জ্ঞানভদ্রের নিকট সাধন-শিক্ষা আরম্ভ হল। শিক্ষা শেষ হলে জিনগুপ্ত আচার্য ও সহাধ্যায়ীদের সঙ্গে ধর্মপ্রচারের জন্য বিদেশ যাত্রা করেন। তাঁদের দলে ছিল দশজন ভিক্ষু—সকলেই অজ্ঞাত পথের কষ্টস্বীকারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
পুরুষপুর হতে রওনা হয়ে জিনগুপ্ত ও তাঁর সঙ্গীরা কুভা বা কাবুল নদীর উপত্যকা বেয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে চললেন ও নগরহার (বর্তমান জেলালাবাদ) অতিক্রম ক’রে কপিশদেশে পৌঁছলেন। কপিশরাজ্য এ সময়ে ছিল গান্ধার অপেক্ষাও সমৃদ্ধিশালী, তার কারণ ভারতবর্ষ থেকে উত্তরবাহী প্রধান পথ কপিশ হয়ে বাহ্লীক ও অন্যান্য দেশে পৌঁচেছে। সেজন্য কপিশ ছিল নানা দেশের বণিকদের মিলনকেন্দ্র বা সরবরাহের স্থান। কপিশরাজ্যেও তখন বৌদ্ধধর্ম প্রবল, রাজা স্বয়ং বৌদ্ধ, সুতরাং জিনগুপ্ত ও তাঁর অনুচরেরা রাজদরবারে বিশেষভাবে সমাদৃত হলেন। কপিশ হচ্ছে সেই দেশ বর্তমান কালে যাকে কাফিরিস্তান বলা হয়; এ দেশ থেকে হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রম করবার তিনটি প্রসিদ্ধ গিরিপথ আছে—পাঁজশির নদীর উপত্যকা, কুশান উপত্যকা এবং আরও পশ্চিমে বামিয়েন উপত্যকা। জিনগুপ্ত এই তৃতীয় পথে কপিশ পরিত্যাগ করে হিন্দুকুশ পর্বতের পশ্চিম পাদদেশ অতিক্রম করে হূণদের (যাদের ইতিহাসে বলা হয় White Huns বা Hepthalites) দেশে আগমন করলেন। এ দেশে জনপদ বিরল, লোকের বসবাস অল্প; তাই আশ্রয়ের অভাবে জিনগুপ্ত ও তাঁর সহচরদের এ দেশে পথ চলা বিশেষ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠল। এই হূণরাজ্য অবস্থিত ছিল বাদাক্সান (Badaksan) ও ওয়াখান (Wakhan) অঞ্চলে। পুরাণ ও অন্যান্য সংস্কৃত গ্রন্থে যে সব ভৌগোলিক বৃত্তান্ত রয়েছে তাতে এ রাজ্যকে বোক্কন (বর্তমান Wakhan) নামে উল্লেখ করা হয়েছে।