বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

হলে সে ধর্ম্ম সে ভগবান যে সয়তানের ফাঁদ তাতে আর সন্দেহ কি? সভ্য ও শিক্ষিত মানুষ—তা’ সে হিন্দুই হোক বা মুসলমানই হোক, অপধর্ম্মের এ জাঙ্গাল রাখবে না, এক দিন ধূলিসাৎ করে দেবেই। ভারতের বাহিরের জীবন্ত মুসলমান ও খৃষ্টান দেশগুলি এ জঞ্জাল ক্ষিপ্র হস্তে দূর করছে, হিন্দু ও মুসলমান ভারতকেও বাঁচতে হলে শীঘ্র হোক বিলম্বে হোক তা’ করতে হবে। ধর্ম্মান্ধের স্বরাজ নাই, জাতি বা শ্রেণী বিদ্বেষের যে পূজারী তার মুখে মুক্তির বাণী শোভা পায় না। ভারতে ধর্ম্ম-বিদ্বেষ প্রচুর আছে, তার সঙ্গে জাতি-বিদ্বেষ, শ্রেণী-বিদ্বেষ, বর্ণ-বিদ্বেষ জুটে জাতির স্বাস্থ্য নষ্ট করে আনছে। তাই আগে জাতির অন্তঃশুদ্ধি তার পরে স্বরাজ, আগে সংগঠন তার পরে মুক্তি। আগে ঐক্য তারপরে স্বরাষ্ট্র রচনা। আমরা এত দিন এর বিপরীত প্রচেষ্টাই করেছি, অন্তরের দিকে চক্ষু মুদে বাহিরকে গুছাতে চেয়েছি, তাই পদে পদে ঘটেছে এত পরাজয়, এত ব্যর্থতা। ভারতের শত্রু বিদেশী নয়, বাহিরের কাহারও দেওয়া শিকল নয়, ভারতের প্রকৃত শত্রু, আসল বন্ধন ও দৈন্য আমাদের অন্তরে।

গঠনের অন্তরায়—

রাজনীতিক বা জাতীয় ঐক্য সহজে আসে না। য়ুরোপকে আমরা সভ্য মনে করি, তারা আমাদের মত পরাধীন নয়, তবু সেই য়ুরোপে মুসোলিনী, হিটলার, লেনিন ও ষ্ট্যালিনের মত ডিক্টেটর আবশ্যক হয় জাতির গঠন-পরিকল্পনায় ও কাজে ঐক্য আনতে—সেই ঐক্যকে কার্য্যকরী করতে। মূক অন্ধ গণশক্তিকে কল্যাণমুখী করবার জন্য ডিমোক্র্যাশীতে কুলায় নাই, সেই অতি-পুরাতন

৯৪