যে লোকটা, অলিকসন্দরকে রাস্তা দেখাইয়া দিয়া স্বদেশবাসীর সর্ব্বনাশ এবং বিদেশবাসীর জয়ের সহায়তা করিয়াছিল; সে মাসিদনপতির নিকট ৮০ টালাণ্ট অর্থাৎ আমাদের বর্ত্তমান মুদ্রার প্রায় তিন লক্ষ টাকা প্রাপ্ত হইয়াছিল। তাহার অর্থ ও শরীর, কতদিন হইল এই সংসার হইতে লোপ পাইয়াছে; কিন্তু তাহার এই নারকীর কার্য্য সর্ব্বত্র চিরকাল ঘৃণার সহিত কথিত হইবে। দুর্গে গমন করিবার গুপ্ত পথ, অলিকসন্দর স্বদেশদ্রোহীর নিকট অবগত হইয়াছেন; দুর্গবাসীরা, ইহা জ্ঞাত হইয়া, দুর্গরক্ষা বিষয়ে হতাশহইয়া পড়ে; লঙ্কাসুরক্ষিত হইলেও, যেরূপ স্বদেশদ্রোহীর পরামর্শে বিদ্ধস্ত হইয়াছিল, সেইরূপ আরণস সুরক্ষিত হইলেও স্বদেশদ্রোহীর অনুকম্পায়, ইহা বিদেশবাসীর পদানত হইয়াছিল। স্বদেশভক্ত ও স্বদেশদ্রোহী, উভয়কেই বিধাতা যেন, একত্র নির্ম্মাণ করিয়াছেন। আলোকের নিম্নভাগে, যেরূপ অন্ধকার অবস্থান করে, সেইরূপ স্বদেশভক্তের পদতলে, স্বদেশদ্রোহী ক্রিমির ন্যায় অবস্থান করিয়া, অবকাশ ক্রমে তাঁহাকে দংশন করিয়া থাকে।
অলিকসন্দর, এ প্রদেশ জয় করিয়া শশীকোটস্ বা শশীগুপ্ত নামক একজন লোককে এ প্রদেশের শাসন ভার প্রদান করেন। এই লোকটা, অলিকসন্দর যে সময় বাহ্লীক দেশে উপস্থিত হন; সে সময় তথায় তাঁহার সহিত মিলিত হইয়াছিল। তারপর সে, এদেশের ভিতরের ঘরে কথা, অলিকসন্দরকে অবগত করাইয়া তাঁহার বিশ্বাসভাজন হয়। ইহার ফলে সে এ প্রদেশের শাসন কর্ত্তার পদে প্রতিষ্ঠিত হন!
অলিকসন্দর, আরণস অধিকার করিয়া, অবগত হইলেন যে, অপরাজিত অপর অশ্বকগণ, বহুসংখ্যক সৈন্য সংগ্রহ করিয়া, এই