বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্রকৃত ভারত কোথায়?

সত্যকার ভারত, সত্যকার দেশ। আমরা মুষ্টিমের শিক্ষিত সমাজ সেই আবদ্ধ জলের ভাসমান শৈবাল মাত্র।

 তারা কি কখনও আমাদের রামমোহন, আমাদের বিবেকানন্দ, আমাদের মহাত্মা গান্ধীর নাম শুনেছে? তাদের জড় মনের কাছে আমাদের লেনিন, আমাদের রবীন্দ্র নাথের কি কোনও অর্থ হয়? তারা কি বোঝে আমাদের ফেডারাল ভারতের কনষ্টিটিউশন, মহাত্মাজীর স্বরাজ আর জওহরলালের গণতন্ত্রের কোথায় পার্থক্য? তাদের ক্ষুধায় ও দৈন্যে বিকৃত মস্তিষ্কে আমাদের এই সব বড় মানুষ ও মহাপুরুষেরা উপকথার দৈত্য বা হুরী পরীর মতই ভালীক অবাস্তব ব্যাপার। তাঁদের অনেকের সম্বাদ তারা রাখে না, মহাত্মাজীর মত দু’একজনের নাম মাত্র তারা শুনেছে। তাদের গ্রাম্য বট অশ্বত্থের তলার মাঝে মাঝে ত্রিশূলধারী জটাজুট সন্ন্যাসী এসে বসে। কোন এক অজানা মুক্তির আশায়, আধি ব্যাধি দুঃখ দৈন্য মোচনের দুরাকাঙ্ক্ষায় তারা এসে ভয়ভক্তি ভরে ঐ সাধুর কাছে জড় হয়। জগতের চির অনাদৃত আর্ত্ত—তাদের কাছে মহাত্মাজীর কল্পিত স্বরাজও ঐ অজানা অস্পষ্ট ত্রিতাপহারী মুক্তিরই সামিল। তারই মত এক অবাস্তব স্বপ্ন।

 তবু আমাদের মত শিক্ষিত ইঙ্গবঙ্গ বাবু-নেতার চেয়ে মহাত্মাজীকে তারা বোঝে ভাল; তাঁর নগ্ন দেহ কৌপীন ধারণ এবং ধর্ম্ম ও অহিংসার কথা তাদের কাছে অতখানি প্রহেলিকা নয়। রাজনীতিক নেতার চেয়ে ত্যাগের মূর্ত্তি—অহিংসা অস্পৃশ্যতা ও ধর্ম্মের ঋষি তাদের কাছে অনেক সহজ-বোধ্য বস্তু। “ক্ষুধাই ক্ষুধিতের ড্রিল সার্জ্জেণ্ট” সাম্যবাদী জওহরলালজীর একথা কথঞ্চিৎ সত্য হতে পারে, সে কেবল আজকে রাশিয়ার সাম্যবাদ আদর্শরূপে আমাদের শিক্ষিত সমাজের চোখের সামনে এসেছে বলে। কিন্তু শ্রীরামচন্দ্রের রাম রাজত্বের যুগ থেকে আজ অবধি ভারতের