আরোহণ করিয়া মানুষ আল্লাহ্র সঙ্গে ঐক্য অনুভব করিয়া আত্মহারা হয়। তবে পরে আরও উচ্চ স্তরে আরোহণ করিয়া স্থায়িত্ব লাভ করে। এ ক্ষেত্রে তাহার আবার আত্মজ্ঞান লাভ হয়।
আধুনিক যুগের সূচনায় শেখ আহ্মদ সির হিন্দী, মোগল সাম্রাজ্যের ধ্বংসের সময় শেখ ওয়ালীউল্লাহ দেহ্লভি, মিশরের শেখ আবদুল, তুর্কিদের জিয়াগক আলপ ও আমাদের উপমহাদেশের আল্লাম ইকবাল ও ইসলাম সম্বন্ধে নানাভাবে চিন্তা করিয়া তাঁহাদের দার্শনিক মতবাদ প্রকাশ করিয়াছেন।
দ্র D. B. Macdonald, Development of Muslim Theology,Jurisprudence and Constitutional Theory, New York 1903; R. A. Nicholson, The Mystics of Islam, London, 1914; S. G. Wilson, Modern Movements among Moslems, New York, 1916; Syed Amir Ali, The Spirit of Islam, London, 1891; T. J. De Boer, The History of Philosophy of Islam, London, 1903; De Lacy E. O’Leary, Arabic Thought and Its Place in History, London, 1939.
ওংকার ‘ওম্’ ধ্বনির প্রাচীন অর্থ ‘তথাস্তু’। তবে ব্রাহ্মণ গ্রন্থে ওংকারের ঔপনিষদিক অর্থেরও সূচনা হইয়াছিল। ‘প্রজাপতি সংকল্প করিলেন। তখন তিনটি বর্ণ উৎপন্ন হইল—অ-কার, উ-কার ও ম-কার। তিনি তিন বর্ণকে এক করিলেন, তাহাতে “ওম্” হইল’: ইহা ঐতরেয় ব্রাহ্মণের (৫.৩২) উক্তি। কালে কালে ওংকারের উৎপত্তি-কথা আরও প্রপঞ্চিত হইয়াছে। ‘প্রজাপতি তিন বেদ হইতে ওংকারের তিন অংশ—অ উ ম দোহন করিয়াছিলেন’ (মনু ২.৭৬)। এই তিন অংশে বিষ্ণু শিব ও ব্রহ্মা অধিষ্ঠিত আছেন (মহানির্বাণতন্ত্র ৩.৩২)। ‘ওম্’ এই একটি অক্ষর উচ্চারণ করিলে সমগ্র বেদপাঠের ফল লাভ হয়। অক্ষরটি পরম কল্যাণকর। সমস্ত কার্যের প্রারম্ভে ও অন্তে এই মাঙ্গলিক অক্ষর উচ্চারণ করিতে হয়। ওংকাররহিত মন্ত্রপাঠ ও ধর্মক্রিয়া নিষ্ফল হইয়া যায় (মনু ২.৪৫)।
ওংকারের এক নাম ‘প্রণব’, তন্ত্রোক্ত সংজ্ঞা ‘তার’। স্কন্দপুরাণের প্রণবকল্পপ্রকরণে ভংকারের সহস্রনাম উল্লিখিত আছে। সেখানে ‘প্রণবঃ সর্বদেবতাঃ’। পাতঞ্জলযোগসূত্রে (১.২৩.২৪) প্রণব জপের বিধান পাওয়া যায়। প্রণব ঈশ্বরের বাচক। ছান্দোগ্য উপনিষদে (১.১.১) ওংকারোপা-গোপথব্রাহ্মণ, ঋক্প্রাতিশাখ্য ও তৈত্তিরীয় প্রাতিশাখ্যে ওংকারের বর্ণবিশ্লেষণ ও উচ্চারণ-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সবিশেষ আলোচনা পাওয়া যায়। উর্ধ্ব বিন্দুসহ অক্ষরটিকে সার্ধত্রিমাত্ররূপে উচ্চারণ করিতে হইবে—ইহাই বহুসম্মত সিদ্ধান্ত।
ওকাকুরা, কাকুজো (১৮৬২-১৯১৩ খ্রী) জাপানের প্রখ্যাত শিল্পশাস্ত্রী। জন্ম ইয়োকোহামা ২৬ ডিসেম্বর ১৮৬২; মৃত্যু টোকিও ২ সেপ্টেম্বর ১৯১৩ খ্রী। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করিয়া দর্শনশাস্ত্র ও ইংরেজী সাহিত্যে কৃতিত্বপ্রদর্শনপূর্বক ১৮৮০ সালে ওকাকুরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিলাভ করেন। ছাত্রাবস্থাতেই মনীষী ফেনলোসার সঙ্গীরূপে তিনি জাপানের বহু মঠ মন্দির ভ্রমণ করিয়া তথায় রক্ষিত প্রাচীন শিল্পনিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন ও শিল্পশাস্ত্রচর্চায় অনুরাগী হন। ১৮৮৬ সালে প্রথমে তিনি জাপান-সরকারের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সচিব নিযুক্ত হন, পরে সরকারি আর্ট কমিশনের সদস্যরূপে ইওরোপ ও আমেরিকা পরিভ্রমণ করেন; পরবর্তী কালে তিনি ভারতবর্ষে আসিয়া ভারতের বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির গুহাচিত্র পরিদর্শন করিয়াছিলেন; ফলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্ত্য উভয় শিল্পধারারই তিনি মর্মজ্ঞ হন। দেশে প্রত্যাবর্তন করিলে তিনি সরকারি শিল্প মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। কয়েক বৎসর পরে (১৮৯৭ খ্রী), জাপানের তৎকালীন পাশ্চাত্ত্যাভিমুখী গতির ফলে, যখন এই বিদ্যালয়েও প্রতীচ্য শিল্পকলার চর্চাই সরকারি নির্দেশে প্রাধান্য পাইতে চলিল তখন ওকাকুরা পদত্যাগ করেন এবং টাইকান প্রমুখ আরও ঊনচল্লিশ জন প্রখ্যাত শিল্পীর সহযোগে টোকিও নগরীর উপান্তে নিপ্পোঙ্ বিজিৎসুইঙ নামে কলাভবন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৬ সালে তিনি বস্টন মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টস্-এর উপদেষ্টা, পরে ইহার কিউরেটর নিযুক্ত হন।
কাকুজো ওকাকুরা মনীষী শিল্পশাস্ত্রীরূপে প্রখ্যাত; কিন্তু ভারতবর্ষে তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় বাংলা দেশ বর্তমান শতাব্দীর গোড়াতেই যে নবজাগরণের সূচনা হয় তাহার অন্যতম উদ্বোধয়িতা রূপে। জাপানে একটি ধর্মমহাসভা আহ্বানের কল্পনা লইয়া স্বামী বিবেকানন্দকে ঐ সভায় আমন্ত্রণ করিতে তিনি, সম্ভবতঃ ১৯০১ সালের
৮০