মুক্তির মায়া
কিসে মানুষের ভাল হয় আজও তার সুষ্ঠু মিমাংসা হ’ল না, আদর্শের সংঘর্ষে শুধু নরমেধই জমে উঠলো, শুধু পাষাণস্তম্ভ ফেটে নখদন্তে ভীষণ নৃসিংহ-রূপই বার বার মানুষ আবাহন করে করে বাহির করলো, দ্বেষ হিংসা রাগ অভিমানে এমন শীতল শান্তরস সুখনিবিড় আকাশ বাতাস প্রকৃতি হয়ে উঠলো কালো। সভ্যতার শিশুকাল থেকে এই বর্বরতা চলে আসছে, মানুষের রক্তে অভিষিক্ত হয়ে মানুষ বনছে রাজা, কুরুবংশ ধ্বংস করে উঠছে নব নব পঞ্চপাণ্ডবের রত্ন সিংহাসন। ধরে, বেঁধে, মেরে, উচ্ছন্ন করে, দলনে পীড়নে অত্যাচারে পিষে মানুষ করছে মানুষের কল্যাণ। এই মানব-কল্যাণের গুণ্ডামীতে আপন পর সবাই সমান, স্বদেশী বিদেশী সব চেঙ্গিজ খাঁ তৈমুর লঙ্গের একই চেহারা, সব নরমেধেরই অন্তিম লক্ষ্য শান্তি স্থাপনা, সুশাসন, মানব কল্যাণ। হায় রে মানব কল্যাণ!
তাই এই সব দেখে এক একবার মনে হয় মানুষ কি সত্যই সভ্য? একটুখানি আঁচড়ে যার বাইরের রঙ ও জলুস চটে গিয়ে অন্তরের পশু বিকট দংষ্ট্রা বার করে বেরিয়ে পড়ে সে মানুষ কি সত্য সত্যই শিক্ষিত? এই আত্মঘাত আত্মদ্রোহই কি মানুষের চিরকালের অদৃষ্ট ও ভবিতব্য? প্রেমের ধর্ম্ম প্রচার করতে এসে যীশু কি চিরদিনই ক্রুশবিদ্ধ হবে, চিরদিনই মানুষের মদমত্ত সভ্যতার বুকে পথ-রেখা এঁকে চলে যাবে মানব-প্রেমের সহিদের রক্ত? প্রেম, মমতা, মানব-প্রীতি কি তবে দুর্ব্বলতা? মুক্তি কি তবে শৃঙ্খলের পীড়নেরই নামান্তর?
কিন্তু ভেবে দেখলে বোধ হয় সত্য ও-রকম একপেশে নয়। এই সুন্দর কুৎসিৎ, কঠোর কোমল, ভীষণ মধুর, হিত অহিত সব নিয়ে যে সোণার সূতোয় গাঁথা মালা সেই বুঝি আসল সত্য। শক্তি বাদ নিয়ে শুধু প্রেম ব্যর্থ, প্রেম বাদ দিয়ে শুধু শক্তি রাক্ষসী মায়া; সংহার বাদ দিয়ে শুধু পালন শিবহীন সৃষ্টি—দুর্ব্বলতাই তার অনিবার্য্য পরিণাম। সৃষ্টিকে
৫