ভারত কোন্ পথে?
ভারতকে দেবে দেবতার আসন। ভারতকে গতির মন্ত্র শিখতে হবে আপনার স্থিতির মন্ত্র না ভুলে, নইলে পাশ্চাত্যের মত উন্মার্গগামী ভোগৈকশরণ হয়ে সেও করবে দুঃখকেই পুঞ্জীভূত।
ভারতের তরুণ ছেলে মেয়েরা, তোমরা ঐ অবহেলিত ভারতের মূক জনগণের আবদ্ধ জলরাশিতে গিয়ে স্নান কর, ঐ শীতল প্রাণ গঙ্গায় প্রাণ ভরে ডুব দেও। দেখবে সেই অতল তলে কত শক্তিরাজি নিহিত রয়েছে। সেই অতলের স্তব্ধ মহাপ্রাণে নাই বাসনার জ্বর, কামনার প্রদাহ, সেখানে নাই হানাহানির আসুরিক গতি, স্বার্থের পাগল তাড়না, মৃত্যুর হিষ্টিরিয়া। জীবনের সেই মহাসাগরের আদি-গঙ্গায় স্নান করে তোমরা পাবে নূতন ঊষায় নবজন্ম। সেই পাবন বারিস্পর্শে তোমার লুপ্ত দৃষ্টি ফিরে পাবে, তোমার মাঝে জাগবে শুদ্ধ শক্তির ধবল শিখা, তোমার এতদিনের মৃত আত্মবিশ্বাস ও সৃষ্টির স্বপ্ন তোমার বুকে আবার হবে নূতন করে সঞ্জীবিত। তখন হারানো ভারতকে তুমি আবার ফিরে পাবে, তখন ফিরে পাবে সেই বিস্তৃত বাণী যা’ দিয়ে ভারতের সত্যকার মন্ত্র হতে পারে মূর্ত্ত ও উচ্চারিত। জীবনের সত্যকার বেদের পাতা মানুষের কাছে চির-উন্মুক্ত, সে শামগান চির দিনই অনাহত রবে দিদ্গিগন্তে উত্থিত হচ্ছেই। আমাদের অন্তরের ধ্যান-গভীরতায় ও নিষ্কামতায় আছে তার মূল সত্য—জীবনের রূপে রসে গন্ধে স্বাদে রূপায়িত হয়ে অহরহ স্বতঃই ওঠছে তার মহাকাব্য। প্রাচ্যের নীরবতা ত্যাগ ও প্রতীচ্যের খর উদ্দাম প্রাণগতিকে একই সঙ্গে গেঁথে নিতে পারলেই জীবনের সোণার কাঠি রূপার কাঠি খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতীচ্য হচ্ছে জীবনের শিব, প্রাচ্য তার নৃত্যপরা শক্তি; একজনকে নিয়ে আর একজন পূর্ণ, প্রতীচ্যকে বাদ দিয়ে তাই প্রাচ্য অঙ্গহীন, ছন্দহারা, ব্যর্থ।
১০