বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৯২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
এশিয়াটিক সোসাইটি
এশিয়াটিক সোসাইটি

জন্য সুবিধাজনক ভৌগোলিক পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ঐ সকল দেশ শিল্পে অনগ্রসর। সুলভ শ্রমিক ব্যবহারার্থে যে অল্প পরিমাণ ইওরোপীয় পুঁজি মহাদেশের শিল্প-উৎপাদনে নিয়োজিত হয় তাহাও শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য-সংকটের সৃষ্টি করে। ঐ প্রকার শিল্প চালু রাখার জন্য যে সব যন্ত্রের প্রয়োজন হয়, তাহা বিদেশ হইতে আমদানি করিতে হয়। আধুনিক এশিয়ার শিল্প-উৎপাদনে এই ভারসাম্যের অভাব মহাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুর্বলতা। শিল্পকেন্দ্রগুলির ভৌগোলিক অবস্থিতিও স্থানীয় স্বার্থ-বিরোধী। বিদেশী স্বার্থে পরিকল্পনার ঐতিহ্য বহন করিয়া ঐ অধিকাংশ শিল্পকেন্দ্রই বন্দরের নিকটে গড়িয়া ওঠে। দেশের অভ্যন্তর ভাগ এবং এক হিসাবে কৃষি-অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করিতে এই প্রকার শিল্প-উৎপাদন ব্যবস্থা অপারগ।

 বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভেই এশিয়ায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অভ্যুত্থান ঘটিতে থাকে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ঐ স্বাধীনতা-সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত নানা স্থানে সমাজবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়। প্রাচীন উৎপাদনব্যবস্থাকে নূতন জগতের আদর্শে ঢালিয়া সাজানোই অধুনা এশিয়ার দেশসমূহে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

 মহাদেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রের আয়তন ও লোকসংখ্যা ৭১-৭২ পৃষ্ঠার তালিকায় দেওয়া হইয়াছে। রাজধানীসমূহের লোকসংখ্যাও তৎসহ প্রদ ও হইল। ‘ইওরোপ’ দ্র।

দ্র V. T. Harlow, Voyages of Great Pioneers, London, 1929; L. W. Lyde, The Continent of Asia, London, 1938; P. Sykes, A History of Exploration, London, 1949; G. B. Cressey, Asia’s Lands and Peoples, New York, 1951; V. Gordon Childe, The Most Ancient East, London, 1952; J. Needham, Science & Civilisation in China, vol. I, London, 1954; N. S. Ginsburg, The Pattern of Asia, New Jersey, 1962.

সত্যেশ চক্রবর্তী
এশিয়াটিক সোসাইটি ১৭৮৪ খ্রীষ্টাব্দের ১৫ জানুয়ারি এশিয়াটিক সোসাইটির সূচনা হয়। এইদিন সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম বিচারপতি স্যর উইলিয়াম জোন্‌সের নেতৃত্বে কলিকাতাবাসী ত্রিশ জন ইওরোপীয় এশিয়া মহাদেশের ইতিহাস, ভূগোল, পুরাবৃত্ত, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও সাহিত্য বিষয়ে গবেষণা করিবার জন্য এই
প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার সিদ্ধান্ত করেন। পরবর্তী সপ্তাহে ২২ জানুয়ারি, এই সভার প্রথম অধিবেশন হয়। স্যর উইলিয়াম জোন্‌সই এশিয়াটিক সোসাইটির প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৭৯৪ খ্রীষ্টাব্দ অর্থাৎ তাঁহার মৃত্যুকাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। সপার্ষদ গভর্নর জেনারেল সমিতির পৃষ্ঠপোষক হইতে সম্মত হন। পরবর্তী কালে তিনজন গভর্নর জেনারেল—স্যর জন শোর, মার্কুয়িস অফ হেস্টিংস ও লর্ড হার্ডিঞ্জ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হইয়াছিলেন। কিন্তু সাধারণতঃ সপার্ষদ গভর্নর জেনারেল সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক হইতেন। লর্ড উইলিয়াম বেণ্টিঙ্কের শাসনকালে (১৮২৮৩৩ খ্রী) গভর্নর জেনারেল ও পরিষদের সদস্যদের এশিয়াটিক সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক থাকিবার প্রথা রহিত হয়। তখন হইতে কেবল গভর্নর জেনারেলই এশিয়াটিক সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক থাকিতেন। পরে এই প্রথারও পরিবর্তন হইয়াছে। এখন পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যপাল সোসাইটির পৃষ্ঠপোসক থাকেন।

 এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হইবার পর কিছুকাল এই প্রতিষ্ঠানে কোনও ভারতীয় সদস্য ছিলেন না। ১৭৮৪ খ্রীষ্টাব্দের ১৩ জুন তারিখে ভারতীয় রচিত প্রবন্ধ সোসাইটির সভায় প্রথম পাঠ করা হয়। প্রবন্ধের বিষয় ছিল হিন্দুদের বিভিন্ন বিচারপদ্ধতি। ইহার লেখক বারাণসীর প্রধান বিচারপতি আলী ইব্রাহিম খাঁ। প্রবন্ধটি ফারসীতে লেখা। জোন্‌স ইংরেজীতে অনুবাদ করিয়াছিলেন। পরের বৎসর ১৪ এপ্রিল একজন মুসলমান চিকিৎসকের লেখা শ্লীপদ রোগের চিকিৎসাবিষয়ক ফারসী প্রবন্ধের ইংরেজী অনুবাদ সভায় পাঠ করা হয়। ১৮২৯ খ্রীষ্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটির প্রথম ভারতীয় সদস্যগণ নির্বাচিত হন। তাঁহাদের মধ্যে প্রসন্নকুমার ঠাকুর, দ্বারকানাথ ঠাকুর, রামকমল সেন, হরময় দত্ত ও শিবচন্দ্র সেনের নাম উল্লেখযোগ্য।

 স্যার উইলিয়াম জোন্‌সের মৃত্যুর পর গভর্নর জেনারেল স্যার জন শোর এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁহার সময় হইতেই এশিয়াটিক সোসাইটির কার্যবিধি সুনিয়ন্ত্রিত হয়। জোন্‌স সোসাইটির জন্য কোনও নিয়মকানুন প্রণয়নের পক্ষপাতী ছিলেন না। জোনসের সময় সদস্যদের কোনও চাঁদা দিতে হইত না। সোসাইটির কোনও নিজস্ব গৃহও ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের একটি কক্ষে ইহার অধিবেশন হইত। শোর সোসাইটির গৃহ-নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যয় সংকুলানের জন্য সদস্যদের নিকট হইতে বার্ষিক দক্ষিণা গ্রহণ করিবার প্রথা প্রচলন করেন।
ভা ২॥১০ ৭৩