বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/১১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

মুক্তি কোন্ পথে?

সমাজ ও রাষ্ট্র মুখ্যতঃ শুধু তাদেরই কল্যাণ করেছে এবং ধর্ম্মের ও বর্ণ গরিমার নামে জনসাধারণের পায়ে শিকলের উপর শিকল পরিয়েছে। গণশক্তির জাগরণ, তাদের মনুষ্যত্বে দীক্ষা দান, সমাজে তাদের সমান অধিকারের ব্যবস্থা করা এ সব স্বপ্ন পাশ্চাত্যেই জেগেছে। যাদের আমরা ভারতের স্বাধীনতার অপহর্ত্তা ম্লেচ্ছ জাতি বলে ঘৃণা করি তারাই জগতের শূদ্রকে মানুষ বলে বুকে নেবার স্বপ্ন সেই ফরাসী বিপ্লবের দিন থেকে আজ অবধি দেখে আসছে, এরাই হচ্ছে সত্যকার মুক্তির পূজারী, আমরা দাসত্বের রচয়িতা ও মানুষের বন্ধনের ঋষি মাত্র।

মুক্তি কোন্ পথে?—

 ভাঙনের ও নেতি নেতির আবহাওয়ায় গড়া আমাদের রাজনীতিক মন দেশব্যাপী গঠনের বৃহৎ পরিকল্পনা করতে পারে না, জাতীয় জীবনের মহাব্রত উদ্‌যাপনে উদ্দীপনা যোগাতে পারে তেমন কার্য্যকরী ব্যাপক চেষ্টা ধারণা করা এই ফাঁকা আন্দোলনবিলাসী জাতির পক্ষে কঠিন। দেশের তরুণ ছেলে মেয়েরা হাজারে হাজারে লাখে লাখে নেমে গেছে ঔ অস্পৃশ্য আপাঙক্তেরের স্তরে, ঐ মাঠের কাদায়, কারখানার ধুলায় ও ধোঁয়ায়, হাটের বিকিকিনির গণ্ড গোলে; সেখানে তাদের মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তির বলে তারা প্রাণপাত করে গড়ে তুলছে তিলে তিলে সুখসমৃদ্ধির ও ধন ধান্যের ভারত—এ স্বপ্ন আমাদের নেতাদের রাজনীতি-বিকৃত মস্তিষ্কে গজানো শক্ত কথা। রাজনীতিক চালের সহজ চালিয়াৎ আমরা এখনও বুঝি নাই, যে, খাঁটি গঠনের মাঝেই আছে সত্যকার ভাঙনের বীজ। নূতন জীবন-ধারাই পুরাতনের

১০১