ভারত কোন্ পথে?
জাঙ্গালকে নিতে পারে ভাসিয়ে। গঠনের পরিকল্পনা ও চেষ্টা বর্জ্জিত নিছক ভাঙার জন্য যে উন্মাদনা সে হচ্ছে অবোধ বালক বা পাগলের কাজ।
দেশ যখন ভ্রান্ত ধারণার বশে একটা প্রাণহীন পুরাতনকে বা গলিত শবকে আঁকড়ে পড়ে আছে, তখন তাকে একটি নূতন রূপে ও সুষমায় এবং নূতন প্রাণধারায় জীবন্ত ও সুন্দর কিছু দেখালেই পার্থক্যটা তার চোখে যেমন সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে কথায় তা’ কখনও হবে না। পুরাতন মৃত বনাকীর্ণ পল্লীর পাশে গড়ে তোল একটি শ্রীসম্পন্ন পরিচ্ছন্ন নূতন পল্লী,—সমবায় পদ্ধতিতে যার আছে বৃহৎ যৌথ কৃষি ক্ষেত্র, যৌথ কৃষি ব্যাঙ্ক, নিজস্ব ম্যার্কেটিং বোর্ড, যৌথ যান বাহনের ব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগার, বৈজ্ঞানিক কৃষিযন্ত্রাদি, চিনি লবণ ও শিল্পের কারখানা, তা’ হ’লে অজ্ঞ চাষীর মনে আপনি জাগবে নূতন আশা, নূতন স্বপ্ন। এইরূপ একটি নূতন পল্লীই দেশে আপনি গজিয়ে তুলবে পল্লী-লক্ষ্মীর এরকম শত শত জীবন্ত পীঠস্থান। তখন কাজের ইন্দ্রজাল স্পর্শে দেশজুড়ে নিমেষে জাগবে সত্যকার কাজ, দশ বছরের কথায় যা’ জাগতে পারে নাই। মন ও স্বাস্থ্য যাদের গেছে ভেঙ্গে, অভাব ও ঋণভার যাদের মন ও প্রাণ করেছে সঙ্কীর্ণ, ক্ষুদ্র ও বক্তিগত স্বার্থের লোভী, তাদের চোখের উপর ভবিষ্যৎকে হাতে কলমে গড়ে না তুললে তারা শিক্ষিত সম্প্রদায়কে কখন বিশ্বাস করবে না। যে ভদ্রলোকেরা জমিদার রূপে, মহাজন রূপে, সরকারী কর্ম্মচারী রূপে, ডাক্তার উকিল রূপে করেছিল এত দিন তাদের শোষণ ও শাসন, তাদের কথার তখনই হবে মূল্য, দেশের চাষীর কাছে, মজুরের কাছে, নিঃস্বের কাছে; তখনই তারা শুনবে আমাদের স্বাস্থ্যের বক্তৃতা, মদ্য নিবারণী কচায়ন, ভোটের মূল্যের
১০২