ভারত কোন্ পথে?
এই আবিলতা অস্পষ্টতা এই এলোমেলো চিন্তাধারাই আমাদের পুণঃ পুণঃ ব্যর্থতার কারণ। তাই আমরা এলোমেলো ভাবে কখনও স্বদেশী করি, কখনও জয় মহাত্মাজী রবে দলে দলে জেলে যাই, কখনও বোমা ফেলি আর কখনও বা মদ খাওয়া ছেড়ে চরকা কাটি। লক্ষ্যই যখন স্থির নয়, তখন সে লক্ষ্য উদযাপনের উপায় যে হাস্যকর হবে তা’তে বিচিত্রতা কি?
আমরা কি চাই একথা পরিষ্কার ভাবে না জানলেও আমাদের সকল দলের ভাববাদী অসহিষ্ণু নেতারাই একটা বিষয়ে কিন্তু একেবারেই একমত, সেটা হচ্ছে দেশের শাসনতন্ত্র থেকে ইংরাজ সংস্পর্শের আমূল উচ্ছেদ। ভারতের ভাগ্যে ভাল মন্দ যাই ঘটুক না কেন, ব্রিটিশ রাজ-শক্তির আশু অবসান হোক, তাঁরা তাঁদের ঘটি বাটী নিয়ে বোম্বাই মাদ্রাজ কলিকাতার বন্দর থেকে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যান—এইটাই প্রায় সকল দলেরই মনের কথা। ইংরাজের এই ভাগ্যবিপর্য্যয়ে এবং ভারতের রাজনীতিক ব্যবস্থার এই হঠাৎ ওলটপালটে কতখানি মঙ্গল বা অমঙ্গল প্রসব করবে তা’ ভেবে দেখবার ধৈর্য্য খুব বেশী নেতার নাই। ভাব খুব ভাল জিনিয, কিন্তু ভাবের কুয়াসা মানুষের দৃষ্টিবিভ্রম ঘটায়।রাজনীতি কঠিন ঠাঁই, ওটা হচ্ছে একেবারে নিরেট বস্তুতন্ত্র ব্যাপার; এখানে ফাঁকা ভাববিলাসের স্থান যে কতটুকু তা’ বোঝবার দিন আমাদের মত নাবালক জাতির এসেছে বলেই আমার বিশ্বাস, তাই এত কথার অবতারণা করছি।
আমরা যখন এক কাঠা জমির জন্য আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে মাথা ফাটাফাটি করি, তখন ইংরাজ যে ফাঁকা কথার ছলনায় ভুলে বা ভয়ের বশে এই সুনিয়ন্ত্রিত রাজ্য—তাদের কায়েমী জমিদারী ছেড়ে যাবে না, একথা যে না বোঝে তার রাজনীতি চর্চ্চা বৃথা। ইংরাজ সেই
১২