ভারত কোন্ পথে?
আমরা সেই নেতাদের লাগাই যাঁরা মানুষ হয়েছেন বক্তৃতা-মঞ্চে ও সুলভ মাল্য করতালির মাঝে, যদি আমরা জাতীয়তার বাহন করি সেই কর্ম্মীদলকে যারা নিজেরাই গড়ে উঠেছে মিটিং ও শোভাযাত্রার ফাঁকা ভাববিলাসে, তা হলে সে গঠন-যজ্ঞ পণ্ড হবে তাতে আর আশ্চর্য্য কি? আমাদের কংগ্রেসী স্বদেশী, রাজনীতিক চাল হিসেবে ঐ ভূয়া পল্লীগঠন ও দলিতোদ্ধার করা হয়েছে নিতান্তই আনাড়ী ভাবে যা তা উপকরণ নিয়ে। কারণ এ কাজগুলো ছিল গৌণ কাজ—ফাঁকি দিয়ে চাল মেরে স্বরাজ প্রাপ্তির সহজ উপায় মাত্র; এ আমাদের মনের কথা নয়।
শুধু কি তাই? পরাধীন দেশের রাজনীতি কিঞ্চিদধিক সংঘর্ষ মূলক হবেই। দু’টো আপাতবিরোধী স্বার্থের যেখানে চলেছে টানাটানি, টাগ্ অব্ ওয়ার্ সেখানে রাজনীতিক নেতারা রয়েছেন একটা হানাহানির অনিশ্চয়তার মাঝে। তাঁরা এত বড় দরিদ্র দেশের শিক্ষা, কৃষি, বাণিজ্যকে তুলবেন কি করে? স্বরাজই যখন জাতির সকল দৈন্য অপনোদনের সেরা উপায়, সহজ মুষ্টিযোগ, তখন এসব দিকে মন দেবার তাঁদের অবসর বা মতি গতি কোথায়?
জাতি গঠনের ভিত পাকা বনিয়াদের উপর গড়তে হ’লে আমাদের চাই জাতীয় তর্কমহাসভা রূপ কংগ্রেস নয় কিন্তু গঠনমূলক মনোবৃত্তির কার্য্যকরী কংগ্রেস যা’ জাতীয় জীবনের দিকে দিকে গঠনের সুষ্পষ্ট পরিকল্পনা স্থির করে তা’ কাজে কর্ম্মে হাতে কলমে সফল করবার উপায় ও ব্যবস্থা করবে। একটি বড় গোছের বাৎসরিক ডিবেটিং সোসাইটি, আলোচনা সভা যা’ কেবল চুলচেরা যুক্তিজালে ধুরন্ধর, কথা ও বাকবিতণ্ডার জন্য
৯৬