থেকে মনে হয় যে, তারও অনেক আগে থেকে সেইরূপ স্থাপত্যের চলন ছিল এবং এই সব প্রাচীন স্থাপত্যের চিহ্ন এগুলিতে থেকে গেছে।
সাঁচী ও ভরহুতের স্তূপের চারপাশে যে বেষ্টনী আছে, তাকে ‘বেদিকা’, রেলিঙের মাঝখানকার পাথরকে ‘সূচ’ এবং রেলিঙের মধ্যেকার প্রদক্ষিণা-পথকে ‘মেধী’ বলা হতো। স্তূপটি অর্দ্ধগোলাকারভাবে মাটির উপর দেখা যেতো—অনেকটা জল-বুদ্বুদের মত আকারে। নির্ব্বাণের পর মহাপুরুষদের অস্থি এইরূপ নভোলোকের মত অর্দ্ধবৃত্তাকার (বা ক্ষণস্থায়ী জল-বুদ্বুদের মত) আধারের নীচে রাখার প্রথা ভারতবর্ষে যে কতকাল থেকে চলে এসেছিল, তা জানা যায় না। স্তূপের বিষয় সবিশেষ পরে বর্ণিত হবে। অনেকে অনুমান করেন যে, হিন্দুরাও বৌদ্ধযুগের পূর্বে ঐরূপ স্তূপের মধ্যে মৃত ব্যক্তির অস্থি রাখতেন এবং স্তূপটি সাধারণত মাটিরই তৈরী হ’ত। স্তূপের ধারের রেলিঙ প্রভৃতি যে কেবল স্তূপের জন্যই চলিত ছিল, এরূপ ভাবা সঙ্গত নয়। এই সব রেলিঙ ও তোরণ প্রভৃতি তৈরীর প্রণালী দেখলে বেশ অনুমান করা যায় যে, এগুলি কাঠের কাজের অনুরূপ এবং তারই যেন জের পাথবের কাজের মধ্যেও চলেছিল। পরবর্ত্তী বৌদ্ধ-স্থাপত্যে অজন্তা, বাগ, কেনহেরী প্রভৃতি গুহায়ও তারই সংস্করণ দেখা যায়। কাঠের কড়ি বড়গার নকল পাথরের গায়ে খোদাই ক’রে দেখানো হয়েছে। যদিও সেগুলি অলঙ্কার-রূপে শোভাবর্দ্ধনের জন্যেই আছে, তার আর কোন সার্থকতা নেই। এই সব স্তূপের রেলিঙ ও তোরণগুলি একেবারে তখনকার সাময়িক কল্পনাপ্রসূত বিশেষ একটি সৃষ্টি বলে ধরে নিলে চলে