বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

গঠনের অন্তরায়

জিহ্বাকণ্ডুয়ন যার অত্যধিক, সে কংগ্রেস জাতিকে ভাবে নাচাতে পারে, কাজে নামাবে কি করে? আমরা চাই সত্যকার কর্ম্মীর কংগ্রেস; ব্যবসায়ে, বাণিজ্যে, কৃষিতে, শিল্পে অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে এমন কৃতী মানুষ ও বিশেষজ্ঞের কংগ্রেস যাঁরা বড় বড় কার্য্যকরী প্রতিষ্ঠান নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন, তা’ নিয়মিত ও পরিচালিত করে অভিজ্ঞ হয়েছেন। যখনই জাতির কোন সমস্যা সঙ্গীন হয়ে ওঠে তখনই গভর্ণমেণ্ট বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেন, তারা কমিটিতে বসে গড়ে দেয় সুষ্ঠু ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা, গভর্ণমেণ্ট তা’ বিধিবদ্ধ করে কাজে ফলাতে চেষ্টা করেন। দেশে পল্লী স্বাস্থ্য, শিল্প-সংগঠন, শিক্ষা বিস্তার, কৃষি-ঋণ, সমাজ সংস্কার সবই অল্প বিস্তর গভর্ণমেণ্ট করেছেন এবং করছেন। আমরা কিন্তু সেই সব সমস্যা নিয়ে চুল-চেরা আলোচনায় ও বাগবিতণ্ডায় শুধু কলহ ও অনৈক্য ঘনিয়ে তুলছি, তার পর মহাত্মাজী বা আর কারও শরণাপন্ন হচ্ছি একটা যা হোক সমাধানের জন্য। দেশের জনবল ধনবল আছে সংগৃহীত হয়ে যে গভর্ণমেণ্টের হাতে ও যে ব্যবস্থা পরিষদের হাতে, তাকে আমরা অস্পৃশ্য করে রেখে বাঁচাতে চাই অসহযোগী কংগ্রেসের ভূয়া প্রেষ্টিজ, আর সরকারী পরিকল্পনাকে গালি দিই eye-wash বলে। এই যদি জাতীয় আন্দোলন হয় তা’ হলে সে জাতির কল্যাণ সুদূর–পরাহত, কারণ সে জাতি আপন ধনবল জনবল থেকে আপন শক্তি ও ঐশ্বর্য্যের ঘর থেকে বিবাগী ও বনবাসী হয়েছে মনের দুঃখে ও ব্যর্থ অভিমানে।

 দেশের বিভিন্ন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠানের নেতা ও কর্ম্মীদের নিজেদেরও কোন কার্য্যকরী শিক্ষা নাই এবং কোন বিশেষজ্ঞের সাহায্যও তাঁরা কখনও গ্রহণ করেন না। আমাদের চরকা-মার্কা অর্থনীতির পরিকল্পনা

৯৭