বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারত কোন্‌ পথে? – বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (১৯৩৬).pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দেশ কতখানি জেগেছে?

দেশ কতখানি জেগেছে?

 সবে সে দিন কংগ্রেসের ঊনপঞ্চাশ বৎসর পূর্ণ হবার রজত জুবিলি হয়ে চুকেছে। ১৯০৬ সাল থেকেই কিন্তু আমাদের প্রকৃত জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের সূচনা। ১৯০৬ সাল থেকে আজ অবধি এই ত্রিশ বছর ধরে আমরা কিসের জন্য সংগ্রাম করেছি? স্বরাজ? ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসন, পূর্ণস্বাধীনতা, দেশবাসীর জন্য দেশবাসীর দ্বারাই তাদের রচিত শাসন চক্র, গণতন্ত্র? এমনই একটা কিছু অস্পষ্ট ঘোলাটে রাজনীতিক বা অর্থনীতিক মুক্তি—যার প্রকৃত সুস্পষ্ট অর্থ আমরা কেহই বুঝি না। তাই-ই হচ্ছে অসহযোগী, বিপ্লবী, সন্ত্রাশবাদী, উদারপন্থী, ন্যাশনালিষ্ট ও কম্যুনিষ্ট সকলেরই লক্ষ্য। শুধু ভারতেই নয় পাশ্চাত্যের তথাকথিত সুসভ্য স্বাধীন দেশেও মানুষ জানে না ঠিক কোথা হতে তাদের বন্ধন, কার রচা বন্ধনের বেদনা তাদের জীবনে এমন করে দিন দিন পুঞ্জীভূত হয়ে উঠছে। মনুষ্য সমাজ তার জীবন নিয়ে তাই দেশ বিদেশে কত পরীক্ষাই না করছে। রাজতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, পার্লামেণ্টারী ডিমোক্রাশী, সাম্যবাদ, গণতন্ত্র, ফ্যাসিজম্—প্রত্যেকটি নূতন চিন্তাধারা মানেই নূতন আদর্শ, নবতর পরীক্ষা। সব পথেই কিছু না কিছু কল্যাণ প্রসব করেছে কিন্তু এখনও মানুষের পূর্ণ কল্যাণের সুস্পষ্ট পথ আবিস্কৃত হয় নাই, এখনও অসন্তোষ নিভে নাই, স্বাধীন বা পরাধীন কোন জাতিরই প্রাণ তৃপ্ত হয় নাই। কি স্বাধীন আর কি পরাধীন সকল জাতিই আমরা এখনও লক্ষ্য সম্বন্ধে সমান অন্ধকারে।

 ভারতে—যেখানে সুষ্ঠু রাজনীতিক জ্ঞান এখনও গজায় নি, বস্তুতন্ত্র বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা যেখানে এখনও খুবই অপরিণত, সেখানে আমাদের জাতীয় লক্ষ্য যে আরও অস্পষ্ট হবে তা’ আর আশ্চর্য্য কি? লক্ষ্য সম্বন্ধে

১১