ভারত কোন্ পথে?
ভিখারী ও ফাঁকা কথার ব্যবসায়ী তা পারে না। যে রাশি রাশি টাকা ও প্রাণশক্তি আমরা অচল খদ্দরের পায়ে ঢেলেছি তার অর্দ্ধেকে গড়ে উঠতে পারে হাজার পল্লী জুড়ে এমনি একটি স্বাবলম্বী পল্লী-বিশ্ববিদ্যালয়। যাঁরা হাতের কাজে আনাড়ী, বৃহৎ গঠনমূলক প্রতিষ্ঠানে অনভ্যস্ত, তাঁরা এ কাজে হাত না দেওয়াই ভাল। দেশ জুড়ে খাঁটি কর্ম্মচক্র গড়তে হলে চাই বিশেষজ্ঞের সাহায্য, গভীর চিন্তা, হাতে কলমে বহু পরীক্ষা, এই দিক দিয়ে বহু তথ্যসংগ্রহ, দেশজুড়ে পর্য্যটন ও বহুমুখী অভিজ্ঞতা। দেশবাসী ও গভর্ণমেণ্টের সমবেত শক্তিই কেবল এ দুরূহ ব্রত উদ্যাপন করতে পারে।
শ্রীঅরবিন্দের জাতীয় শিক্ষা, দেশবন্ধুর পল্লীসংগঠন, মহাত্মাজীর অর্থনীতিক প্রচেষ্টা ও অস্পৃশ্যতা নিবারণ সবই সমান বর্থতায় পর্য্যবসিত হয়েছে, কারণ এঁরা সকলেই উপেক্ষা করেছিলেন দেশের শাসন শক্তিকে, ব্যবস্থাপক মণ্ডলীকে, legislative ও executive শক্তিকে। তাঁরা গেছিলেন হাওয়ায় রাজপ্রাসাদ গড়তে, ভাবের চোরাবালুর উপর দেশযজ্ঞের ভিত্তি রচনা করতে। তাই স্বায়ত্তশাসনে নাগরীক স্বাধীনতা দিতে হয়েছিল ঐ বহু-লাঞ্ছিত Satanic গভর্ণমেণ্টের সাহায্যে নরম-পন্থীর রাজা সুরেন্দ্র নাথকেই। বাংলায় দেশবন্ধুর স্বরাজ্যদলের যত শক্তি যত চেষ্টা ও স্থায়িত্ব সবই মডারেটের দান সেই কর্পোরেশনেরই প্রসাদাৎ।
এই কর্ম্মনাশা মনোবৃত্তির চাই আশু অবসান; নেতায় ও শাসকে আসা দরকার সহযোগিতা। তা’ নইলে দেশব্যাপী গঠন আকাশ-কুসুম হয়েই থাকবে। দেশের শাসন-শক্তি যে নিতান্তই দেশের, জাতীয় ধনজনবলেই তা গঠিত ও পুষ্ট,—তা’ হাজার বিদেশীর সাহায্যই সেখানে থাকুক, এই মোটা কথাটা দেশের কর্ম্মী ও নেতাদের
১০৪