গঠনের অন্তরায়
অটোক্র্যাসী নূতন মুখোস পরে কাজে নেমেছে; তবে এসেছে সংহতি, ঐক্য, শৃঙ্খলা। বিধিপ্রেরিত ইংরাজ গুরুর কাছে রাজনীতি ও কর্ম্ম-কৌশল শেখা আমাদের কাছে তিক্ত ও অপমানকর মনে হয়, অথচ কি কংগ্রেসে আর কি আধা-সরকারী গোল টেবিলের কন্ফারেন্সে সম্মিলিত জাতীয় নেতাদের একযোগে কাজ করবার কোন সামর্থই দেখা যায় না। স্বরাজের ফেডারালী খস্ড়া গড়তে বসে ভারতের হিন্দু মুসলমান নেতারা নিজেদের মধ্যে কোন ঐক্যই খুঁজে না পেয়ে প্রধান মন্ত্রী ম্যাক্ডোনাল্ড সাহেবকে ধরে পড়লেন একটা যা’ হোক সরাসরি বিধান দিয়ে দিতে।
আসলে আমরা বাগবিতণ্ডার রাজনীতি, ভাগবাঁটোয়ারার রাজনীতি অনেক করেছি, যা’ আছে তা’ নষ্ট করবার রাজনীতি অনেক নেড়েছি, কিন্তু কাজের রাজনীতি আদৌ করি নাই। অথচ গঠনের আদর্শ নিয়ে জাতি গড়তে নামলেই তবে জাতিতে জাতিতে সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে ঘুচবে এই অপ্রীতি ও অবিশ্বাস, হানাহানির হট্টগুলে রাজনীতিতে তা মোটেই ঘুচবে না। যেটুকু গঠন আমরা এপর্য্যন্ত ভেবেছি বা করেছি তা’ শুধু লোক-দেখানো আন্দোলন হিসেবে, রাজনীতিক চাল হিসেবে। আমরা স্বদেশী করেছি ইংরাজকে ভাতে মারতে, মদ ছেড়েছি ইংরাজের আবগারী অচল করতে। জেলে গেছি ইংরাজের মাথা হেঁট করতে, নগ্ন নিরন্ন দেশবাসীর অন্নবস্ত্র যোগাতে নয়, কর্ম্মবিমুখ দেশকে কৃষি বাণিজ্য শেখাতে ও মানুষ করতে নয়। আমরা এসেম্ব্লিতে কাউন্সিলে গেছি নূতন বিধি ব্যবস্থা গড়ে জাতির অশিক্ষা ও দৈন্য ঘুচাতে নয়, ইংরাজের শাসনচক্র কাণা করতে। আমাদের কর্ম্মের পুঁজি ও প্রেরণা দেশপ্রীতি তত নয়, জাতি-বিদ্বেষ যত। যদি গঠনের কাজে
৯৫