বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্রকৃত ভারত কোথায়?

শতাব্দির রাজনীতিক পরাধীনতায়ও এ ভারত বেঁচে রইল কি করে? ব্যাবিলন, সিরিয়া, গ্রীস, রোম মুছে গেছে, ভারতের জীবনমন্ত্র কিন্তু আজও উজ্জ্বল অম্লান-জ্যোতি—যার যজ্ঞ-শিখায় এত বড় পরাধীনতার মাঝেও জন্মাতে পারে রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, দেশবন্ধু, অরবিন্দ ও মহাত্মা গান্ধীর মত দীপ্তশিরা পুরুষগণ। তার মধ্যে আবার বাংলার মত অক্ষর রত্নগর্ভা দেশ আর ভারতে কোথায় আছে? আমরা সেই দেশের সন্তান, আমাদের তাই বুঝতে হবে আত্মার ঐ গোপন বীর্য্য—যা’ ভারতকে অটুট জীবন দিয়েছে। সূক্ষ্ম যা’ তা’ চিরদিনই স্থুলের চেয়ে শক্তিশালী, ভারতের Soul-force ধরিত্রীর আবরণ স্বরূপ ঐ হরিত চির-বিদলিত তৃণের মতই অমর, ঐ চির-নির্ম্মল আকাশের মতই অটুট অচল; কোনও তৈমুর বা চেঙ্গিজ খাঁর রক্তমাখা অসি ভারতের এ অমল সত্যকে খণ্ডিত বা নষ্ট করতে পারে নাই। সৃষ্টির এই দুই দিক— স্থিতি ও গতি এবার মুখোমুখী হয়েছে, এ ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, প্রতীচ্য ধরেছে প্রাচ্যের হাত; কারণ শিবের বুকে কালী, স্থিতির ছন্দে বাঁধা গতি—এই হচ্ছে জীবনের পূর্ণ সত্য।

 ভারতের জন-সাধারণ ঐ তুষারশুভ্র ধ্যানমগ্ন হিমাচল শৃঙ্গেরই সত্যকার সন্তান, ঐ অনন্ত নীল নীরবতারই পুত্র; তোমার পদতলে চিরবিদলিত অথচ অমর ঐ মূক তৃণেরই তারা সগোত্র ও সহোদর। ঐ সরল নমনীয় কোমলতাই তাদের শক্তি, অটল সহিষ্ণুতাই তাদের অক্ষয় ধর্ম্ম, জগতের চিরবঞ্চিত অবহেলিতের মূক বেদনার ডাকই ভারতের আবেদন—তার অন্তর্নিহিত বাণী। এই লক্ষ লক্ষ কোটী কোটী বঞ্চিত মূক মানুষের মাঝে শুপ্ত আত্মবলকে যদি জাগাতে পার, তা’ হ’লে ধ্যানস্থ শিবের জটাবাহিনী গঙ্গার মত তা’ থেকে যে প্রাণধারা নিঃসৃত হবে, যে সৃজনী-শক্তি বের হবে তা’ জগতের অশেষ কল্যাণ তো করবেই, পরন্ত