বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ভারত কোন্ পথে?

কৃত্রিম অকেজো পুঁথিগত বিদ্যার প্রাচীর। দেশবন্ধুর প্রেমিক কবিপ্রাণের উন্মাদনা ও বাণী হাজারে হাজারে আনাড়ী ছাত্রকে পাঠিয়েছিল পল্লীর অস্বাস্থ্যকর দৈন্যে ও অন্ধকারে, লক্ষ লক্ষ টাকা জলে দিয়ে তারা ফিরে এসেছিল ভগ্ন মন ভগ্ন স্বাস্থ্য নিয়ে। আমরা বনের অজ্ঞ বানরের মত গিয়েছিলাম জীবনের জটিল বিপুল যন্ত্র মেরামত করতে। এই হচ্ছে আমাদের কংগ্রেসী গঠন, স্বরাজের ভিত রচনা। কারণ এখনও আমরা ভাবি দেশ থেকে ইংরাজ তাড়ানো সহজ ও প্রথম কাজ, কিন্তু দেশের দৈন্য ও অশিক্ষা নিবারণ বড় কঠিন ব্যাপার; ও-সব স্বরাজের পরে পশ্চাতে দেখে নেওয়া যাবে। আমাদের দেশের কাজে ষ্টীম্‌ জোগাতে পারে এক প্রবল বিদেশী বৈরী, এ রাজনীতিক শত্রু যদি কখনও মিত্রে পরিণত হয় তা’ হলে আমাদের বিদ্বেষমূলক জাতীয়তা বেলুনের মত ফেঁসে যাবে, এই ভয়ে এ শত্রুকে আমরা দেশকল্যাণের সহযোগী করতে আদৌ প্রস্তুত নই। অসহযোগের মনটাকে কাজেই নানা উপায়ে চাবুক মেরে মেরে জাগিয়ে রাখা আমাদের কর্ম্ম-বিমূখ আন্দোলন-লোভী রাজনীতির অবশ্য কর্ত্তব্য।

 গণশক্তির কল্যাণে কংগ্রেস কার্য্যতঃ সর্ব্বদাই বিমুখ, আজ মাত্র দু’ চার বছর তার চিন্তা জেগেছে দেশের নিরন্ন বঞ্চিত চাষী মজুরের কল্যাণের দিকে; কিন্তু জাতীয় মহাসভার কাজে তাদের সহযোগিতার কোন ব্যবস্থা তো করাই হয় নাই, তাদের অভাব অভিযোগ নিবারণ করাটা কংগ্রেসের কর্ম্মধারার মাঝে নিতান্তই গৌণ হয়ে আছে। নেতারা যে বলেন, যে, স্বরাজ তাদের কল্যাণ করবে এর চেয়ে বড় মিথ্যা কথা আর নাই। রামচন্দ্রের যুগ থেকে আজ পর্য্যন্ত কোন স্বাধীন দেশেই স্বরাজ তাদের দৈন্য ঘুচায় নাই, তাদের মানুষ করবার চিন্তা পর্য্যন্ত সেখানে নাই। ভদ্রলোকের রচিত

১০০