আত্মার এ দৈন্য কেন?
স্বরাজের কোন আশাই নাই। যদি বা কোন গতিকে স্বরাজ লাভ ঘটে তা’ হ’লে জাতিকে ভ্রাতৃঘাতের দুস্তর রক্ত-নদী পার হয়ে সে স্বরাজ পেতে হবে। বহিরঙ্গ আনুষ্ঠানিক ধর্ম্মের গোঁড়ামী অজ্ঞ সহজ-বিশ্বাসী গণশক্তির হাতে চিরদিনই লঙ্কাদাহের মশালে পরিণত হয়। একথা বলে কোন লাভ নেই, যে, বিদেশী শাসক সম্প্রদায়ই এই সম্প্রদায়িকতার আগুনে ইন্ধন জোগান। জাতির রক্তে যে বিব আছে, যে কোন উত্তেজক কারণ তার বহিঃ-প্রকাশ আনবেই। আমাদের জাতীয় যজ্ঞের পুরাতন নেতাদের অনেকেই অল্প বিস্তর এই বিষ অন্তরে পোষণ করেন। তাঁদের অনেকেই ভুলতে পারেন না, যে, তাঁরা হিন্দু বা মুসলমান, কারণ শুধু বাহিরেই নয় তাঁদের মনেরও গজিয়েছে টিকি এবং দাড়ী। তাঁদের চোখে আগে পড়ে হিন্দু বা মুসলমান, ব্রাহ্মণ বা শূদ্র, মুচী বা মেথর, পরে অনেক করে ভেবে চিন্তে তবে বুঝতে পারেন ওরা মানুষ, ওরা ভারতবাসী। সঙ্কীর্ণ অনুদার সমাজ ও ধর্ম্মের বশে আমরা বহু কাল থেকে মানুষকে মানুষ বলে চিনতে ভুলে গিয়েছি।
আধুনিক তরুণ তুর্কীর জন্মদাতা কেমাল যে অসির মুখে এই অপধর্ম্মের আগাছাকে জাতীয় জীবন থেকে উন্মূলিত করে ফেলে দিয়ে জাতিকে সুস্থ নিরাময় করেছেন সে কি মিছে? সোভিয়েট রাশিয়ার তরুণ মন আজ যে নিরীশ্বরবাদী তার কি কোন কারণ নাই? এই যদি ভগবান হয়, ধর্ম্ম হয়, যা’ অশিক্ষিত ধর্ম্মান্ধ জনতার মুখে তোমাকে আমাকে বলে হত্যা করতে, ঘরে ঘরে আগুণ দিতে, নারীর সতীত্ব নাশ করতে, লুণ্ঠন করতে, শিশু ও নারী বধ করতে একটা তুচ্ছ গাভীর জন্য, ইটপাটকেলে গড়া তুচ্ছ মন্দির বা মস্জিদের সামনে গীত বাদ্যের জন্য তা’
৯৩