বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতের শিল্প-কথা - অসিতকুমার হালদার (১৯৩৯).pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভারতের শিল্প-কথা

 প্রাচীন বৌদ্ধগ্রন্থ এবং চীন পরিব্রাজক হিয়াঙসিয়াঙ ও ফাহিয়াঙের লিপি থেকে জানা যায় যে, বুদ্ধদেব তাঁর জীবিতকালে এই কৌশাম্বী নগরে বাস করেছিলেন। পৌরাণিক গল্প বা প্রবাদকে বাদ দিয়ে যদি বৌদ্ধ প্রাচীন গ্রন্থাবলীকে মানা যায়, তা’হলে আমরা এই কৌশাম্বীর মধ্যেই প্রাচীনতম স্থাপত্যকলাকে জানতে বা আবিষ্কার করতে পারি। ভিটাগুলি খোঁড়া হ’লে স্থাপত্যকলার অনেক তথ্যই আবিষ্কৃত হ’তে পারে। এই কৌশাম্বীরই এক রাজা উদয়নকে অবলম্বন ক’রে দাক্ষিণাত্যের সংস্কৃত নাট্যকার কবি ভাস ‘বাসবদত্তা’ নাটিকাটি রচনা করেছিলেন।

 প্রাচীন স্থাপত্যের নমুনা আমরা আরো পাই ভরহুৎ ও সাঁচীর রেলিঙে আঁকা ভাস্কর্য্যচিত্রের (bas-relief) মধ্যে ঘরবাড়ীর ছবিগুলি থেকে। তাতে আমরা প্রধানত পাই চৈত্য-ধরণের ছাদের নীচের (ঘোড়ার নালের মত) খিলান দেওয়া গবাক্ষ, যাকে আমরা চালাঘর-ঘেঁষা নক্সার স্থাপত্য-ব’লে গোড়ায় উল্লেখ করেচি। কুমারস্বামী (Encyclopaedia Britannica, 11th Edition) ভারতীয় ভাস্কর্যকলার আলোচনা করতে গিয়ে অতি প্রাচীন চৈত্য-রীতিকে আদিম অসভ্য আসাম অঞ্চলের টোডা জাতির চালাঘরের সঙ্গে তুলনা করেচেন। কিন্তু তার সঙ্গে যতই আকারগত মিল থাক্, ছন্দগত সামঞ্জস্য আমরা পাই না। বরং বাঙলা দেশের ঘরামীর তৈরী চালাঘরের সঙ্গে তার কিছু ছন্দগত মিল থাকতে পারে; বিশেষত বাঙলা দেশের নৌকার চালার বা ছাউনির সঙ্গে। রেলিঙ, তোরণ এবং ঘরের নক্সা যা’ ভরহুৎ, সাঁচী, অমরাবতী প্রভৃতির ভাস্কর্য্যচিত্রে পাওয়া যায়, তা