ভারত কোন্ পথে?
শতকরা নব্বই জন দীন দরিদ্র চাষাভূষা এই অসহ্য ক্ষুধার তাড়না মূকধরিত্রীর মতই সহ্য করে এসেছে। অভাব দৈন্য তাদের কখনও রক্তপিপাসু হিংস্র পশু করে তোলে নি। এই দুরপনেয় দৈন্য সত্ত্বেও অন্তরাত্মার ক্ষুধা যুগযুগান্তর ধরে তাদের করেছে অজন্তা তাজ ও মাদুরার শিল্পী, কি এক অব্যক্ত রূপ ও সুষমার প্রেরণা তিল তিল করে তাদেরই হাতে গড়ে তুলেছে ভারতের অনুপম কলা, শিল্প ও কৃষ্টির সভ্যতা। টাকা দিয়ে শিল্পীকে, কবিকে, ঋষিকে প্রতিপালন করেছে রাজা ও দেশের ধনীরা, কিন্তু এই কৃষ্টিকে রক্ষা করেছে যারা তারা লক্ষ্মীর কৃপায় চিরদিনই ছিল বঞ্চিত।
রাজনীতি জাতির জীবনের খুব বড় জিনিস সন্দেহ নাই, কিন্তু ভারতের কৃষ্টির মূল কথা রাজনীতি নয়, সে হচ্ছে ধর্ম্ম। বহিরঙ্গ কূট রাজনীতি ও হিংস্র রক্ততর্পণের কাপালিক পূজারীর চেয়ে ভারতের সন্তান তাই প্রেমের ও আপনাভোলা ত্যাগের মানুষকে বোঝে ভাল। এই যে অন্তরের ভারত, গভীরের কল্পলোকের ভারত, এ ভারতের বাণী ও মর্ম্মকথা লেখা আছে ঐ ধবল হিমগিরির চূড়ায় চূড়ায়, ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণের অগাধ অনন্ত দিকচুম্বী নীলাম্বুধি জলে। যার মনীষা আছে, ধ্যান আছে, দূরদৃষ্টি আছে সেই এই লেখা পড়তে পারে, সেই খুঁজে পায় তার মাঝে এই অপূর্ব্ব তপোভূমির জীবনের মূল সূত্র।
সে সূত্র হচ্ছে শাত্তম্, শিবম্, অদ্বৈতম্। পাশ্চাত্যের জীবন সূত্র হচ্ছে শিব নয়, শান্ত নয় কিন্তু কালী—শিবের বুকে নৃত্যময়ী শক্তি—সৃজনী কর্ম্মধারা। একজন চায় স্থিতিকে আর একজন ভালবাসে গতিকে। তাই ভারতে জন্মায় বিবেকানন্দ অরবিন্দ আর পশ্চিমে গজায় কার্ল মার্ক্স লেনিন, মুসোলিনী, হিটলার!
অনেক ঐতিহাসিক চিন্তাবীর একথা বুঝতে পারেন না, যে, বহু-
৮