বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/১১২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

মুক্তি কোন্ পথে?

কাঁদুনী। গ্রামের মাঝখানে শিল্পের ছোট ছোট কারখানা— যেখানে অবসর সময়ে, অজন্মার সময়ে তাদের ছেলে মেয়ে কাজ পায়, উপরি উপার্জ্জন করতে পারে,—সেইগুলিই নিতে পারে সত্যকার স্কুলের জায়গা, প্রকৃত শিক্ষাকেন্দ্রের স্থান। দরিদ্র নিরন্নকে অতিথ শালা ধর্ম্মশালা খুলে জলাশয় খনন করে ভিক্ষা দেবার ও উপকার করবার পুরাতন প্রথা দিতে হবে তুলে। দানের অপমানে তাদের অন্তরের দরিদ্র নারায়ণ কখনও মানুষ হবে না; তাকে শেখাতে হবে মানুষ হতে, নিজের অদৃষ্ট নিজে ফিরাতে; তাকে ফিরে দিতে হবে সামর্থ্য ও সাহস—নিজে উঠে দাঁড়াবার, বড় হবার।

 আমাদের কুটীর শিল্পোন্নতি ও বৈজ্ঞানিক কৃষির পরিকল্পনার মাঝে অঙ্গীভূত করে নিতে হবে দেশের বাধ্যতামূলক শিক্ষাকে, পল্লী স্বাস্থ্যের অভিযানকে। যারা উপায় করবে অন্ন বস্ত্রের তারাই দেবে জ্ঞান। সহস্র সহস্র পল্লীতে চাই অবৈতনিক শিক্ষাকেন্দ্র; সমবায় পদ্ধতিতে শিল্প ও যৌথকৃষির সেই স্বাবলম্বী কর্ম্মীদল—তারাই অবসর সময়ে হবে গ্রামের স্কুল। এই গঠন শিল্পীর দল নিজেদের ও পল্লীর অন্ন বস্ত্রের সংস্থান করে নিজেরাই হবে অবৈতনিক শিক্ষার বাহন। এই ফ্যাক্টরী-স্কুল ও ফার্ম-স্কুল গুলিই একই সমবায় প্রণালীর অন্তর্গত হয়ে সহজেই পূরণ করতে পারে কৃষকের সকল উন্নতির প্রচেষ্টার স্থান।

 দেশের ত্যাগী মহাপ্রাণ তরুণদের নিয়ে ভূয়া আন্দোলনের ভ্যাগাবণ্ড্ ভলাণ্টিয়ার গড়ে কোন লাভ নাই। দেশ-গঠনের এত সুন্দর উপকরণ এমন করে বিকৃত ও অপব্যয় করার মত পাপ আর কি আছে? যে নিজের পায়ে স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই পারে অন্যকে স্বাবলম্বী হবার শিক্ষা দিতে, গ্রামের অনুকম্পার

১০৩