ব্রহ্মভবন; যে মহাদেবতার অন্তরে জগৎ-চরাচর স্বচ্ছন্দে বিরাজ করচে, সেই পরম দেবতাকে তুমি অন্তরে ধারণ ক’রে আছ, তাই তুমি দেবতাদেরও বন্দিত। তুমি দেবমাতৃসদৃশ এবং তুমি সর্ব্বতীর্থময়। আমার সকল কামনাকে পরিপূর্ণ ক’রে আমার শান্তি সাধন কর, তোমাকে নমস্কার করি।
মহানির্ব্বাণতন্ত্রে আছে:—
বিশ্ববাসায় বাসায় গৃহং তে বিনিবেদিতম্
অঙ্গীকুরু মহেশান কপয়া সন্নিধীয়তাম্॥
অর্থাৎ—বিশ্ব তোমার মন্দির, হে দেবতা, এই গৃহ তোমার মন্দির হৌক, এই নিমিত্ত ইহা তোমাকে নিবেদন করচি। তুমি সকলের মহানেতা, তুমি কৃপাপূর্ব্বক এই মন্দির গ্রহণ কর, দয়া করে তুমি এর মধ্যে সন্নিহিত হও।
ইস্লাম ধর্ম্মে যেমন মসজিদ-প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘কাবাব’ দিকে (পশ্চিমে) মুখ রাখতে হয়, তেমনি হিন্দুশাস্ত্রেও চতুর্দ্দিক চতুষ্কোণের হিসাব আছে এবং মন্দির ও বাসভবন তার অনুরূপ তৈরী করতে হয়। চারদিকে চারটি বিশেষ দেবতা অধিষ্ঠান করচেন। যথা:―উত্তরে অশ্ববাহন কুবের, দক্ষিণে মহিষবাহন যম, পশ্চিমে মকরবাহন বরুণ, পূর্ব্বে হস্তিবাহন ইন্দ্র বিরাজ করচেন। তা’ছাড়া, আবাব বায়ুকোণে হরিণবাহন বায়ু, ঈশানকোণে নন্দীবাহন শিব, অগ্নিকোণে অজবাহন অগ্নি, এবং নৈর্ঋৎ কোণে গরুড়বাহন বিষ্ণু আছেন। দেবতা ও স্থান বুঝে মন্দিরের স্থাপনা করা হতো। আচার্য্য ও পুরোহিতেরা তার শাস্ত্রীয় বিধান বলে দিতেন।
মৎস্যপুরাণে উল্লেখ আছে আঠারো জন বাস্তুশাস্ত্রজ্ঞ আচার্য্যের নাম। যথা: (১) ভৃগু, (২) অত্রি, (৩) বশিষ্ঠ,