্টির প্রাণান্তকর বিপদের সূচনা করিতে পারে। জল-বণ্টনের এই প্রকার প্রয়োজনীয়তা অবশ্য উপত্যকার ঊর্ধ্বাংশেই অধিক প্রয়োজন। কিন্তু নিম্ন উপত্যকায় জল-সেচের জন্য খালের ব্যবহার আছে। জমির ঢাল অনুসারে জল উপচাইয়া জমি প্লাবিত করার প্রথা অপ্রচলিত নয়। এই দুই প্রকার সেচব্যবস্থার ফলে আমরা দেখিতে পাই যে উপত্যকার ঊর্ধ্বাংশে খামারগুলি ছোট ছোট এবং উৎপন্ন ফসল কৃষকের আপন প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হয়। নিম্নাংশে খামারগুলি বড় বড় এবং উৎপন্ন ফসল প্রধানতঃ বাণিজ্যে ব্যবহৃত। এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে জনবসতির ঘনত্ব উপত্যকার ঊর্ধ্বাংশেই বেশি।

 কৃষিকার্য ও পশুপালনই ইরাকের অধিবাসীদের প্রধান অবলম্বন। উপত্যকার ঊর্ধ্বাংশে গম, নানা প্রকার ভূমধ্যসাগরীয় ফল এবং রেশমের চাষ হয়। নিম্নাংশে ধান ও
খেজুর প্রধান কৃষিজ ফসল। যে সব অঞ্চলে গম উৎপন্ন হয় সেইস্থানে মেষপালন এবং যেখানে ধান হয় সেখানে গবাদি পশুপালন হইয়া থাকে। উভয় অঞ্চলেই উট, ঘোড়া ও গাধার ব্যবহার বেশ ব্যাপক। ইহা ছাড়া এই উপত্যকার প্রধান সম্পদ খনিজ তৈল। পারস্য উপসাগরের প্রান্তদেশে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ খনিজ তৈলের আধার রহিয়াছে। ঐ তৈলশিল্পে পুঁজি বিনিয়োগে প্রধানতঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যাণ্ড অগ্রণী। আধুনিক কালে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এই তৈলশিল্পের যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। খনিজ তৈল রপ্তানিকারক দেশগুলির মধ্যে পারস্য, বাহরীন দ্বীপ, কুওয়াইৎ, সৌদী আরব এবং ইরাক প্রধান।

 দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বিষয়ে আলোচনার মধ্যে একটি কথা স্মরণ রাখিতে হইবে। পৃথিবীর সর্বপ্রধান ধর্মমতের অনেকগুলিই এই অঞ্চলে উদ্ভূত হয়। চীন দেশের কনফুসিয়াস (৫৫১-৪৭৯ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) ও লাওৎসে (আনুমানিক ৬০৪ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ-?) প্রবর্তিত ধর্ম, ভারতের বৌদ্ধ, জৈন ও সনাতন হিন্দু ধর্ম এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ইহুদী, খ্রীষ্ট ও ইসলাম ধর্মের জন্মভূমি এশিয়া।

 মহাদেশের মালভূমিগুলিতে পশুচারণই প্রধান উপজীবিকা। অবশ্য প্রায় প্রতিটি মালভূমিতেই কিছু পরিমাণে চাষ হইয়া থাকে, যেমন তুরস্ক মালভূমির পশ্চিম প্রান্তে ভূমধ্য সাগর অঞ্চলের শস্যাদি উৎপন্ন হয়; কিন্তু পূর্ব প্রান্ত সমুদ্র অপেক্ষা দূরে হওয়ায় এবং মালভূমি উচ্চতর হইবার ফলে তৃণক্ষেত্রে মেষাদি পশুচারণই প্রধান উপজীবিকা। পারস্য মালভূমিতে মেষ ও ছাগ-পালন হইয়া থাকে;

৬৪