পূর্বে এশিয়ার উত্তর ভাগে ইহাদের বাস ছিল। পরে আমেরিকায় বিস্তার লাভ করে। কোনও প্রাচীন যুগে আমেরিকার ইণ্ডিয়ানদের তাড়নায় একান্তভাবে সমুদ্রকূলের আশ্রয়ে শিকার ও মাছ-ধরার দ্বারা ইহারা জীবিকানির্বাহ করিতে থাকে।
ইহারা সমুদ্রে সীল, তিমি, সিন্ধুঘোটক, ভূখণ্ডে শ্বেতভল্লুক, বন্য বল্গা হরিণ (ক্যারিবু) শিকার করে। কুকুরে টানা চাকাবিহীন স্লেজ-গাড়ি এবং স্থলবিশেষে দুই প্রকারের নৌকা ব্যবহৃত হয়। পূর্বে স্লেজ নির্মাণের জন্য তিমি বা সিন্ধুঘোটকের হাড় ও কিছু ভাসিয়া আসা কাঠ ব্যবহৃত হইত। এখন আমেরিকা বা ডেনমার্কের সহিত ব্যবসায়সূত্রে আবদ্ধ হওয়ায় কাঠ ও লোহার পাত ব্যবহৃত হইয়া থাকে।
স্থায়ী বাসের জন্য মাটি ও পাথরের ঘর এবং পশুর চর্ম ব্যবহৃত হয়। বরফের উপর দিয়া চলার সময়ে রাত্রিবাসের জন্য বা দুই-এক দিন থাকিবার জন্য ইহারা বৃত্তাকার বরফের ঘর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্মাণ করিয়া লয়। ইহার নাম ইগ্লু। ভিতরে ইহার ব্যাস ৮|১০ হাত, উচ্চতা ৫|৬ হাত। প্রবেশপথ বরফের তৈয়ারি সরু সুড়ঙ্গের মত, হামাগুড়ি দিয়া ঢুকিতে হয়।
জুতা, জামা, পাজামা প্রভৃতি পোশাক লোমবহুল চামড়ার তৈয়ারি। ভিতরে পরিধানের জন্য পালক এবং মেরুপ্রদেশের শিয়ালের নরম চামড়া প্রযুক্ত হয়।
পুরুষদের কাজ শিকার ও অন্যান্য ভারি কাজ। মেয়েরা দাঁতে চিবাইয়া চামড়া নরম করে। রান্নার কাজ তো আছেই। পাথরের তৈয়ারি প্রদীপে চর্বি জ্বালানো হয়, শুকনা ঘাসের সলিতা হয়। রান্নার জন্য ঐ বাতি বা বহু কষ্টে সংগৃহীত কাঠের টুকরা, শুকনা ঘাস সংগৃহীত হয়। কাঁচা চর্বি বা মাংস খাওয়ার অভ্যাসও আছে। দৈনিক আড়াই বা তিন সের মত মাংস মানুষের খোরাক।
কেহ শিকার করিলে আত্মীয়-অনাত্মীয় নির্বিশেষে সকলের তাহাতে অধিকার থাকে। বণ্টনের বিশেষ বিশেষ নিয়ম আছে। আতিথেয়তা সর্বোত্তম ধর্ম। কৃপণতা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কৃপণকে লোকে এমনভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষে উপহাস করে যে দুর্নামের ভয়ে সহজে কেহ নিয়মভঙ্গ করিতে সাহস পায় না। খাদ্যাভাব প্রায়ই ঘটিয়া থাকে। প্রচণ্ড শীত ও ঝটিকার মধ্যে আকস্মিক মৃত্যু বিরল নহে। মৃত্যু এস্কিমোদের যেন সহচর। জীবনের প্রতি আকর্ষণ যথেষ্ট, কিন্তু মৃত্যুর ভয় অপেক্ষাকৃত কম। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অত্যন্ত দুর্বল বিবেচিত হইলে বিনষ্ট করার প্রথা প্রচলিত ছিল। দারুণ অন্নাভাবেরদেবতাদির উপরে বিশ্বাস প্রবল। দেবতাদের ভর নামে। যাহার উপরে নামে তাহাদিগকে প্রশ্ন করিলে ভবিষ্যদ্বাণী শোনা যায় বলিয়া এস্কিমোদের দৃঢ় বিশ্বাস।
মেরুপ্রদেশে শৃগাল, সীল, তিমি প্রভৃতির চামড়া, হাড়, চর্বি প্রভৃতির বৃহৎ ব্যবসায় গড়িয়া উঠিয়াছে। ডেনমার্ক ও আমেরিকার গভর্নমেণ্ট ইহার উন্নতিসাধন করিয়াছেন, খ্রীষ্টান মিশনারিগণ ধর্ম ও শিক্ষাবিস্তার করিয়াছেন। তীর-ধনুকের বদলে বন্দুক এবং দেশীর বদলে ইওরোপীয় পোশাকের ও ঘরদুয়ারের ব্যবহার বাড়িয়াছে। ফলে জীবন-সংগ্রাম সহজসাধ্য হইলেও অপর বহু জাতি অপেক্ষা সাহস ও বলিষ্ঠতার এবং পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার যে নিদর্শন এস্কিমোদের মধ্যে বর্তমান তাহার তুলনা পাওয়া ভার। গৃহিণীর সাহায্য না পাইলে এস্কিমো শিকারীর পক্ষে বাঁচিয়া থাকা মেরুপ্রদেশে সম্ভব নয়। ঘর গড়ার জন্যই বিবাহ। বিবাহিত পুরুষদের মধ্যে অল্প বা দীর্ঘকালের জন্য স্ত্রীবিনিময়ের প্রথা এস্কিমোদের মধ্যে বর্তমান। ইহা আতিথেয়তারও অঙ্গবিশেষ। ‘উত্তর আমেরিকা’ দ্র।
দ্র V. Stefansson, My Life with the Eskimo, New York, 1913.
এস্ত ভাষা দ্র
ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ঋগ্বেদের দুইটি ব্রাহ্মণ পাওয়া যায়। একটির নাম ঐতরেয় ব্রাহ্মণ। সম্প্রদায়পরম্পরায় এইরূপ এক কাহিনী প্রচলিত আছে যে, ভূমিদেবতার বরে ইতরার পুত্র ঐতরেয় মহিদাস এই ব্রাহ্মণখানি লাভ করেন। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে আটটি পঞ্চিকা বা বিভাগ আছে এবং প্রত্যেক পঞ্চিকায় পাঁচটি করিয়া অধ্যায় আছে। সোমযজ্ঞ এই ব্রাহ্মণের প্রধান প্রতিপাদ্য। প্রথম ষোলটি অধ্যায়ে
৭৬